Friday, October 23, 2026
WA
Home Bangla ভারতে জনসমাগমস্থলে অগ্নি-নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে কোথায় ঘাটতি, কী করা উচিত সরকারের

ভারতে জনসমাগমস্থলে অগ্নি-নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে কোথায় ঘাটতি, কী করা উচিত সরকারের

0
127
ভারতে জনসমাগমস্থলে অগ্নি-নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে কোথায় ঘাটতি, কী করা উচিত সরকারের
ভারতে জনসমাগমস্থলে অগ্নি-নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে কোথায় ঘাটতি, কী করা উচিত সরকারের

ভারতে জনসমাগমস্থলে অগ্নি-নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে কোথায় ঘাটতি, কী করা উচিত সরকারের

সুমন মুন্সি | IBG NEWS

জনসমাগমস্থলে অগ্নি-নিরাপত্তা শুধুমাত্র অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র বসানো, Fire NOC নেওয়া অথবা মাঝেমধ্যে অগ্নিনিরাপত্তা মহড়া করার বিষয় নয়। এটি মূলত একটি জীবনরক্ষা ব্যবস্থা, যার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ভবনের নকশা, বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা, জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা, অগ্নি শনাক্তকরণ, আগুন নেভানোর ব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত কর্মী, জরুরি পরিষেবা এবং নিয়মিত পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণ।

ভারতে ইতিমধ্যেই অগ্নি ও জীবন-নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত কাঠামো রয়েছে। National Building Code of India 2016 (NBC 2016)-এর Part 4-এ Fire and Life Safety নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা রয়েছে। উচ্চ ভবন, আধুনিক ও জটিল স্থাপনা, বিভিন্ন ধরনের ভবন, অগ্নি-প্রতিরোধী ব্যবস্থা এবং নিরাপদে মানুষকে বের করে আনার মতো বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত।

তাই ভারতের মূল সমস্যা যে নিরাপত্তা-মানদণ্ডের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি—তা নয়। বড় সমস্যা হল মানদণ্ড, তার গ্রহণ, বাস্তবায়ন, পরিদর্শন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং কার্যকর প্রয়োগের মধ্যে থাকা ব্যবধান।

কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবে কতটা নিরাপদ?

ভারতে Fire Services মূলত রাজ্য সরকারের দায়িত্ব। একই সঙ্গে পুরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় সরকার নীতি, প্রশিক্ষণ ও আধুনিকীকরণে সহায়তা করলেও বাস্তব প্রয়োগের বড় অংশ নির্ভর করে রাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসনের উপর।

একটি ভবনকে NBC, রাজ্যভিত্তিক অগ্নি-নিরাপত্তা আইন, পৌরসভার বিল্ডিং রেগুলেশন এবং বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা বিধি—একাধিক নিয়ম মেনে চলতে হয়। কিন্তু বাস্তবে বিভিন্ন রাজ্য, শহর ও পুরসভায় প্রয়োগের মান এক নয়।

এর ফলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে যেখানে একটি ভবন অনুমোদিত হলেও কয়েক বছর পর তার অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

তাই Fire NOC-কে কোনও ভবনের চিরস্থায়ী নিরাপত্তার সার্টিফিকেট হিসেবে দেখা উচিত নয়। অগ্নি-নিরাপত্তা একটি চলমান দায়িত্ব।

ভারতের অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রধান ঘাটতিগুলি কোথায়?

১. নিরাপত্তাকে অনেক সময় নথিপত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতার একটি হল কাগজে নিয়ম মানা এবং বাস্তবে নিরাপদ থাকা—এই দুটিকে এক করে দেখা।

কোনও ভবনে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, হাইড্র্যান্ট, অ্যালার্ম এবং স্প্রিঙ্কলার অনুমোদিত নকশায় থাকতে পারে। কিন্তু আসল প্রশ্ন হল:

রাত ২টোর সময় সত্যিই আগুন লাগলে এই ব্যবস্থাগুলি কি কাজ করবে?

