Monday, September 28, 2026
WA
Home Bangla অনুশাসন আবার চালু করতেই শুরু বিজেপি’কে ফ্যাসিস্ট বলা

অনুশাসন আবার চালু করতেই শুরু বিজেপি’কে ফ্যাসিস্ট বলা

0
24
Government Order on Discipline
Government Order on Discipline

অনুশাসন আবার চালু করতেই শুরু বিজেপি’কে ফ্যাসিস্ট বলা

অমিত গোস্বামী

প্রচার শুরু হল বিজেপি’কে ফ্যাসিস্ট বলা। বিজেপি’কে বলা শুরু হল বাক-স্বাধীনতা হরণকারী দল। এর মূল কারন একটি সারকুলার এবং সারকুলারটি নতুন নয়। ১৯৭১ সালে প্রণীত ও তখনই প্রয়োগ করা হয়েছিল। এরপরে ১৯৮০ সালে পুনর্বার একই সার্কুলার প্রয়োগ করা হয় তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার দ্বারা। কী আছে এই সারকুলারে?

এবারে আসি এই সার্কুলারের প্রতিটি পয়েন্টে।

১) প্রথম পয়েন্টের সার কথা – সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া, পরিষেবার কোনো সদস্য কোনো স্পন্সরকৃত বা ব্যক্তিগতভাবে প্রযোজিত মিডিয়া প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ বা যুক্ত থাকতে পারবেন না। না। এছাড়া ভারত সরকারের স্পন্সর করা হলেও যদি কোনো বাইরের সংস্থা সেই মিডিয়া প্রোগ্রাম তৈরি করে, তাতেও অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ।

এর অর্থ পদাধিকার বলে আমি মিডিয়াতে ডাক পেয়ে আমার মতামত স্বাধীনভাবে জানাতে পারব না। এই তো? কিন্তু আমি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে এই মুচলেকায় সই করেছি যে বিনা অনুমতিতে আমি কোন সরকারি নীতির সমালোচনা করব না কারণ আমি সরকারের সিস্টেমের একটি অঙ্গ। সেটা করলে তাকে অনুশাসনভঙ্গ বলা হবে ও শাস্তিযোগ্য।

২) দ্বিতীয় পয়েন্টের সার কথা – সরকারের কোনো নির্দেশ ছাড়া, পরিষেবার সদস্যরা প্রেসের সঙ্গে কোনো নথি বা তথ্য সরাসরি বা পরোক্ষভাবে আদানপ্রদান করতে পারবেন না।

পরিস্কার কথা এই যে কোন সরকারি নথি আপনি সোশাল মিডিয়াতে দিতে পারবেন না বা অন্য কোন মানুষকে দিতে পারবেন না যাতে তার লাভ হয়। আপনার নিজ পরিবারে কি আপনি তা করেন? পরিবারের গোপনীয়তার হাঁড়ি কি হাটে ভাঙেন?

৩) তৃতীয় পয়েন্টের সার কথা – সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া, পরিষেবার কোনো সদস্য কোনো সংবাদপত্র, সাময়িকী বা অন্য কোনো প্রকাশনার সম্পাদনা বা পরিচালনায় যুক্ত থাকতে পারবেন না। এছাড়া রেডিও সম্প্রচারে অংশগ্রহণ করা বা কোনো সংবাদপত্র/সাময়িকীতে প্রবন্ধ বা চিঠি লেখা নিষিদ্ধ।

এখানে অন্যায়টা কোথায়? সরকারের পূর্বানুমতি সহজেই পাওয়া যায় যদি আপনি নন-প্রফিটেবল সংস্থার সাথে যুক্ত হন। কিন্তু আপনি বানিজ্যিক পত্রিকায় লিখলেন বা বানিজ্যিক প্রকাশনার সাথে যুক্ত হয়ে আলাদা পয়সা কামালেন তাহলে সেখানে Conflict of Interest ঘটে যা কোন আইনে শাস্তিযোগ্য।

