ভক্তির সুরে মুখরিত কলকাতা: প্রিন্সেপ ঘাটে অনুষ্ঠিত হল ‘মর্নিং অব ভক্তি’
জপ, হরিনাম সংকীর্তন, গঙ্গায় নৌকাবিহারে কীর্তন ও গঙ্গা আরতিতে আধ্যাত্মিক আবহে উজ্জ্বল রবিবার সকাল
By Antara Tripathy
কলকাতা, ১৪ জুন ২০২৬:
ভক্তি, আধ্যাত্মিকতা এবং ভারতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অপূর্ব মিলনমেলা হয়ে উঠল কলকাতার ঐতিহাসিক প্রিন্সেপ ঘাট। ইস্কন কলকাতার প্রিন্সেপ ঘাট ভক্তি বৃক্ষ (বলদেব গ্রুপ)-এর উদ্যোগে এবং রূপা-র সহযোগিতায় আয়োজিত “Morning of Bhakti – A Day of Devotion, Kirtan & Kripa” অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক ভক্ত, আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব ও সমাজের বিশিষ্টজনেরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানটি ভোর থেকেই ভক্তিময় পরিবেশে শুরু হয় জপ (জপমালা পাঠ), হরিনাম সংকীর্তন, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার আলোচনা, ভক্তিমূলক সংগীত, বৃন্দা গার্ডেনের শিশু ও ভক্তদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, দীপদান এবং গঙ্গা আরতির মধ্য দিয়ে। পুরো পরিবেশ জুড়ে ছিল ভক্তি, শান্তি ও ইতিবাচকতার এক অনন্য আবহ।
গঙ্গার বুকে নৌকায় হরিনাম সংকীর্তন ছিল বিশেষ আকর্ষণ
অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল গঙ্গার বুকে নৌকায় হরিনাম সংকীর্তন, যা উপস্থিত ভক্তদের এক বিরল আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার সাক্ষী করে। এই উদ্যোগ ভারতের সমৃদ্ধ বৈষ্ণব ভক্তি-সংস্কৃতিকে এক অনন্য রূপে তুলে ধরে এবং দর্শনার্থীদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।
উপস্থিত ছিলেন ইস্কনের বিশিষ্ট আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বরা
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইস্কনের একাধিক আধ্যাত্মিক নেতা ও জ্যেষ্ঠ ভক্ত, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- এইচজি মোহন গোবিন্দ প্রভুজি (সার্কেল সার্ভেন্ট লিডার, বলদেব গ্রুপ)
- এইচজি লীলা বিহারিণী মাতাজি
- এইচজি দীন তারণ দাস প্রভুজি
- এইচজি ইন্দিরা সখী ডিডি মাতাজি
- অতুল প্রভুজি
- প্রদীপ প্রভুজি
- কুমকুম মাতাজি
- এবং ইস্কনের অন্যান্য ভক্তবৃন্দ।
শিল্পপতি ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি
এই আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠানে শিল্প ও ব্যবসায়িক জগতের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন:
- রূপা অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড-এর শ্রী কুঞ্জবিহারী আগরওয়াল
- শ্রী সিমেন্ট-এর শ্রী হরি মোহন বাঙ্গুর
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতায় মালদ্বীপ প্রজাতন্ত্রের সম্মানসূচক কনসাল শ্রী রাম কৃষ্ণ জয়সওয়াল, যার উপস্থিতি অনুষ্ঠানের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করে।
“ভক্তি ও ঐক্যের এই উৎসবকে সফল করেছেন সকলেই”
অনুষ্ঠান সম্পর্কে অতুল প্রভুজি বলেন,
“ভক্তি, ঐক্য ও একসঙ্গে চলার এই উৎসবকে স্মরণীয় করে তুলতে যাঁরা আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।”
ভক্তি, সম্প্রীতি ও সমাজসেবার বার্তা
‘মর্নিং অব ভক্তি’ শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানই নয়, বরং এটি ছিল ভক্তি, সম্প্রীতি, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সমাজকে একসূত্রে বাঁধার এক অনন্য উদ্যোগ। আয়োজনটি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আধ্যাত্মিক চেতনা, মানবিক মূল্যবোধ এবং সমাজসেবার আদর্শকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

(IBG NEWS Desk)