জলের ট্যাঙ্ক খালি থাকতে পারে, ফায়ার পাম্প কাজ নাও করতে পারে, অ্যালার্ম বন্ধ থাকতে পারে, জরুরি দরজা আটকে রাখা হতে পারে অথবা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে যেতে পারে।

আন্তর্জাতিক অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তাই শুধু যন্ত্র বসানো নয়, নিয়মিত Inspection, Testing এবং Maintenance-এর উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ভারতের ক্ষেত্রেও installation-based compliance থেকে performance-based safety verification-এর দিকে এগোনো জরুরি।

২. অগ্নি-নিরাপত্তা মানদণ্ডের প্রয়োগ সর্বত্র সমান নয়

NBC 2016 একটি জাতীয় মডেল কোড হলেও তা বাস্তবে প্রয়োগ করে রাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসন।

ফলে বিভিন্ন শহর ও অঞ্চলে একই ধরনের ভবনের নিরাপত্তা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে পার্থক্য দেখা যেতে পারে।

একটি বড় শহরের বহুতল ভবনে কঠোর পরিদর্শন হতে পারে, অথচ অন্যত্র একই ধরনের ভবনে তুলনামূলকভাবে দুর্বল নজরদারি থাকতে পারে।

সরকারের উচিত সারা দেশে একটি বাধ্যতামূলক ন্যূনতম Fire Safety Benchmark নির্ধারণ করা। তবে স্থানীয় ঝুঁকি অনুযায়ী রাজ্যগুলি আরও কঠোর নিয়ম করতে পারবে।

৩. পুরনো ভবনগুলি বড় ঝুঁকি

নতুন ভবনগুলিকে আধুনিক অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় তৈরি করা তুলনামূলকভাবে সহজ। কিন্তু ভারতের বিপুল সংখ্যক পুরনো ভবন বড় চ্যালেঞ্জ।

হাসপাতাল, স্কুল, শপিং কমপ্লেক্স, সিনেমা হল, হোটেল, বাজার, গুদাম, অফিস এবং আবাসিক বহুতল ভবনের অনেকগুলি পুরনো নিয়ম অনুযায়ী নির্মিত।

পরবর্তীকালে সেখানে অতিরিক্ত ঘর, পার্টিশন, তলা, স্টোরেজ এলাকা, বৈদ্যুতিক পরিবর্তন অথবা ব্যবসার ধরন পরিবর্তন করা হয়েছে।

একটি অফিস ভবন পরবর্তীতে রেস্তোরাঁ, কোচিং সেন্টার, গুদাম বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হলে ভবনের Fire Load এবং evacuation requirement সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে।

তাই ভারতের প্রয়োজন একটি National Existing Building Fire Safety Audit Programme—বিশেষ করে উচ্চ-ঝুঁকির জনসাধারণের ভবনের জন্য।

৪. জরুরি নির্গমন ব্যবস্থায় আরও গুরুত্ব প্রয়োজন

অগ্নি-নিরাপত্তা শুধু আগুন নেভানোর বিষয় নয়।

প্রথম লক্ষ্য হল মানুষকে জীবিত অবস্থায় দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া।

আন্তর্জাতিক জীবন-নিরাপত্তা মানদণ্ডে Occupant Load, Exit Access, Protected Stairway, Emergency Exit এবং unobstructed Means of Egress-এর উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ভারতেও জোর দিতে হবে—

  • পর্যাপ্ত সংখ্যক জরুরি বহির্গমন পথ
  • সঠিক Exit Width
  • সুরক্ষিত সিঁড়ি
  • Emergency Lighting
  • আলোকিত Exit Sign
  • Smoke Control
  • প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নিরাপদ পথ
  • Refuge Area যেখানে প্রযোজ্য
  • দরজা খোলার সঠিক ব্যবস্থা
  • ভিড় নিয়ন্ত্রণ
  • শিশু, বয়স্ক ও বিশেষভাবে সহায়তা প্রয়োজন এমন ব্যক্তিদের evacuation পরিকল্পনা

নকশায় থাকা একটি Exit যদি তালাবন্ধ, অবরুদ্ধ বা বাস্তবে ব্যবহারযোগ্য না হয়, তাহলে সেটি আসল অর্থে কোনও নিরাপদ Exit নয়।

৫. Automatic Fire Detection ও Suppression আরও কঠোরভাবে কার্যকর করা দরকার

আগুনের শিখা পৌঁছানোর আগেই ধোঁয়া মানুষের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

তাই আধুনিক Fire Safety ব্যবস্থায় Early Detection, Alarm এবং প্রয়োজন অনুযায়ী Automatic Suppression অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে নিম্নলিখিত জায়গায় Risk-based Automatic Detection এবং Suppression বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত—