৪) চতুর্থ পয়েন্টের সার কথা – পরিষেবার সদস্যরা কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের কোনো নীতি বা সিদ্ধান্তের বিরূপ সমালোচনা করতে পারবেন না। কোনো প্রকাশনা, বক্তব্য, আলোচনা, সম্প্রচার বা মিডিয়ায় অবদান রাখার মাধ্যমেও এমন সমালোচনা করা নিষিদ্ধ।

আপনি যে পরিবারভুক্ত অর্থাৎ সরকার, সেখানে আপনার জন্যে উন্মুক্ত আছে গ্রিভান্স সেল ও ট্রাইব্যুনাল। তাও আপনার অপছন্দ হলে আদালত। এবারে আপনার কোন নীতি বা সিদ্ধান্ত পছন্দ হল না, প্রথমেই দেখুন তার সমালোচনা করার আইনি এক্তিয়ার আপনার আছে কিনা! না থাকলে ভোটে সরকার উলটে দেওয়ার ক্ষমতা আছে। এর বাইরে আপনাদের কর্মচারী সংগঠনের মাধ্যমে আপনার অভিযোগ জানানোর এক্তিয়ার আছে। তাহলে বাইরে করার অধিকার আপনার আছে কি?

৫) পঞ্চম পয়েন্টের সার কথা – কোনো প্রকাশনা, আলোচনা, বক্তব্য, সম্প্রচার বা মিডিয়ায় অবদানের মাধ্যমে এমন কিছু করা যাবে না, যা রাজ্য সরকার ও কেন্দ্র সরকারের সম্পর্ক, বিভিন্ন রাজ্য সরকারের পারস্পরিক সম্পর্ক, অথবা ভারত সরকার ও বিদেশি সরকারের সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে।

এই নিষেধাজ্ঞা অবশ্যই উচিৎ। এখন সোশাল মিডিয়াতে এমন হইচই হল গো-কুর্বানি ও মাইক স্বর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে নবগঠিত রাজ্য সরকার তা নিয়ে বিবৃতি দিতে বাধ্য হল। রাজ্য-কেন্দ্র সরকারের পারস্পরিক সম্পর্ক ও একই ভাবে ভারত ও অন্যান্য দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক স্তিত থাক এটা কাম্য। কিন্তু যখন সরকারি কর্মী এমন কিছু বলেন যার প্রভাব সেই সম্পর্কের ওপরে পড়ে, তা অবশ্যই আপনার চাকরির প্রথম শর্তের পরিপন্থী।

সরকারি কর্মীদের মধ্যে কর্মসংস্কৃতির কী হাল হয়েছিল আপনারা জানেন এবং এরাই কিন্তু কাজের জগতে সবচেয়ে প্রিভিলেজড ক্লাস। একবার প্রবেশাধিকারের সুযোগ পেলে চাকরি নিশ্চিত। গত ১৫ বছরে এদের মধ্যে যে রাজনীতিকরণ হয়েছিল, ঘুষের রাজত্ব চলেছিল এবং এদের মধ্যে অনেকেই শাসকের অঙ্গুলিহেলনে যে দুর্ণীতিরাজের জন্ম দিয়েছিল, তার ফল শাসকের বিদায়। আপনি কবিতা, গল্প বা সাহিত্য করার ক্ষেত্রে এগুলি কোন বাধা নয়। শুধু জানিয়ে রাখলেই হল। অন্তত ১০ জন কবি-সাহিত্যিকদের নাম বলতে পারি যারা এই অনুমতি নিয়ে সাহিত্যচর্চা করেছেন। এখানে আপত্তি এই যে সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধ করার জন্যে সরকারি কর্মীদের চারটি প্ল্যাটফর্ম দেওয়া আছে এবং চাকরির শর্ত অনুযায়ী আপনি সেখানে আপনার বক্তব্য রাখবেন। সরাসরি মিডিয়াতে নয়। যেমন সরকারি কর্মী হয়ে আপনি কেন ভোটে দাঁড়াতে পারেন না? কেন আগে চাকরি ছাড়তে হয়? বেসরকারি সংস্থায় তো এই নিয়ম দীর্ঘদিন চালু যা লেবার ল’য়ের মধ্যে পড়ে। এই নিয়ম বিজেপি কৃত নয়। ১৯৭১ এর মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় করেছিলেন। পুনর্বার মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু ১৯৮০ সালে চালু করেন। সিদ্ধার্থবাবুকে ফ্যাসিস্ট বললেও জ্যোতিবাবুও কি ফ্যাসিস্ট ছিলেন? যদি সবাইকেই ফ্যাসিস্ট বলেন তাহলে সরকারি চাকরি ছেড়ে ঘরে বসে সোশাল মিডিয়াতে সরকারকে গালি দিন। ওটাই আপনার বাক-স্বাধীনতা।

