নবীন ও প্রবীণের সমন্বয়ে রঙিন বসন্ত উৎসব সুন্দরবনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “বাঁচবো” – র উদ্যোগে
এক টুকরো শান্তিনিকেতন যেন উঠে এলো সুন্দরবনের পাথরপ্রতিমায়। রাজ্যের অন্যতম প্রতিষ্ঠিত ও পরিচিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “বাঁচবো” – র উদ্যোগে গত শনিবার ২২শে ফাল্গুন, ৭ই মার্চ পাথরপ্রতিমার পঞ্চমের বাজারে আয়োজিত বসন্ত উৎসবে ঠিক যেন শান্তিনিকেতনের ছোঁয়া। “ওরে গৃহ বাসী, খোল দ্বার খোল লাগলো যে দোল…” এই ডাক দিয়ে বাসন্তিক রঙে সজ্জিত হয়ে এক দঙ্গল নবীন ও প্রবীণদের সুসজ্জিত প্রভাত ফেরি দিয়ে যার সূচনা। অংশ গ্রহণে বাঁচবো বিকশিত স্কুলের একদল কচিকাঁচা, উৎসাহী এলাকাবাসী আর কলকাতা থেকে আগত একদল প্রবীণ মানুষ, তাঁদের কেউ বা শহরের বিশিষ্ট চিকিৎসক, কেউ বা অবসর প্রাপ্ত অধ্যাপক, শিক্ষক বা আমলা। আর এই প্রয়াসকে উৎসাহ দিতে কলকাতা থেকে ছুটে এসেছেন বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শ্রীমতি শকুন্তলা বড়ুয়াও।
বসন্তের বিভিন্ন গানে একত্রে গলা মিলিয়ে আর নানান রঙের আবির খেলায় সকলের অংশ গ্রহণে এই বর্ণময় শোভাযাত্রা ছিল সত্যিই চোখে পড়ার মতন। প্রভাত ফেরি শেষে প্রথম পর্বে ছিল প্রবীণদের গান, কবিতা আর আলাপচারিতার এক অনন্য উপস্থাপন। বয়স যে কোনো বাধা নয়, বারবার সে কথাই প্রমাণ করলেন ওনারা, যেন সেই বার্তাই ছড়িয়ে দিলেন “রাঙিয়ে দিয়ে যাও যাও যাও গো এবার যাবার বেলায়…”।



দ্বিতীয় পর্বে সন্ধ্যায় ছিল বিকশিত স্কুলের শিশুদের রঙিন, প্রাণোচ্ছল এক নৃত্যানুষ্ঠান। যাতে অংশ নেওয়া বেশিরভাগেরই বয়স দুই থেকে পাঁচ বছর, ঠিক যেন ফুলে ফুলে ঢোলে ঢোলে…। প্রত্যন্ত সুন্দরবনে মানুষের মধ্যে এই সাংস্কৃতিক চেতনা বোধের উন্মেষ বাঁচবো র দীর্ঘদিনের প্রয়াসের ফল। এরই সাথে অনুষ্ঠানের শেষ উপস্থাপন হিসেবে সুন্দরবনের গোসাবা থেকে আসা যাত্রা দলের পরিবেশনা – “বনবিবির পালা” – উপস্থিত দর্শকদের কাছে, বিশেষত কলকাতা থেকে আগত সকলের কাছে যা বিশেষ ভাবে সমাদৃত হয়েছে। সুন্দরবনের মানুষের জীবন চরিতের সাথে ভীষণভাবে সম্পৃত্ত বনবিবি এবং স্থানীয় লোক সংস্কৃতিকে তুলে ধরার বাঁচবো র এই প্রয়াসও সত্যিকারের প্রশংসা যোগ্য এক উদ্যোগ।
সবকিছু মিলিয়ে সুন্দরবনের মাটিতে এই বসন্ত উৎসব আয়োজন এক কথায় অনবদ্য ও দৃষ্টান্তমূলক।



