  • হাসপাতাল
  • হোটেল
  • শপিং মল
  • মাল্টিপ্লেক্স
  • নাইটক্লাব
  • বড় রেস্তোরাঁ
  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
  • Underground Parking
  • বহুতল ভবন
  • গুদাম
  • Data Centre
  • বড় জনসমাগমস্থল

শুধু “Sprinkler Installed” লেখা থাকলেই হবে না। পরীক্ষা করতে হবে জলের চাপ, Pump Operation, Sprinkler Coverage, Alarm Integration এবং Maintenance Record।

৬. বৈদ্যুতিক অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

আধুনিক ভবনে Electrical Fault বড় অগ্নিঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

Overloaded Circuit, নিম্নমানের Wiring, অনুমোদনহীন বৈদ্যুতিক পরিবর্তন, ক্ষতিগ্রস্ত Cable, সঠিক Earthing-এর অভাব এবং Distribution Board-এর ত্রুটি আগুনের কারণ হতে পারে।

তাই Fire Safety Inspection-এর সঙ্গে Electrical Safety Audit-কেও আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা দরকার।

উচ্চ-ঝুঁকির জনসাধারণের ভবনে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত Electrical Thermography এবং Electrical Safety Assessment চালু করা যেতে পারে।

৭. Fire Engine প্রবেশের পথ অনেক সময় বাধাগ্রস্ত হয়

দমকলের গাড়ির জন্য পর্যাপ্ত রাস্তা, Turning Radius, প্রবেশপথ এবং কাজ করার জায়গা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অবৈধ দখল, পার্কিং, রাস্তার কাঠামো, গেট, Bollard এবং ভুলভাবে পরিকল্পিত Landscaping-এর কারণে Fire Engine ঘটনাস্থলে পৌঁছেও কার্যকরভাবে কাজ করতে না পারে।

অতএব Building Approval-এর সময় শুধু নকশায় Fire Access দেখানো নয়, বাস্তবে Fire Appliance Access পরীক্ষা করা উচিত।

৮. Fire Drill অনেক সময় আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়

একটি প্রকৃত Fire Drill-এর উত্তর দিতে হবে—

কে Alarm বাজাবে?
কে Fire Service-এ ফোন করবে?
কে Fire Pump চালাবে?
কে মানুষকে বের করে আনবে?
কে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সাহায্য করবে?
কে Toilet ও অন্যান্য বিচ্ছিন্ন এলাকা পরীক্ষা করবে?
কোথায় Assembly Point হবে?
কতজন বেরিয়েছে তা কে গণনা করবে?

হাসপাতালের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও জটিল। অনেক রোগী নিজেরা হাঁটতে পারেন না, কেউ অক্সিজেনের উপর নির্ভরশীল, আবার কেউ চিকিৎসা-সরঞ্জামের সঙ্গে যুক্ত।

তাই হাসপাতালের Fire Safety Plan-কে সাধারণ মহড়ার বদলে সমন্বিত Emergency Management System-এর অংশ করতে হবে।

আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে ভারতের মূল পার্থক্য কোথায়?

এটা বলা ঠিক হবে না যে ভারতে আন্তর্জাতিক মানের Fire Safety Standards নেই।

বরং NBC 2016 নিজেই আধুনিক আন্তর্জাতিক চর্চাকে বিবেচনায় নিয়ে তৈরি হয়েছে এবং এর Fire & Life Safety অংশে Prevention, Life Safety এবং Fire Protection-এর জন্য বিস্তারিত ব্যবস্থা রয়েছে।

তাই মূল পার্থক্যকে বলা যায় Implementation এবং Governance Gap।

আন্তর্জাতিক Best Practice ক্রমশ একটি সমন্বিত Safety Chain-এর দিকে এগোচ্ছে—

Risk Assessment → Prevention → Detection → Alarm → Compartmentation → Suppression → Evacuation → Emergency Response → Inspection → Testing → Maintenance → Continuous Improvement

ভারতে অনেক সময় নজর বেশি থাকে Approval Stage-এর উপর।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে তাই প্রশ্নটি শুধু—

“এই ভবনের Fire NOC আছে কি?”

হওয়া উচিত নয়।

বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত—

প্রমাণ ও নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে কি ভবনটি দেখাতে পারে যে প্রয়োজনের সময় তার Fire Safety System সত্যিই কাজ করবে?

