জীবিকা সেবকদের বেতন ও কর্মসুরক্ষার দাবি, বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
কলকাতা, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬: দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করেও নিয়মিত পারিশ্রমিক ও কর্মসুরক্ষার নিশ্চয়তা মিলছে না—এই অভিযোগ তুলে একাধিক দাবিতে সরব হলেন পশ্চিমবঙ্গের জীবিকা সেবকরা। সোমবার কলকাতার মৃৎশিল্প ভবনের সামনে পশ্চিমবঙ্গ জীবিকা সেবক অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য কমিটির উদ্যোগে অবস্থান-বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন সংগঠনের সদস্যরা।
২০০৯-১০ সাল থেকে কাজের দাবি
সংগঠনের দাবি, ২০০৯-১০ সাল থেকে রাজ্যের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় জীবিকা সেবক বা কৃষি প্রযুক্তি সহায়ক হিসেবে তাঁরা কাজ করে আসছেন। কৃষি, প্রাণীপালন, হাঁস-মুরগি পালন এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নেও তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে হয়।
সংগঠনের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত গ্রাম রোজগার সেবকের দায়িত্বও পালন করে আসছেন বহু জীবিকা সেবক। কিন্তু তাঁদের কাজের পরিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নিয়মিত পারিশ্রমিক এবং সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা এখনও নিশ্চিত হয়নি বলে অভিযোগ।
বেতন না পাওয়ার অভিযোগ
অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সভাপতি চন্দন ঘোষ, কার্যকরী সভাপতি মহাদেব মণ্ডল এবং সম্পাদক অপরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর অভিযোগ, বহু জীবিকা সেবক দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না। তাঁদের দাবি, এর ফলে কর্মরতদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আর্থিক পরিস্থিতির উপর চাপ তৈরি হচ্ছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, পারিশ্রমিক সংক্রান্ত দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার কারণে কয়েকজন জীবিকা সেবক চরম মানসিক ও আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন। সংগঠন দাবি করেছে, বেতন না পাওয়ার চাপের কারণে ইতিমধ্যে ১৮ জন জীবিকা সেবক আত্মহত্যা করেছেন। এই দাবির স্বাধীন সরকারি যাচাই বা বিস্তারিত তথ্য এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি।
পাঁচ দফা দাবি
জীবিকা সেবকদের পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারের কাছে মূলত পাঁচটি দাবি তুলে ধরা হয়েছে—
- পুজোর আগেই বাস্তবসম্মত মাসিক পারিশ্রমিক চালু করা।
- ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত কর্মসুরক্ষা নিশ্চিত করা।
- জীবিকা সেবকদের জন্য EPF ব্যবস্থা চালু করা।
- তাঁদের দায়িত্ব ও কাজের নির্দিষ্ট তালিকা প্রকাশ করা।
- অন্যান্য চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের মতো অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা।
দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসানের দাবি
সংগঠনের অভিযোগ, ২০০৯-১০ সালে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পর থেকে জীবিকা সেবকদের জন্য নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো, স্থায়ীকরণ এবং PF বা ESI-এর মতো সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করার পরও তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গিয়েছে বলে সংগঠনের দাবি।
এদিনের কর্মসূচি থেকে রাজ্য সরকারের কাছে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আবেদন জানানো হয়।
সংগঠনের দাবি, তাঁদের দাবিগুলি দ্রুত বিবেচনা করে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে রাজ্যের প্রায় ৯৩২ জন জীবিকা সেবক বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবেন।
তবে এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে জীবিকা সেবকদের এই দাবিগুলি নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
By Antara Tripathy
IBG NEWS BANGLA

















