রেকর্ড রাজস্বে নতুন মাইলফলক পূর্ব রেলের: আট বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ যাত্রী আয়, পার্সেল ও টিকিট চেকিংয়েও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি
কলকাতা, ১৫ জুন ২০২৬: যাত্রীদের আস্থা, কর্মীদের নিষ্ঠা এবং দক্ষ পরিচালনার সমন্বয়ে ২০২৬ সালের মে মাসে একাধিক বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে রেকর্ড রাজস্ব অর্জন করে নতুন সাফল্যের নজির গড়েছে পূর্ব রেল। যাত্রী পরিবহন, পার্সেল ও লাগেজ পরিষেবা এবং টিকিট চেকিং—তিন ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য আয় বৃদ্ধি পূর্ব রেলের বাণিজ্যিক সক্ষমতা ও পরিচালনগত উৎকর্ষের প্রতিফলন।
পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেউসকারের নেতৃত্বে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে, যা যাত্রী পরিষেবার মানোন্নয়ন এবং গ্রাহক-কেন্দ্রিক উদ্যোগের প্রতি সংস্থার অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করেছে।
আট বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ যাত্রী রাজস্ব
২০২৬ সালের মে মাসে যাত্রী পরিবহন থেকে পূর্ব রেলের আয় হয়েছে ৩৭৮.৯৭ কোটি টাকা, যা গত আট বছরের মধ্যে মে মাসে সর্বোচ্চ। ২০২৫ সালের মে মাসে এই আয় ছিল ৩২২.৩৪ কোটি টাকা। ফলে এক বছরে ১৭.৫৭ শতাংশেরও বেশি প্রবৃদ্ধি নথিভুক্ত হয়েছে।
রেল কর্তৃপক্ষের মতে, উন্নত পরিষেবা, যাত্রীবান্ধব উদ্যোগ, পরিচালন দক্ষতা এবং গ্রীষ্মকালীন অতিরিক্ত ভ্রমণ চাহিদা সফলভাবে সামাল দেওয়ার ফলেই এই সাফল্য এসেছে।
পার্সেল ও লাগেজ আয়েও শক্তিশালী বৃদ্ধি
পার্সেল ও লাগেজ পরিবহন বিভাগ থেকেও পূর্ব রেল উল্লেখযোগ্য রাজস্ব অর্জন করেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে এই খাত থেকে আয় হয়েছে ১২.৯১ কোটি টাকা, যেখানে ২০২৫ সালের একই সময়ে আয় ছিল ১১.৩৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এই ক্ষেত্রে ১৩.৫৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
রেল কর্তৃপক্ষের মতে, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের জন্য নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী এবং গ্রাহক-বান্ধব পরিবহন পরিষেবা এই বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
টিকিট চেকিং রাজস্বে ৫০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি
টিকিট চেকিং অভিযান জোরদার হওয়ার ফলে রাজস্বেও উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন দেখা গেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে টিকিট চেকিং থেকে আয় হয়েছে ১৩.০৫ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালের মে মাসে ছিল ৮.৬৮ কোটি টাকা। ফলে এই ক্ষেত্রে ৫০.৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি রেকর্ড হয়েছে।
রেলের মতে, নজরদারি বৃদ্ধি, বৈধ টিকিটে ভ্রমণকে উৎসাহিত করা এবং রাজস্ব সুরক্ষায় ধারাবাহিক অভিযানের ফলেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
পূর্ব রেলের প্রিন্সিপাল চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার ড. উদয় শঙ্কর ঝা বলেন,
“এই উৎসাহব্যঞ্জক ফলাফল পূর্ব রেলের গ্রাহক-কেন্দ্রিক উদ্যোগ, সুনির্দিষ্ট বাণিজ্যিক কৌশল এবং আমাদের ফ্রন্টলাইন কর্মীদের নিষ্ঠারই প্রতিফলন। যাত্রী, পার্সেল এবং টিকিট চেকিং থেকে ধারাবাহিক রাজস্ব বৃদ্ধি সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়িক মহলের আস্থার প্রতীক। আমরা পরিষেবার মান এবং পরিচালন দক্ষতা আরও উন্নত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
অন্যদিকে, পূর্ব রেলের চিফ পাবলিক রিলেশনস অফিসার শিবরাম মাঝি বলেন,
“২০২৬ সালের মে মাসে অর্জিত এই রেকর্ড-ভাঙা রাজস্ব পূর্ব রেলের উৎকর্ষ সাধনার নিরন্তর প্রচেষ্টা এবং যাত্রী ও অন্যান্য অংশীদারদের সর্বোচ্চ মানের পরিষেবা প্রদানের অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।”
রেল কর্তৃপক্ষের মতে, কৌশলগত পরিকল্পনা, সম্পদের দক্ষ ব্যবহার এবং বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বিত প্রচেষ্টাই এই উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মূল ভিত্তি। পূর্ব রেল আগামী দিনেও আধুনিক, দক্ষ ও যাত্রীবান্ধব পরিষেবার মাধ্যমে নতুন মাইলফলক স্পর্শের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে।













