তাড়াহুড়োর শর্টকাট, যমলোকে কনফার্মড বার্থ!
Kolkata, April 09, 2026:
স্বর্গের কন্ট্রোল রুমে যমরাজ আর চিত্রগুপ্ত তখন বৈঠকি আড্ডায় মশগুল। সামনে রাখা বড় স্ক্রিনে মর্ত্যের ‘লাইভ টেলিকাস্ট’ চলছে। হঠাৎ চিত্রগুপ্তের চোখ আটকে গেল একটা দৃশ্যে— পটলবাবু নামের এক মহোদয় স্টেশনে উসাইন বোল্টের স্টাইলে দৌড়াচ্ছেন।
সকাল থেকে আয়েশ করে ল্যাদ খেয়ে, তিনবার চা খেয়ে আর চারবার খবরের কাগজ উল্টে পটলবাবুর যখন হুঁশ ফিরল, তখন ঘড়ির কাঁটা আর ট্রেনের চাকা— দুই-ই তাঁর নাগালের বাইরে। স্টেশনে ঢুকেই কানে এল সেই অশুভ ঘোষণা। সামনে যমদূতের মতো দাঁড়িয়ে আছে খাড়াই ওভারব্রিজ। পটলবাবুর মনে হলো, এতগুলো সিঁড়ি ভাঙা আর এভারেস্ট জয় করা একই ব্যাপার। তার চেয়ে রেললাইন দিয়ে একটা ‘শর্টকাট’ মারলে মন্দ হয় না।
ব্যস! যেই ভাবা সেই কাজ। পটলবাবু লাইন টপকাতে গিয়ে দেখলেন তাঁর দামী জুতোর হিলটা লাইনের ফাঁকে এমনভাবে সেঁটে গেছে, যেন কয়েক জনমের পুরনো প্রেম! ওদিকে ট্রেনের হেডলাইট দেখা যাচ্ছে আর হর্নের শব্দে কান ঝালাপালা। পটলবাবু এখন লাইনে বসে জুতোর সাথে কুস্তি লড়ছেন।
স্বর্গে যমরাজ তখন হোহো করে হেসে উঠলেন। চিত্রগুপ্ত খাতা খুলে পটলবাবুর হুকুমনামা মেলাতে ব্যস্ত। পটলবাবুর চিৎকারে আর ট্রেনের গর্জনে যখন স্টেশনের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে, ঠিক তখনই যমরাজের মনে হলো— লোকটার আয়ু তো এখনো ঢের বাকি! মাঝখান থেকে বিনা নোটিশে আমাদের দপ্তরে এসে হাজির হলে তো মুশকিল।
চিত্রগুপ্তকে একটা ইশারা করতেই একটা অলৌকিক কাণ্ড ঘটল। ট্রেনের চাকা যখন পটলবাবুর নাকের ডগা ছুঁই-ছুঁই, ঠিক তখনই জুতোর মায়া ছেড়ে পটলবাবুর পা-টা সড়াৎ করে বেরিয়ে এল। তিনি এক ঝটকায় প্ল্যাটফর্মে আছাড় খেলেন আর ট্রেনটা তাঁর পিঠের ওপর দিয়ে একটা গরম বাতাস ঝাপটিয়ে বেরিয়ে গেল।
পটলবাবু বুঝলেন, যমরাজ আজ লিভ-এ ছিলেন বলেই তিনি বেঁচে গেলেন। সেদিন অফিস যাওয়া হলো না ঠিকই, কিন্তু ওভারব্রিজের সিঁড়িগুলো যে আসলে ‘স্বর্গের সিঁড়ি’ নয়, বরং ‘প্রাণ বাঁচানোর সিঁড়ি’— সেটা তিনি হাড়হাড়ে টের পেলেন।
৫ মিনিট আগে বাড়ি থেকে বেরোতে অলসতা করবেন না। মনে রাখবেন, রেললাইন কোনো শর্টকাট নয়, ওটা শ্মশানের ডাইরেক্ট করিডোর! যমরাজ আজ দয়া করেছেন বলে বেঁচে গেলেন, রোজ রোজ কিন্তু তিনি আপনার জুতোর হিল ছাড়াতে আসবেন না।
✅ সব সময় ওভারব্রিজ ব্যবহার করুন।
✅ তাড়াহুড়ো করলে সোজা শ্মশান, নিয়ম মানলে অফিস/পরিজনের মুখদর্শন — পছন্দ আপনার!