অনেকেই সার্ভিস রুল দেখিয়েছেন, কিন্তু যেটা দেখান নি তা হল সরকারি কাজে যোগদানের সময়ের শর্তাবলী। তাহলে পুরোটাই পরিস্কার হয়ে যাবে। তবে আমার প্রত্যাশা এই অহেতুক বিরুদ্ধাচরণ বিভ্রান্তিকর বলে এর ব্যাখ্যা অবশ্যই সরকার দেবেন যা আমার মতামতের কাছাকাছি হবে।

অনুশাসন আবার চালু করতেই শুরু বিজেপি’কে ফ্যাসিস্ট বলাঅমিত গোস্বামী প্রচার শুরু হল বিজেপি’কে ফ্যাসিস্ট বলা। বিজেপি’কে বলা শুরু হল বাক-স্বাধীনতা হরণকারী দল। এর মূল কারন একটি সারকুলার এবং সারকুলারটি নতুন নয়। ১৯৭১ সালে প্রণীত ও তখনই প্রয়োগ করা হয়েছিল। এরপরে ১৯৮০ সালে পুনর্বার একই সার্কুলার প্রয়োগ করা হয় তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার দ্বারা। কী আছে এই সারকুলারে? এবারে আসি এই সার্কুলারের প্রতিটি পয়েন্টে। ১)  প্রথম পয়েন্টের সার কথা - সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া, পরিষেবার কোনো সদস্য কোনো স্পন্সরকৃত বা ব্যক্তিগতভাবে প্রযোজিত মিডিয়া প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ বা যুক্ত থাকতে পারবেন না। না। এছাড়া ভারত সরকারের স্পন্সর করা হলেও যদি কোনো বাইরের সংস্থা সেই মিডিয়া প্রোগ্রাম তৈরি করে, তাতেও অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ।এর অর্থ পদাধিকার বলে আমি মিডিয়াতে ডাক পেয়ে আমার মতামত স্বাধীনভাবে জানাতে পারব না। এই তো? কিন্তু আমি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে এই মুচলেকায় সই করেছি যে বিনা অনুমতিতে আমি কোন সরকারি নীতির সমালোচনা করব না কারণ আমি সরকারের সিস্টেমের একটি অঙ্গ। সেটা করলে তাকে অনুশাসনভঙ্গ বলা হবে ও শাস্তিযোগ্য। ২) দ্বিতীয় পয়েন্টের সার কথা - সরকারের কোনো নির্দেশ ছাড়া, পরিষেবার সদস্যরা প্রেসের সঙ্গে কোনো নথি বা তথ্য সরাসরি বা পরোক্ষভাবে আদানপ্রদান করতে পারবেন না। পরিস্কার কথা এই যে কোন সরকারি নথি আপনি সোশাল মিডিয়াতে দিতে পারবেন না বা অন্য কোন মানুষকে দিতে পারবেন না যাতে তার লাভ হয়। আপনার নিজ পরিবারে কি আপনি তা করেন? পরিবারের গোপনীয়তার হাঁড়ি কি হাটে ভাঙেন? ৩) তৃতীয় পয়েন্টের সার কথা - সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া, পরিষেবার কোনো সদস্য কোনো সংবাদপত্র, সাময়িকী বা অন্য কোনো প্রকাশনার সম্পাদনা বা পরিচালনায় যুক্ত থাকতে পারবেন না। এছাড়া রেডিও সম্প্রচারে অংশগ্রহণ করা বা কোনো সংবাদপত্র/সাময়িকীতে প্রবন্ধ বা চিঠি লেখা নিষিদ্ধ।