রাষ্ট্রপতির হাত ধরে ১৩৫তম ইন্ডিয়ানঅয়েল ডুরান্ড কাপের ট্রফি উন্মোচন, বেজে গেল এশিয়ার প্রাচীনতম ফুটবল–উৎসবের দামামা!
নয়াদিল্লি, ৭ জুলাই, ২০২৬:
নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনের কালচারাল সেন্টারে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে ১৩৫তম ইন্ডিয়ানঅয়েল ডুরান্ড কাপের ঐতিহ্যবাহী ট্রফিগুলো উন্মোচন করলেন ভারতের মাননীয়া রাষ্ট্রপতি শ্রীমতী দ্রৌপদী মুর্মু। আর এর মাধ্যমেই আগামী ২৫শে জুলাই কলকাতার আইকনিক বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে শুরু হতে চলা এই মেগা টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেল।
দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ এবং ডুরান্ড কাপের মধ্যে থাকা এক সুদীর্ঘ ঐতিহ্যের ধারা বজায় রেখে মাননীয়া রাষ্ট্রপতি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে টুর্নামেন্টের গরিমা আরও বাড়িয়ে দেন। স্বাধীন ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদের সময় থেকেই এই রেওয়াজ চলে আসছে। প্রসঙ্গত, বিজয়ীদের যে তিনটি অনন্য ট্রফি দেওয়া হয়, তার অন্যতম ‘প্রেসিডেন্টস কাপ’ স্বয়ং ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদের উদ্যোগেই চালু হয়েছিল।
রাষ্ট্রপতির বার্তা: “ফুটবল মানুষকে এক সুতোয় বাঁধে“ এই সম্মাননীয় অনুষ্ঠানে মাননীয়া রাষ্ট্রপতি শ্রীমতী দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, “ডুরান্ড কাপ বহু তরুণ ফুটবল প্রতিভাকে নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ করে দিয়েছে। আমি জেনে আনন্দিত যে এবার কিছু নতুন দলও ডুরান্ড কাপ, প্রেসিডেন্টস কাপ এবং শিমলা ট্রফি জেতার লক্ষ্যে মাঠে নামছে। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কা থেকে আসা একটি দল এবার খেলবে জেনে ভালো লাগছে। আমার বিশ্বাস, এই নতুন দলগুলোর সংযোজন এই ঐতিহাসিক প্রতিযোগিতাকে আরও জনপ্রিয় করে তুলবে।”
খেলার স্পিরিট নিয়ে তিনি আরও বলেন, “ফুটবল মানুষকে এক সুতোয় বাঁধে। খেলোয়াড়দের ভালো পারফরম্যান্স সব জায়গার ক্রীড়াপ্রেমীদেরই অনুপ্রাণিত করে। স্পোর্টিং স্পিরিটের গুরুত্ব শুধু খেলাতেই আটকে থাকে না; এটি জীবনের এমন এক গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধ যা আমাদের সমতা, সহযোগিতা এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও ঘুরে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয়।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল এন এস রাজা সুব্রমানি, সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠ, নৌসেনা প্রধান অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথন, এয়ার মার্শাল এস শিবকুমার এবং ইস্টার্ন কমান্ডের জিওসি-ইন-সি লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভি এম ভুবন কৃষ্ণন সহ সশস্ত্র বাহিনীর অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জাতীয় দলের তারকা ফুটবলার লালিয়ানজুয়ালা ছাংতে, সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি শ্রী কল্যাণ চৌবে এবং অংশগ্রহণকারী ২৪টি দলের প্রতিনিধিরা।
চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল এন এস রাজা সুব্রমানি বলেন, “বিশ্বজুড়ে ফিফা বিশ্বকাপ নিয়ে যে উন্মাদনা দেখা যায়, আমার আশা ডুরান্ড কাপও সেই একই ধারায় বিশ্বমানের ফুটবলের আবেগ, ঐক্য এবং স্পোর্টিং এক্সেলেন্সকে তুলে ধরবে এবং আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।”
পূর্ব ও উত্তর–পূর্ব ভারতের ফুটবল উন্মাদনা: ইস্টার্ন কমান্ডের শীর্ষ আধিকারিক লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভি এম ভুবন কৃষ্ণন পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের ফুটবল উন্মাদনার কথা তুলে ধরে বলেন, “কলকাতার ঐতিহাসিক ক্লাবগুলো থেকে শুরু করে পূর্ব ও উত্তর-পূর্বের ফুটবলের আঁতুড়ঘরগুলো আজ খেলোয়াড় এবং ফ্যানদের জন্য এক জীবন্ত কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। আমরা পরিকাঠামো এবং তৃণমূল স্তরে এমনভাবে কাজ করেছি যাতে ছোট ছোট শহর এবং জেলার শিশুরাও ফুটবলের মূল স্রোতে আসতে পারে।”
ছাংতের আবেগে ভাসল মঞ্চ: ভারতীয় দলের তারকা স্ট্রাইকার ছাংতে নিজের আবেগের কথা জানিয়ে বলেন, “ডুরান্ড কাপ আমার হৃদয়ে একটা বিশেষ জায়গা জুড়ে আছে। এটা শুধু বিশ্বের প্রাচীনতম টুর্নামেন্টগুলোর একটা নয়, এই টুর্নামেন্টটা আমার জীবন বদলে দিয়েছে। এই টুর্নামেন্ট যে সুযোগ আমায় দিয়েছিল, সেটা না পেলে হয়তো আজ আমি এই জায়গায় পৌঁছতে পারতাম না।”
এই উদ্বোধনের পর শুরু হচ্ছে মেগা ‘ট্রফি ট্যুর’। ট্রফিগুলো ১১-১৪ জুলাই শিলং, ১৫ জুলাই ইম্ফল, ১৬-১৭ জুলাই গুয়াহাটি, ১৮-১৯ জুলাই রাঁচি হয়ে ২১শে জুলাই কলকাতায় পৌঁছবে। ১৮৮৮ সালে শুরু হওয়া বিশ্বের তৃতীয় প্রাচীনতম এই টুর্নামেন্টে এবার মোট ২৪টি দল খেলবে এবং ৫টি শহরে মোট ৪৩টি ম্যাচ হবে। ১৩৮ বছরের ইতিহাসে রাঁচি এবারই প্রথম আয়োজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।
তবে সবার নজর আটকে আছে ২৫শে জুলাইয়ের দিকে! উদ্বোধনী ম্যাচেই কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মুখোমুখি হবে রেকর্ড ১৭ বারের চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট এবং ১৬ বারের চ্যাম্পিয়ন ও বর্তমান আইএসএল জয়ী ইস্টবেঙ্গল এফসি। ২৩শে আগস্ট একই মাঠে মেগা ফাইনালের মধ্যে দিয়ে এই ফুটবল-উৎসবের পর্দা নামবে।

















