বুদ্ধের চোখে জল!
By ডাঃ ধীরেশ।
২৮শে আগষ্ট, ২০২৬।
কি ভাবছেন—
বুদ্ধ খুব খুশি?
প্রবল জলের তোড়েও
তাঁর মূর্তিটা অক্ষত আছে বলে?
যে জলের স্রোতে
তলিয়ে গেছে শত শত মানুষ,
ঘর,
স্বপ্ন,
স্মৃতি,
আর বেঁচে থাকার শেষ আশাটুকুও—
সেই মহাপ্রলয়ের সামনে
সামান্য একটা পাথরের মূর্তি বেঁচে গেছে বলে
বুদ্ধের আনন্দ!
যাঁরা এমন ভাবছেন,
সেটা তাঁদের ভাবনার দারিদ্র্য—
বুদ্ধকে না জানার দারিদ্র্য।
জগতের সমস্ত দুঃখ মোচনের জন্য
যাঁর সমগ্র জীবন সমর্পিত,
একজন মাকে বাঁচাতে
অঙ্গুলিমালের সামনে দাঁড়াতে
যিনি এক পা-ও পিছিয়ে যাননি—
সেই বুদ্ধই কিনা আজ
শত শত মৃত্যুর দিকে তাকিয়ে
হাসবেন,
শুধু তাঁর পাথরের শরীরটি
অক্ষত আছে বলে?
একে বারেই না…
ভালো করে দেখুন—
পৃথিবীর প্রতিটি বুদ্ধমূর্তির
চোখের কোণে
আজ এক ফোঁটা জল।
সে অশ্রু মূর্তির নয়,
সে অশ্রু বুদ্ধের—
মানুষের জন্য,
মানুষের এই অসহায়তার জন্য।
বুদ্ধের আজ বড্ড মন খারাপ,
মূর্তি অক্ষত,
কিন্তু মানুষ বাঁচেনি…
© ডাঃ ধীরেশ।
২৮শে আগষ্ট, ২০২৬।

অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে দেখেছেন দৃশ্যটা। সাম্প্রতিক নেপালের এই বিপর্যয়ে প্রবল জলস্রোতের মধ্যেও একটা বুদ্ধ মূর্তি অক্ষত অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। সত্যিই বিস্ময়কর। কেউ কেউ একে বুদ্ধের মাহাত্ম্য বলছেন, কেউ বলছেন বুদ্ধের অলৌকিক ক্ষমতা। যাঁরা বলছেন তাঁরা ধর্মে বৌদ্ধ হলেও মননে, চিন্তনে, দর্শনে আসলে বুদ্ধকে ধারণ করতে পারেননি আজও। সেটা তাঁদের ভাবনার দারিদ্র্যতা। বুদ্ধের নয়। বুদ্ধ কখনও অলৌকিকতায় বিশ্বাস করেননি, করার কথাও বলেননি। তাঁর মাহাত্ম্যকেও তুলে ধরার চেষ্টা করেননি কখনও। তিনি বাস্তববাদী একজন মানব অবতার। তাই বুদ্ধের অক্ষত মূর্তি দেখে নিশ্চিত তিনি খুশি তো হননি, বরং তাঁর মন কেঁদেছে মানুষের এই অসহায়তা দেখে। আজ স্বশরীরে বেঁচে থাকলে তিনি বরং ঝাঁপিয়ে পড়তেন মানুষকে বাঁচাতে। তবে ভালো লাগলো দেখে অনেক বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কিত পেজ এ এই ভাবনাকেই তুলে ধরা হয়েছে। প্রকৃত বৌদ্ধদের কাছ থেকে এটাই আশা করা যায়। আর এই কারণেই আজও বৌদ্ধ ধর্ম কিছুটা স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে চলেছে।



