এখানে অন্যায়টা কোথায়? সরকারের পূর্বানুমতি সহজেই পাওয়া যায় যদি আপনি নন-প্রফিটেবল সংস্থার সাথে যুক্ত হন। কিন্তু আপনি বানিজ্যিক পত্রিকায় লিখলেন বা বানিজ্যিক প্রকাশনার সাথে যুক্ত হয়ে আলাদা পয়সা কামালেন তাহলে সেখানে Conflict of Interest ঘটে যা কোন আইনে শাস্তিযোগ্য। ৪) চতুর্থ পয়েন্টের সার কথা - পরিষেবার সদস্যরা কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের কোনো নীতি বা সিদ্ধান্তের বিরূপ সমালোচনা করতে পারবেন না। কোনো প্রকাশনা, বক্তব্য, আলোচনা, সম্প্রচার বা মিডিয়ায় অবদান রাখার মাধ্যমেও এমন সমালোচনা করা নিষিদ্ধ।আপনি যে পরিবারভুক্ত অর্থাৎ সরকার, সেখানে আপনার জন্যে উন্মুক্ত আছে গ্রিভান্স সেল ও ট্রাইব্যুনাল। তাও আপনার অপছন্দ হলে আদালত। এবারে আপনার কোন নীতি বা সিদ্ধান্ত পছন্দ হল না, প্রথমেই দেখুন তার সমালোচনা করার আইনি এক্তিয়ার আপনার আছে কিনা! না থাকলে ভোটে সরকার উলটে দেওয়ার ক্ষমতা আছে। এর বাইরে আপনাদের কর্মচারী সংগঠনের মাধ্যমে আপনার অভিযোগ জানানোর এক্তিয়ার আছে। তাহলে বাইরে করার অধিকার আপনার আছে কি? ৫) পঞ্চম পয়েন্টের সার কথা - কোনো প্রকাশনা, আলোচনা, বক্তব্য, সম্প্রচার বা মিডিয়ায় অবদানের মাধ্যমে এমন কিছু করা যাবে না, যা রাজ্য সরকার ও কেন্দ্র সরকারের সম্পর্ক, বিভিন্ন রাজ্য সরকারের পারস্পরিক সম্পর্ক, অথবা ভারত সরকার ও বিদেশি সরকারের সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে।এই নিষেধাজ্ঞা অবশ্যই উচিৎ। এখন সোশাল মিডিয়াতে এমন হইচই হল গো-কুর্বানি ও মাইক স্বর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে নবগঠিত রাজ্য সরকার তা নিয়ে বিবৃতি দিতে বাধ্য হল। রাজ্য-কেন্দ্র সরকারের পারস্পরিক সম্পর্ক ও একই ভাবে ভারত ও অন্যান্য দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক স্তিত থাক এটা কাম্য। কিন্তু যখন সরকারি কর্মী এমন কিছু বলেন যার প্রভাব সেই সম্পর্কের ওপরে পড়ে, তা অবশ্যই আপনার চাকরির প্রথম শর্তের পরিপন্থী।    সরকারি কর্মীদের মধ্যে কর্মসংস্কৃতির কী হাল হয়েছিল আপনারা জানেন এবং এরাই কিন্তু কাজের জগতে সবচেয়ে প্রিভিলেজড ক্লাস। একবার প্রবেশাধিকারের সুযোগ পেলে চাকরি নিশ্চিত। গত ১৫ বছরে এদের মধ্যে যে রাজনীতিকরণ হয়েছিল, ঘুষের রাজত্ব চলেছিল এবং এদের মধ্যে অনেকেই শাসকের অঙ্গুলিহেলনে যে দুর্ণীতিরাজের জন্ম দিয়েছিল, তার ফল শাসকের বিদায়। আপনি কবিতা, গল্প বা সাহিত্য করার ক্ষেত্রে এগুলি কোন বাধা নয়। শুধু জানিয়ে রাখলেই হল। অন্তত ১০ জন কবি-সাহিত্যিকদের নাম বলতে পারি যারা এই অনুমতি নিয়ে সাহিত্যচর্চা করেছেন। এখানে আপত্তি এই যে সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধ করার