সরকারের কী করা উচিত?

১. National Fire Safety Compliance Grid তৈরি

কেন্দ্র, রাজ্য ও পুরসভাগুলির যৌথ উদ্যোগে উচ্চ-ঝুঁকির জনসাধারণের ভবনের জন্য একটি Common Digital Framework তৈরি করা উচিত।

প্রতিটি ভবনের Digital Fire Safety Profile-এ থাকতে পারে—

  • Building Plan
  • Occupancy Classification
  • Fire NOC
  • Fire Risk Category
  • Fire Equipment Inventory
  • Inspection History
  • Testing Certificate
  • Fire Drill Record
  • Electrical Safety Report
  • Fire System Maintenance Record
  • Violations এবং Corrective Actions

এই ব্যবস্থাকে ভারতের Digital Building Approval Ecosystem-এর সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে।

২. Risk-Based Inspection চালু করা

প্রতিটি ভবনের জন্য একই ধরনের Inspection Frequency প্রয়োজন নেই।

একটি ছোট, কম-ঝুঁকির অফিস এবং একটি ৩০ তলা হাসপাতালকে একইভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যুক্তিযুক্ত নয়।

ভবনকে Low, Moderate, High এবং Critical Fire Risk-এ ভাগ করে ঝুঁকি অনুযায়ী Inspection Frequency ও Technical Requirement নির্ধারণ করা উচিত।

৩. High-Risk Building-এ Third-Party Fire Safety Audit বাধ্যতামূলক করা

বড় হাসপাতাল, শপিং মল, হোটেল, জনসমাগমস্থল, বহুতল এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্দিষ্ট সময় অন্তর Qualified Independent Fire Safety Professional-এর মাধ্যমে Audit করা উচিত।

এই Audit-এ শুধু কাগজপত্র নয়, বাস্তবে সিস্টেম কাজ করছে কি না তা পরীক্ষা করতে হবে।

৪. Fire Safety Professional Accreditation System

ভারতে আরও শক্তিশালী পেশাগত কাঠামো তৈরি করা দরকার। যেমন—

  • Fire Safety Engineer
  • Fire Protection Engineer
  • Fire Safety Auditor
  • Fire Risk Assessor
  • Emergency Evacuation Specialist

যোগ্যতার পাশাপাশি পেশাগত দায়বদ্ধতাও নিশ্চিত করতে হবে।

৫. Fire NOC Renewal-কে Maintenance Evidence-এর সঙ্গে যুক্ত করা

Fire NOC Renewal-এর সময় বাস্তব নিরাপত্তার প্রমাণ চাওয়া উচিত।

উচ্চ-ঝুঁকির ভবনের ক্ষেত্রে যাচাই করা যেতে পারে—

Alarm Test + Pump Test + Sprinkler Test + Emergency Light Test + Evacuation Drill + Electrical Audit + Exit Inspection

৬. Fire Service আরও শক্তিশালী করা

কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যেই রাজ্যগুলির Fire Service আধুনিকীকরণের জন্য উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৩ সালে চালু হওয়া Scheme for Expansion and Modernization of Fire Services in the States-এর আওতায় Fire Station, Equipment, Training এবং Capacity Building-এর জন্য ₹5,000 কোটি বরাদ্দ করা হয়েছিল।

এখন পরবর্তী ধাপে ফলাফল মাপা জরুরি—

Response Time, Equipment Availability, Staffing, Training, Station Coverage এবং Rescue Capability।

৭. National Fire Incident Database তৈরি করা

যে দেশ নিজের Fire Incident সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করে না, সে কার্যকরভাবে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি কমাতে পারে না।

ভারতের একটি সমন্বিত National Fire Incident Database থাকা উচিত। সেখানে থাকতে পারে—

  • ঘটনার স্থান
  • ভবনের ধরন
  • আগুনের কারণ
  • ঘটনার সময়
  • মোট Occupancy
  • মৃত্যু ও আহতের সংখ্যা
  • Fire Detection System-এর অবস্থা
  • Suppression System-এর অবস্থা
  • Electrical Condition
  • Evacuation Performance
  • Fire Service Response Time
  • Property Loss
  • Regulatory Violation

এই তথ্যকে Policy Making, Engineering Research এবং Prevention-এর কাজে ব্যবহার করতে হবে।

