রোদঝলসা চায়ের দোকানে স্বপ্নের রাজকন্যা: পড়াশোনা, ছবি আঁকা আর সংগ্রামের নাম মৌমিতা
বিশেষ প্রতিবেদন: অনির্বাণ চক্রবর্তী | IBG NEWS
কলকাতা: টিনের ছাউনি, তিন দিক ভাঙাচোরা সামগ্রী দিয়ে ঘেরা ছোট্ট একটি চায়ের দোকান। বাইরে প্রখর রোদ, ভিতরে আগুনের মতো উত্তাপ। সেই কঠিন পরিবেশেই বসে বই খুলে পড়াশোনা করে পঞ্চম শ্রেণির এক কিশোরী—মৌমিতা দাস। তার স্বপ্ন বড়, কিন্তু বাস্তবতা অত্যন্ত কঠিন।
মৌমিতা পড়ে তেঘড়িয়া বিদ্যাপীঠে। বাবা মহাদেব দাস ও মা তাপসী দাস জীবিকার তাগিদে দিনভর চায়ের দোকান চালান। এই সামান্য আয়ের ওপরই নির্ভর করে পুরো পরিবারের জীবনযাত্রা। তবুও মেয়ের পড়াশোনা থেমে থাকেনি।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছে মৌমিতা অত্যন্ত প্রিয়। শান্ত, ভদ্র এবং মেধাবী এই ছাত্রী পড়াশোনার পাশাপাশি কাগজে-কলমে নিজের কল্পনার জগৎও ফুটিয়ে তোলে। ছবি আঁকার প্রতি তার স্বাভাবিক প্রতিভা থাকলেও আলাদা করে শিক্ষক রেখে শেখানোর সামর্থ্য নেই পরিবারের।
মেয়ের আঁকার খাতা হাতে নিয়ে বাবা মহাদেব দাসের কণ্ঠে গর্বের সুর স্পষ্ট। চোখে জল থাকলেও মুখে হাসি নিয়ে তিনি বলতে থাকেন তাঁর “রাজকন্যা”-র নানা গুণের কথা।
দৈনন্দিন সংগ্রামে মৌমিতার ভূমিকাও কম নয়। বাবা বাইরে কাজে গেলে কিংবা মা রান্নায় ব্যস্ত থাকলে সে নিজেই দোকান সামলায়। কোনটি ছোট গোল্ড ফ্লেক, কোনটি বড়—গ্রাহকের চাহিদা অনায়াসেই বুঝে দেয়। এমনকি ফ্লাস্ক থেকে গরম চা ঢেলেও পরিবেশন করে।
কচি হাতে কখনও গরম চা পড়ে গেলেও তার মুখের হাসি মুছে যায় না। প্রচণ্ড গরমে ছোট্ট দুই গাল বেয়ে ঘামের ফোঁটা ঝরে পড়ে দোকানের মেঝেতে, কিন্তু সেই হাসি অটুট থাকে। আর সেই দৃশ্যই যেন একজন বাবার অদম্য স্বপ্ন ও অসহায়তার প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে।
মহাদেব দাসের কথায়, তাঁর মেয়ে একদিন অনেক বড় মানুষ হবে—এই বিশ্বাসই তাঁকে প্রতিদিন নতুন করে লড়াই করার শক্তি দেয়। মেয়ের গাল বেয়ে নেমে আসা ঘামের প্রতিটি ফোঁটা যেন তাঁর চোখের জল হয়ে মাটিতে ঝরে পড়ে, কিন্তু সেই সঙ্গে জন্ম দেয় নতুন আশারও।
মৌমিতার গল্প কেবল একটি পরিবারের সংগ্রামের কাহিনি নয়; এটি প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষা, প্রতিভা ও স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে চলা হাজারো ভারতীয় শিশুর প্রতিচ্ছবি। সমাজ ও প্রশাসনের সামান্য সহায়তা পেলে এমন অসংখ্য “রাজকন্যা” হয়তো একদিন নিজেদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারবে।
“প্রতিভা ঈশ্বরের দান, কিন্তু তার বিকাশ সমাজের দায়িত্ব। যেখানে প্রতিভা আছে, সেখানে সহায়তার হাত বাড়ানোই একটি সভ্য সমাজের পরিচয়।”
If organizations want to contact and help as part of CSR please reach Mahadev. T Hous Tegharia [Mobile] +916290920663



