জন্যে সরকারি কর্মীদের চারটি প্ল্যাটফর্ম দেওয়া আছে এবং চাকরির শর্ত অনুযায়ী আপনি সেখানে আপনার বক্তব্য রাখবেন। সরাসরি মিডিয়াতে নয়। যেমন সরকারি কর্মী হয়ে আপনি কেন ভোটে দাঁড়াতে পারেন না? কেন আগে চাকরি ছাড়তে হয়? বেসরকারি সংস্থায় তো এই নিয়ম দীর্ঘদিন চালু যা লেবার ল’য়ের মধ্যে পড়ে। এই নিয়ম বিজেপি কৃত নয়। ১৯৭১ এর মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় করেছিলেন। পুনর্বার মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু ১৯৮০ সালে চালু করেন। সিদ্ধার্থবাবুকে ফ্যাসিস্ট বললেও জ্যোতিবাবুও কি ফ্যাসিস্ট ছিলেন? যদি সবাইকেই ফ্যাসিস্ট বলেন তাহলে সরকারি চাকরি ছেড়ে ঘরে বসে সোশাল মিডিয়াতে সরকারকে গালি দিন। ওটাই আপনার বাক-স্বাধীনতা।অনেকেই সার্ভিস রুল দেখিয়েছেন, কিন্তু যেটা দেখান নি তা হল সরকারি কাজে যোগদানের সময়ের শর্তাবলী। তাহলে পুরোটাই পরিস্কার হয়ে যাবে। তবে আমার প্রত্যাশা এই অহেতুক বিরুদ্ধাচরণ বিভ্রান্তিকর বলে এর ব্যাখ্যা অবশ্যই সরকার দেবেন যা আমার মতামতের কাছাকাছি হবে।
অনুশাসন আবার চালু করতেই শুরু বিজেপি’কে ফ্যাসিস্ট বলা
অমিত গোস্বামী
প্রচার শুরু হল বিজেপি’কে ফ্যাসিস্ট বলা। বিজেপি’কে বলা শুরু হল বাক-স্বাধীনতা হরণকারী দল। এর মূল কারন একটি সারকুলার এবং সারকুলারটি নতুন নয়। ১৯৭১ সালে প্রণীত ও তখনই প্রয়োগ করা হয়েছিল। এরপরে ১৯৮০ সালে পুনর্বার একই সার্কুলার প্রয়োগ করা হয় তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার দ্বারা। কী আছে এই সারকুলারে?
এবারে আসি এই সার্কুলারের প্রতিটি পয়েন্টে।
১) প্রথম পয়েন্টের সার কথা – সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া, পরিষেবার কোনো সদস্য কোনো স্পন্সরকৃত বা ব্যক্তিগতভাবে প্রযোজিত মিডিয়া প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ বা যুক্ত থাকতে পারবেন না। না। এছাড়া ভারত সরকারের স্পন্সর করা হলেও যদি কোনো বাইরের সংস্থা সেই মিডিয়া প্রোগ্রাম তৈরি করে, তাতেও অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ।
এর অর্থ পদাধিকার বলে আমি মিডিয়াতে ডাক পেয়ে আমার মতামত স্বাধীনভাবে জানাতে পারব না। এই তো? কিন্তু আমি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে এই মুচলেকায় সই করেছি যে বিনা অনুমতিতে আমি কোন সরকারি নীতির সমালোচনা করব না কারণ আমি সরকারের সিস্টেমের একটি অঙ্গ। সেটা করলে তাকে অনুশাসনভঙ্গ বলা হবে ও শাস্তিযোগ্য।
২) দ্বিতীয় পয়েন্টের সার কথা – সরকারের কোনো নির্দেশ ছাড়া, পরিষেবার সদস্যরা প্রেসের সঙ্গে কোনো নথি বা তথ্য সরাসরি বা পরোক্ষভাবে আদানপ্রদান করতে পারবেন না।