৮. Technology ব্যবহার

ভবিষ্যতের Fire Safety ব্যবস্থায় ব্যবহার করা যেতে পারে—

IoT + Sensors + GIS + AI Analytics + Digital Building Records + Emergency Dispatch

ভারতের Emergency Response Support System-এর 112 ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই Police, Health, Fire এবং Disaster Response-এর মতো জরুরি পরিষেবাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনতে কাজ করছে।

এর পরবর্তী ধাপ হতে পারে Critical Building-গুলিকে Emergency Response Infrastructure-এর সঙ্গে Verified Digital Building Information-এর মাধ্যমে যুক্ত করা।

৯. Fire Safety Education বাধ্যতামূলক করা

Fire Safety শিক্ষা স্কুল থেকেই শুরু করা উচিত।

শিশুদের শেখানো যেতে পারে—

Stop. Raise the Alarm. Get Out. Stay Out.

শপিং মল, সিনেমা হল, রেলস্টেশন, বিমানবন্দর, হোটেল এবং বড় জনসমাগমস্থলে Emergency Exit ও Evacuation Map দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন করা উচিত।

সবচেয়ে বড় প্রয়োজন—Safety Culture পরিবর্তন

ভারতের সমস্যার সমাধান শুধুমাত্র আরও বেশি কাগজপত্র তৈরি করা নয়।

প্রয়োজন মাপযোগ্য এবং বাস্তব Fire Safety Culture।

National Building Code একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ভিত্তি তৈরি করেছে। একই সঙ্গে Fire Service আধুনিকীকরণ, Emergency Response এবং অন্যান্য সরকারি উদ্যোগও রয়েছে।

কিন্তু এই ব্যবস্থাগুলি কার্যকর করতে হলে নিরাপত্তাকে শুধু অনুমোদনের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখা চলবে না।

Fire NOC কোনও প্রক্রিয়ার শেষ নয়। এটি একটি ধারাবাহিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার শুরু।

Fire Compliance থেকে Life Safety

একটি Fire Safety System-এর সাফল্য কতগুলি Certificate দেওয়ালে টাঙানো আছে, তা দিয়ে বিচার করা উচিত নয়।

আসল পরীক্ষা হল—আগুন লাগলে কী হয়?

মানুষ কি Exit দেখতে পায়?

দরজা কি খোলা যায়?

সিঁড়ি কি ব্যবহারযোগ্য?

ধোঁয়া ছড়ানো কি নিয়ন্ত্রণ করা যায়?

Alarm কি কাজ করে?

Sprinkler কি চালু হয়?

Fire Pump কি কাজ করে?

Fire Engine কি ভবনে পৌঁছতে পারে?

Emergency Control Room কি ভবনের Layout জানে?

বয়স্ক, শিশু এবং বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন এমন মানুষকে কি দ্রুত বের করে আনা যায়?

এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—

একটি প্রতিরোধযোগ্য আগুন কি একটি বড় ট্র্যাজেডিতে পরিণত হওয়ার আগেই মানুষ নিরাপদে বেরিয়ে আসতে পারে?

ভারতের কাছে এই প্রশ্নের উত্তর “হ্যাঁ” করার মতো প্রযুক্তিগত ভিত্তি ইতিমধ্যেই রয়েছে। এখন প্রয়োজন সমানভাবে কার্যকর প্রয়োগ, নিয়মিত পরিদর্শন, পেশাগত জবাবদিহি, নির্ভরযোগ্য তথ্য, আধুনিক প্রযুক্তি এবং জনসচেতনতা।

অগ্নি-নিরাপত্তাকে কোনও সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে ভুলে যাওয়ার বিষয় হিসেবে নয়, বরং প্রতিটি মানুষের জীবন রক্ষার জন্য একটি স্থায়ী দায়িত্ব হিসেবে দেখতে হবে।

সুমন মুন্সি
IBG NEWS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Adblocker detected! Please consider reading this notice.

We've detected that you are using AdBlock Plus or some other adblocking software which is preventing the page from fully loading.

We don't have any banner, Flash, animation, obnoxious sound, or popup ad. We do not implement these annoying types of ads!

We need money to operate the site, and almost all of it comes from our online advertising.

Please add https://www.ibgnews.com to your ad blocking whitelist or disable your adblocking software.

×
Verified by MonsterInsights