ফেসবুক পোস্টে নির্যাতনের ছবি, প্রশ্নের পর এক মাস নীরবতা, পরে ফোনে হুমকির অভিযোগ
কলকাতা, ২ অক্টোবর ২০২৬:
এখন কি পশ্চিমবঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে কোনো মহিলার জন্য সাধারণ নিরাপত্তা সম্পর্কিত প্রশ্ন করা, নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে? কোনো সহনাগরিকের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করা কি বেআইনি? ফেসবুকে একটি সাধারণ প্রশ্ন করায় একজন সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং রাজনৈতিক গুন্ডাদের দুষ্ট হাত প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক মহিলার শারীরিক নির্যাতনের ছবি পোস্টকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ওই পোস্টে নির্যাতনের শিকার বলে দাবি করা পায়েল রায়ের ছবিতে মুখে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন এবং নাকের হাড় ভেঙে যাওয়ার ইঙ্গিত দেখা গিয়েছিল বলে অভিযোগ। বিষয়টি নজরে আসার পর অনুসন্ধানী সাংবাদিক আকাশ জীবক তাঁর কাছে ঘটনার বিবরণ জানতে চাইলেও দীর্ঘদিন কোনও উত্তর মেলেনি বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে ওই সাংবাদিকের কাছে ফোনে হুমকি ও অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২০ আগস্ট ২০২৬। ওই দিন ফেসবুক ঘাঁটতে গিয়ে রিপোর্টার আকাশ জীবকের নজরে আসে Mrs. রায় (Full name not revealed) নামে এক মহিলার একটি পোস্ট। পোস্টে প্রকাশিত ছবিতে তাঁর মুখে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে দাবি করা হয়। ছবিটি দেখে শারীরিক নির্যাতনের আশঙ্কা প্রকাশ করেন সাংবাদিক আকাশ জীবক। বিষয়টির সত্যতা ও ঘটনার প্রেক্ষাপট জানার জন্য তিনি পোস্টের কমেন্টে Mrs. রায়কে প্রশ্ন করেন, কীভাবে তিনি এমন আঘাত পেলেন।
তবে ওই প্রশ্নের পর প্রায় এক মাস অতিবাহিত হলেও Mrs.রায়ের কাছ থেকে কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি বলে আকাশ জীবকের দাবি। ফলে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সময়ে আর কোনও অনুসন্ধান এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এরপর গত ১ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১২টার পর ঘটনায় নতুন মোড় আসে। আকাশ জীবকের অভিযোগ, একটি অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে তাঁর কাছে ফোন আসে। ফোনে থাকা ব্যক্তি নিজেকে Mrs. রায়ের স্বামী বলে পরিচয় দেন। ওই ব্যক্তি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলে অভিযোগ করেন, আকাশ জীবক। তাঁর আরও দাবি, ফোনে তাঁকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করার পাশাপাশি ভয় দেখানো হয় এবং হুমকি দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ফোন নম্বরটির পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যমে সেটি কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা রোমিত শীলের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানা গেছে। তিনি নিজেকে একজন আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ফোনে কথা বলা ব্যক্তির পরিচয় এবং অভিযোগের অন্যান্য দিক স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে, Mrs.রায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হলেও, এখনও তাঁকে গ্রেফতার করা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বিভিন্ন মানুষকে ফোন করে হুমকি দিচ্ছেন।
এই ঘটনায় একদিকে যেমন Mrs. রায়ের নির্যাতনের অভিযোগের যথাযথ তদন্তের প্রশ্ন উঠেছে, তেমনই সাংবাদিককে ফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার দাবি রাখে। তবে নির্যাতনের ঘটনা, ফোনে হুমকি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে পুলিশি তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য জানা জরুরি।
আইবিজি নিউজের পক্ষ থেকে স্পষ্টীকরণ: এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত নির্যাতন, হুমকি এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর বিষয়গুলি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ ও বক্তব্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগগুলির স্বাধীন যাচাই এবং অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের নির্দোষ বলে বিবেচিত হওয়ার অধিকার রয়েছে।
প্রতিবেদন: Stuff Reporter IBG NEWS BANGLA


