পরিস্কার কথা এই যে কোন সরকারি নথি আপনি সোশাল মিডিয়াতে দিতে পারবেন না বা অন্য কোন মানুষকে দিতে পারবেন না যাতে তার লাভ হয়। আপনার নিজ পরিবারে কি আপনি তা করেন? পরিবারের গোপনীয়তার হাঁড়ি কি হাটে ভাঙেন?
৩) তৃতীয় পয়েন্টের সার কথা – সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া, পরিষেবার কোনো সদস্য কোনো সংবাদপত্র, সাময়িকী বা অন্য কোনো প্রকাশনার সম্পাদনা বা পরিচালনায় যুক্ত থাকতে পারবেন না। এছাড়া রেডিও সম্প্রচারে অংশগ্রহণ করা বা কোনো সংবাদপত্র/সাময়িকীতে প্রবন্ধ বা চিঠি লেখা নিষিদ্ধ।
এখানে অন্যায়টা কোথায়? সরকারের পূর্বানুমতি সহজেই পাওয়া যায় যদি আপনি নন-প্রফিটেবল সংস্থার সাথে যুক্ত হন। কিন্তু আপনি বানিজ্যিক পত্রিকায় লিখলেন বা বানিজ্যিক প্রকাশনার সাথে যুক্ত হয়ে আলাদা পয়সা কামালেন তাহলে সেখানে Conflict of Interest ঘটে যা কোন আইনে শাস্তিযোগ্য।
৪) চতুর্থ পয়েন্টের সার কথা – পরিষেবার সদস্যরা কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের কোনো নীতি বা সিদ্ধান্তের বিরূপ সমালোচনা করতে পারবেন না। কোনো প্রকাশনা, বক্তব্য, আলোচনা, সম্প্রচার বা মিডিয়ায় অবদান রাখার মাধ্যমেও এমন সমালোচনা করা নিষিদ্ধ।
আপনি যে পরিবারভুক্ত অর্থাৎ সরকার, সেখানে আপনার জন্যে উন্মুক্ত আছে গ্রিভান্স সেল ও ট্রাইব্যুনাল। তাও আপনার অপছন্দ হলে আদালত। এবারে আপনার কোন নীতি বা সিদ্ধান্ত পছন্দ হল না, প্রথমেই দেখুন তার সমালোচনা করার আইনি এক্তিয়ার আপনার আছে কিনা! না থাকলে ভোটে সরকার উলটে দেওয়ার ক্ষমতা আছে। এর বাইরে আপনাদের কর্মচারী সংগঠনের মাধ্যমে আপনার অভিযোগ জানানোর এক্তিয়ার আছে। তাহলে বাইরে করার অধিকার আপনার আছে কি?
৫) পঞ্চম পয়েন্টের সার কথা – কোনো প্রকাশনা, আলোচনা, বক্তব্য, সম্প্রচার বা মিডিয়ায় অবদানের মাধ্যমে এমন কিছু করা যাবে না, যা রাজ্য সরকার ও কেন্দ্র সরকারের সম্পর্ক, বিভিন্ন রাজ্য সরকারের পারস্পরিক সম্পর্ক, অথবা ভারত সরকার ও বিদেশি সরকারের সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে।
এই নিষেধাজ্ঞা অবশ্যই উচিৎ। এখন সোশাল মিডিয়াতে এমন হইচই হল গো-কুর্বানি ও মাইক স্বর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে নবগঠিত রাজ্য সরকার তা নিয়ে বিবৃতি দিতে বাধ্য হল। রাজ্য-কেন্দ্র সরকারের পারস্পরিক সম্পর্ক ও একই ভাবে ভারত ও অন্যান্য দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক স্তিত থাক এটা কাম্য। কিন্তু যখন সরকারি কর্মী এমন কিছু বলেন যার প্রভাব সেই সম্পর্কের ওপরে পড়ে, তা অবশ্যই আপনার চাকরির প্রথম শর্তের পরিপন্থী।
