বঙ্গের স্কুলে বাধ্যতামূলক ‘বন্দে মাতরম’: নতুন নির্দেশে শিক্ষাঙ্গনে দেশাত্মবোধের নতুন অধ্যায়
কলকাতা, ১৪ মে, ২০২৬ | IBG NEWS Desk
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্কুল শিক্ষা দপ্তর রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও সরকার-পোষিত বিদ্যালয়ে প্রাতঃকালীন অ্যাসেম্বলি বা প্রার্থনা সভায় ভারতের জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করেছে। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, ক্লাস শুরুর আগে প্রতিদিন সকালের প্রার্থনা সভায় সকল ছাত্রছাত্রীকে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
বিরোধী দলনেতা তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari সামাজিক মাধ্যম X-এ এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, পূর্ববর্তী সমস্ত নির্দেশ ও প্রচলিত রীতি বাতিল করে নতুন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। (X (formerly Twitter))
স্কুল শিক্ষা দপ্তরের ১৩ মে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে:
- প্রতিটি ছাত্রছাত্রীকে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ায় অংশ নিতে হবে, বিদ্যালয়ের প্রধানদের কঠোরভাবে নির্দেশ কার্যকর করতে হবে, অনেক ক্ষেত্রেই অ্যাসেম্বলির ভিডিও রেকর্ড রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
রবীন্দ্রনাথ থেকে বঙ্কিমচন্দ্র: গান ঘিরে নতুন বিতর্ক
পূর্ববর্তী সরকার বিদ্যালয়গুলিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’ গানটিকে প্রার্থনা সঙ্গীত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। নতুন সিদ্ধান্তে এখন ‘বন্দে মাতরম’ যুক্ত হওয়ায় অনেক শিক্ষক ও শিক্ষাবিদ প্রশ্ন তুলেছেন সকালের সীমিত সময়ের মধ্যে জাতীয় সঙ্গীত, রাজ্য সঙ্গীত এবং জাতীয় গান — এই তিনটির সমন্বয় কীভাবে হবে।
জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ রচনা করেছিলেন Bankim Chandra Chattopadhyay। গানটি প্রথম প্রকাশিত হয় তাঁর উপন্যাস আনন্দমঠ-এ ১৮৮২ সালে এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় এটি ভারতীয় জাতীয়তাবাদের অন্যতম প্রধান প্রতীক হয়ে ওঠে।
No doubt nationalist peoples are happy, said a principal and headmaster without allowing to name them. Fear is still heavy of the previous regime.
কেন্দ্রের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পরেই রাজ্যের পদক্ষেপ
চলতি বছরের শুরুতে কেন্দ্র সরকার ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর সমমর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ নেয় এবং সরকারি অনুষ্ঠান ও বিদ্যালয়ে পূর্ণ ছয় স্তবক গাওয়ার নির্দেশিকা জারি করে। পাশাপাশি, জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইন সংশোধনের প্রস্তাবও আনা হয়, যেখানে ‘বন্দে মাতরম’ গানে বাধা দেওয়াকে দণ্ডনীয় করার বিষয়টি আলোচনায় আসে।
শিক্ষাঙ্গনে দেশাত্মবোধ না রাজনৈতিক বার্তা?
রাজনৈতিক মহলে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। সমর্থকদের দাবি, এর মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে দেশাত্মবোধ ও সাংস্কৃতিক চেতনা জাগ্রত হবে। অন্যদিকে সমালোচকদের একাংশের মতে, শিক্ষাঙ্গনকে রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত প্রভাবমুক্ত রাখা উচিত।
তবে শিক্ষাবিদদের একাংশ মনে করছেন, ‘বন্দে মাতরম’ কেবল একটি গান নয়, এটি বাংলার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারেরও অংশ। স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস, বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন এবং ভারতীয় জাতীয়তাবাদের সঙ্গে গানটির গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
বর্তমানে রাজ্যের স্কুলগুলিতে গরমের ছুটি চললেও, আগামী সপ্তাহ থেকে বিদ্যালয় খুললেই নতুন নির্দেশ কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
We are in complete agreement with this step. Schools have enjoyed too much holidays and teachers students both need to earn the degree and salary with dedication to the nation. A very good step indeed.~ Suman Munshi, General Secretary AIRA International Reporter’s Association












