
জটিল রক্তরোগের চিকিৎসায় হ্যাপলো-আইডেন্টিক্যাল বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টের গুরুত্ব, সম্মানিত ডা. রজত ভট্টাচার্য
পূর্ব ভারতে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন চিকিৎসায় দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি; বিজ্ঞানচর্চায় পড়ুয়াদের উৎসাহ দিতে আয়োজন আন্তঃবিদ্যালয় কুইজের
অন্তরা ত্রিপাঠী, IBG NEWS BANGLA
কলকাতা: লিউকেমিয়া-সহ একাধিক গুরুতর রক্তরোগের চিকিৎসায় বোন ম্যারো বা অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন গুরুত্বপূর্ণ একটি চিকিৎসা-পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত। যেসব রোগীর শরীরে স্বাভাবিকভাবে রক্তকণিকা তৈরির প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাঁদের ক্ষেত্রে স্টেম সেল প্রতিস্থাপন চিকিৎসার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে এই চিকিৎসার ক্ষেত্রে উপযুক্ত দাতা খুঁজে পাওয়া এবং প্রতিস্থাপিত স্টেম সেলের সঙ্গে রোগীর জৈবিক সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা অন্যতম বড় বিষয়।
এই প্রেক্ষাপটে হ্যাপলো-আইডেন্টিক্যাল বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। পূর্ব ভারতে এই চিকিৎসা ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের কাজ ও অবদানের জন্য বিশিষ্ট হেমাটোলজিস্ট, হেমাটো-অঙ্কোলজিস্ট এবং বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট বিশেষজ্ঞ ডা. রজত ভট্টাচার্যকে ‘ডা. শচীপ্রসাদ ভট্টাচার্য স্মারক সম্মান ২০২৬’ প্রদান করা হয়েছে।
কলকাতার মহাজাতি সদনের অ্যানেক্স হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পিকনিক গার্ডেন লীলা সেবা সোসাইটির পক্ষ থেকে তাঁকে এই সম্মান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে জটিল রক্তরোগের চিকিৎসায় অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের ভূমিকা, চিকিৎসা প্রযুক্তির সাম্প্রতিক অগ্রগতি এবং হ্যাপলো-আইডেন্টিক্যাল ট্রান্সপ্ল্যান্টের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
দাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়ছে সম্ভাবনা
ডা. রজত ভট্টাচার্য জানান, হ্যাপলো-আইডেন্টিক্যাল ট্রান্সপ্ল্যান্টের ক্ষেত্রে রোগীর পরিবারের এমন সদস্যকেও সম্ভাব্য দাতা হিসেবে বিবেচনা করা যায়, যাঁর সঙ্গে রোগীর জেনেটিক মিল সম্পূর্ণ না হলেও প্রায় অর্ধেকের মতো থাকে।
এর ফলে সম্পূর্ণ জেনেটিক ম্যাচিং করা দাতা না পাওয়া গেলেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পরিবারের মধ্যেই সম্ভাব্য দাতা খুঁজে চিকিৎসার পথ তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। এই কারণেই বোন ম্যারো প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে হ্যাপলো-আইডেন্টিক্যাল পদ্ধতির গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে।
পিকনিক গার্ডেন লীলা সেবা সোসাইটির সম্পাদক ও চিকিৎসক ডা. সৌম্য ভট্টাচার্য বলেন, এই পদ্ধতির ফলে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের জন্য সম্ভাব্য দাতার পরিধি আগের তুলনায় বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। বর্তমান চিকিৎসা ব্যবস্থায় এই সুবিধা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্মারক বক্তৃতায় উঠে এল চিকিৎসাবিজ্ঞানের নতুন দিক
সম্মান গ্রহণের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে ‘ডা. শচীপ্রসাদ ভট্টাচার্য স্মারক বক্তৃতা ২০২৬’ প্রদান করেন ডা. রজত ভট্টাচার্য।
তাঁর বক্তৃতায় বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টের বিভিন্ন দিক, এই চিকিৎসা পদ্ধতির সাম্প্রতিক উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে আরও সম্ভাব্য অগ্রগতির বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। জটিল রক্তরোগের চিকিৎসায় স্টেম সেল ও অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের ভূমিকার বিভিন্ন দিকও আলোচনায় উঠে আসে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের পাশাপাশি বিজ্ঞানমনস্কতা তৈরির উদ্যোগ
অনুষ্ঠানটি শুধুমাত্র চিকিৎসা বিষয়ক আলোচনা ও সম্মাননা প্রদানেই সীমাবদ্ধ ছিল না। স্কুলপড়ুয়াদের মধ্যে বিজ্ঞান, যুক্তিবোধ ও গবেষণার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর লক্ষ্যেও বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
পশ্চিমবঙ্গের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে আন্তঃবিদ্যালয় বিজ্ঞান কুইজ প্রতিযোগিতা ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পড়ুয়াদের বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তাভাবনা, জ্ঞানচর্চা এবং ভবিষ্যতে গবেষণামুখী হওয়ার বিষয়ে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
চিকিৎসা ও বিজ্ঞানশিক্ষার সেতুবন্ধন
ডা. রজত ভট্টাচার্যকে সম্মাননা প্রদান এবং একই সঙ্গে স্কুলপড়ুয়াদের নিয়ে বিজ্ঞান কুইজ—অনুষ্ঠানের দুই গুরুত্বপূর্ণ দিকই চিকিৎসাবিজ্ঞান ও বিজ্ঞানশিক্ষার গুরুত্বকে সামনে নিয়ে আসে।
একদিকে জটিল রক্তরোগের চিকিৎসায় আধুনিক প্রতিস্থাপন প্রযুক্তির ব্যবহার ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও গবেষণার প্রতি আগ্রহী করে তোলার বার্তাও দেওয়া হয়েছে।
অন্তরা ত্রিপাঠী
IBG NEWS BANGLA
















