কলকাতায় ঐতিহাসিক ‘চিঁড়া-দধি মহোৎসব’-এর সূচনা, শতাধিক ভক্তের সমাগমে মুখর দক্ষিণ কলকাতা
কলকাতা, ২৯ জুন: পাঁচ শতাব্দীরও বেশি প্রাচীন বৈষ্ণব ঐতিহ্যকে স্মরণ করে দক্ষিণ কলকাতায় রবিবার শুরু হলো ‘কলকাতা চিঁড়া-দধি মহোৎসব’। ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টারের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবটি ঐতিহাসিক পানিহাটি চিঁড়া-দধি মহোৎসবের ৫১০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আয়োজকদের মতে, শ্রীশ্রী নিত্যানন্দ প্রভুর নির্দেশে শ্রীল রঘুনাথ দাস গোস্বামী প্রবর্তিত এই মহোৎসব বৈষ্ণব ধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য, যা ভক্তি, সেবা ও সমতার অনন্য বার্তা বহন করে আসছে।
রবিবার সকালে দক্ষিণ কলকাতায় ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টারের সামনে আরতি ও নারকেল ভেঙে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আদর্শ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ুক এবং মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, প্রেম ও মানবতার বার্তা আরও সুদৃঢ় হোক।”
ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টারের ডিন আরাধ্য ভগবান দাস জানান, প্রায় ৫১০ বছর আগে পানিহাটিতে গঙ্গার তীরে শ্রীশ্রী নিত্যানন্দ প্রভুর নির্দেশে শ্রীল রঘুনাথ দাস গোস্বামী হাজার হাজার ভক্ত ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চিঁড়া ও দধির প্রসাদ বিতরণ করেছিলেন। সেই ঘটনাই আজ বৈষ্ণব সমাজে ‘চিঁড়া-দধি মহোৎসব’ নামে সুপরিচিত। নতুন প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহ্য ও এর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য পৌঁছে দিতেই কলকাতায় এই মহোৎসবের সূচনা করা হয়েছে।
এদিনের অনুষ্ঠানে ২০০-রও বেশি ভক্তের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য পদযাত্রা, মহা নগর-সংকীর্তন এবং সর্বসাধারণের জন্য বিনামূল্যে চিঁড়া-দধির প্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়। জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের মধ্যে প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে সম্প্রীতি ও মানবিকতার বার্তাই তুলে ধরা হয়।
ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টারের ডিন ও ট্রাস্টি সুমন্ত রুদ্র বলেন, “চিঁড়া-দধি মহোৎসব শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; এটি ভালোবাসা, সেবা, সমতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের ৫১০ বছরের এক জীবন্ত ঐতিহ্য। আগামী দিনে এই উৎসবকে আরও বৃহত্তর পরিসরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।”
আয়োজকদের আশা, কলকাতায় এই মহোৎসবের মাধ্যমে বৈষ্ণব সংস্কৃতির ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে এবং সমাজে সম্প্রীতি, সেবা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
— IBG NEWS



