সরকারি কর্মীদের মধ্যে কর্মসংস্কৃতির কী হাল হয়েছিল আপনারা জানেন এবং এরাই কিন্তু কাজের জগতে সবচেয়ে প্রিভিলেজড ক্লাস। একবার প্রবেশাধিকারের সুযোগ পেলে চাকরি নিশ্চিত। গত ১৫ বছরে এদের মধ্যে যে রাজনীতিকরণ হয়েছিল, ঘুষের রাজত্ব চলেছিল এবং এদের মধ্যে অনেকেই শাসকের অঙ্গুলিহেলনে যে দুর্ণীতিরাজের জন্ম দিয়েছিল, তার ফল শাসকের বিদায়। আপনি কবিতা, গল্প বা সাহিত্য করার ক্ষেত্রে এগুলি কোন বাধা নয়। শুধু জানিয়ে রাখলেই হল। অন্তত ১০ জন কবি-সাহিত্যিকদের নাম বলতে পারি যারা এই অনুমতি নিয়ে সাহিত্যচর্চা করেছেন। এখানে আপত্তি এই যে সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধ করার জন্যে সরকারি কর্মীদের চারটি প্ল্যাটফর্ম দেওয়া আছে এবং চাকরির শর্ত অনুযায়ী আপনি সেখানে আপনার বক্তব্য রাখবেন। সরাসরি মিডিয়াতে নয়। যেমন সরকারি কর্মী হয়ে আপনি কেন ভোটে দাঁড়াতে পারেন না? কেন আগে চাকরি ছাড়তে হয়? বেসরকারি সংস্থায় তো এই নিয়ম দীর্ঘদিন চালু যা লেবার ল’য়ের মধ্যে পড়ে। এই নিয়ম বিজেপি কৃত নয়। ১৯৭১ এর মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় করেছিলেন। পুনর্বার মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু ১৯৮০ সালে চালু করেন। সিদ্ধার্থবাবুকে ফ্যাসিস্ট বললেও জ্যোতিবাবুও কি ফ্যাসিস্ট ছিলেন? যদি সবাইকেই ফ্যাসিস্ট বলেন তাহলে সরকারি চাকরি ছেড়ে ঘরে বসে সোশাল মিডিয়াতে সরকারকে গালি দিন। ওটাই আপনার বাক-স্বাধীনতা।
অনেকেই সার্ভিস রুল দেখিয়েছেন, কিন্তু যেটা দেখান নি তা হল সরকারি কাজে যোগদানের সময়ের শর্তাবলী। তাহলে পুরোটাই পরিস্কার হয়ে যাবে। তবে আমার প্রত্যাশা এই অহেতুক বিরুদ্ধাচরণ বিভ্রান্তিকর বলে এর ব্যাখ্যা অবশ্যই সরকার দেবেন যা আমার মতামতের কাছাকাছি হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Adblocker detected! Please consider reading this notice.

We've detected that you are using AdBlock Plus or some other adblocking software which is preventing the page from fully loading.

We don't have any banner, Flash, animation, obnoxious sound, or popup ad. We do not implement these annoying types of ads!

We need money to operate the site, and almost all of it comes from our online advertising.

Please add https://www.ibgnews.com to your ad blocking whitelist or disable your adblocking software.

×
Verified by MonsterInsights