
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হল ‘ভক্তিবেদান্ত ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার অফ এক্সেলেন্স ফর চৈতন্য বৈষ্ণব স্টাডিজ’
সুমন মুন্সি | আইবিজি নিউজ
কলকাতা: চৈতন্য বৈষ্ণব দর্শন, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিষয়ক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের উদ্যোগে এবং কলকাতার ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টার (BRC)-এর সহযোগিতায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল ‘ভক্তিবেদান্ত ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার অফ এক্সেলেন্স ফর চৈতন্য বৈষ্ণব স্টাডিজ’ (BICECVS)।
কলকাতার মোতিলাল নেহরু রোডে অবস্থিত ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই নতুন গবেষণা উপকেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়। কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা-আচার্য এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট প্রাক্তনী এ. সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী শ্রীল প্রভুপাদের স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে।
গবেষণা কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক (ড.) আশুতোষ ঘোষ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের প্রধান অধ্যাপক (ড.) মৌ দাশগুপ্ত, কেন্দ্রের অধিকর্তা অধ্যাপক (ড.) কমল কিশোর মিশ্র এবং ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টারের ডিন ড. সুমন্ত রুদ্র।
উদ্বোধনী ভাষণে উপাচার্য অধ্যাপক (ড.) আশুতোষ ঘোষ বলেন, এই কেন্দ্রের প্রধান লক্ষ্য হবে চৈতন্য বৈষ্ণব অধ্যয়নকে আন্তর্জাতিক গবেষণার পরিসরে আরও সুসংহত ও প্রসারিত করা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ দেশ-বিদেশের গবেষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভারতীয় আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়ে নতুন আগ্রহ সৃষ্টি করবে।
কেন্দ্রের অধিকর্তা অধ্যাপক (ড.) কমল কিশোর মিশ্র জানান, এই গবেষণা কেন্দ্রের মাধ্যমে চৈতন্য বৈষ্ণব দর্শন ও গৌড়ীয় বৈষ্ণব ঐতিহ্য নিয়ে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, প্রাচীন পুঁথি ও নথির সংরক্ষণ, প্রকাশনা, আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতা এবং ভারতীয় প্রবাসী সমাজে গৌড়ীয় বৈষ্ণব ভাবধারার প্রভাব নিয়ে বিস্তৃত গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে।
ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টারের ডিন ড. সুমন্ত রুদ্র বলেন, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টারের এই যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যতে দেশ-বিদেশের গবেষক, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। তাঁর মতে, এই কেন্দ্র ভারতীয় জ্ঞান-ঐতিহ্য ও বৈষ্ণব দর্শনের আন্তর্জাতিক গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
নতুন এই উপকেন্দ্রের সূচনার মাধ্যমে চৈতন্য বৈষ্ণব দর্শন ও গৌড়ীয় বৈষ্ণব ঐতিহ্যের গবেষণা, সংরক্ষণ এবং বিশ্বব্যাপী প্রচারের ক্ষেত্রে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদ ও গবেষক মহল।


















