বাড়িতে থেকেই করোনা চিকিৎসার জন্য টেলি মেডিসিন সুবিধার ব্যবস্থা আইআইটি খড়গপুরের
By PIB Kolkata
কলকাতা , ০২ অক্টোবর, ২০২০
কোভিড-১৯ মহামারীর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর নানারকম সমস্যার মধ্য দিয়ে সারা বিশ্ব লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এই লড়াই চালিয়ে যেতে যেতে বছরের অর্ধেক সময় কেটে গেছে। সময় অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত এর কোনো টিকা পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে স্বাস্থ্য সেবা কর্মীদের সংক্রমণের আশঙ্কা অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবার ওপর ক্রমশই চাপ বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই সমস্যার সমাধানে আইআইটি খড়গপুরের কম্পিউটার সায়েন্স এবং ইঞ্জিনিয়ার বিভাগের গবেষকরা “আইমেডিক্স” নামে একটি টেলি মেডিসিন ব্যবস্থাপনা তৈরি করেছেন।
এই ব্যবস্থায় হাসপাতাল থেকেই বাড়িতে যত্ন সহকারে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। মহামারীর কারণে উদ্ভুত প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করে রোগীদের দোরগোড়ায় চিকিৎসকদের সু-পরামর্শ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। এই ব্যবস্থাপনার সুবিধা পাওয়া যাবে যেকোমোরকম ইন্টারনেট ব্রাউজার এবং মোবাইল থেকে।
এই ব্যবস্থাপনায় এজন রোগী তার ই-মেল আইডি ও তার মোবাইল নম্বর দিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারবেন। তার পরে রোগী হাসপাতালের বিভাগ নির্বাচন করে তাঁর প্রয়োজনীয়তার কথা জানাতে পারবেন। প্রয়োজন হলে তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য স্ক্যান করে তা আপলোড করতে পারবেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শের জন্য অনুরোধ করতে পারবেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অনুরোধটি বাছাই করে চিকিৎসকের পাঠিয়ে দেবেন। লগইন করার পরে চিকিৎসক রোগীর জন্য সাক্ষাতের তারিখ ও সময় নির্ধারণ করে ই-মেল ও এসএমএস-এর মাধ্যমে রোগীর কাছে তা পাঠিয়ে দেবেন। নির্ধারিত দিনে চিকিৎসক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রোগীর সঙ্গে পরামর্শ করবেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ লিখে তা রোগীকে তা ই-মেলের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেবেন। রোগী তার অ্যাকাউন্ট থেকে নির্ধারিত ওষুদের প্রেসক্রিপশন ডাউনলোড করতে পারবেন।
গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক জয়েন্ত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, হোম আইসোলেশন এবং হোম কোয়ারেন্টাইনের সংখ্যা যত বৃদ্ধি পাবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এর প্রয়োজনীয়তা ততই বাড়বে। বয়স্ক রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থাপনা বিশেষ সাহায্য করবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
আইআইটি খড়গপুরের অধিকর্তা অধ্যাপক ভি.কে. তিওয়ারি বলেছেন, এপ্রিল মাসে কোভিড চিকিৎসার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য পরিষেবায় ৮টি গবেষণা ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। তার মধ্যে অন্যতম হল এই টেলি মেডিসিন প্রকল্প। মূলত নিজেদের প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখেই এই প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, যখন থেকে আইআইটি ক্যাম্পাসে পুরোদমে কাজ শুরু হবে তখন শিক্ষার্থী সহ ৩০,০০০ মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবায় এই ব্যবস্থা বিশেষ প্রয়োজনীয় হয়ে উঠবে। এই প্রযুক্তি স্বাস্থ্য সেবা কর্মীদের ওপর চাপ লাঘব করতে সাহায্য করবে। তিনি বলেন, শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ক্যাম্পাসে স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষেত্রে কার্যকরিভাবে এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বিশেষ সাহায্য করবে। এই ব্যবস্থায় শুধুমাত্র চিকিৎসকদের জন্য ইউজার অ্যাকাউন্ট তৈরি করা হয়েছে, যাঁরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সুবিধে মতো বাড়িতে রোগীদের কাছে পরামর্শ পৌঁছে দিতে পারবেন।
গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে আজ এই সফটওয়ারটির উদ্বোধন করা হয়। এই ক্যাম্পাসের বাসিন্দাদের পাশাপাশি কর্মচারীদের জন্য ডাঃ বি.সি. রায় প্রযুক্তি হাসপাতালের সাহায্যে জরুরি ভিত্তিক স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন এই হাসপাতালের মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডাঃ সমীর দাশগুপ্ত।
উপ অধিকর্তা অধ্যাপক এস.কে. ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, হাসপাতালে বহু সংখ্যক ওপিডি রোগী আসেন। এই পরিষেবা চালু হওয়ার ফলে এক্ষেত্রে তাঁদের সুবিধা মিলবে। তাঁদেরকে আর হাসপাতালে আসতে হবে না। তিনি বলেন, এই ক্যাম্পাসের অনেক শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে আসার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। সেক্ষেত্রেও অনেক সুবিধা মিলবে এবং তাঁদের সময় হ্রাস পাবে।
অধিকর্তা তিওয়ারি জানিয়েছেন, প্রযুক্তির প্রসার ঘটিয়ে এই ক্যাম্পাসের বাইরে থাকা লোকেদেরও আইআইটি খড়গপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সুবিধা প্রদান করার পরিকল্পনা রয়েছে। গবেষকরা ইতিমধ্যে এই প্রক্রিয়াটির বাণিজ্যিকীকরণের জন্য স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগ সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য ভবনে ট্রায়াল ভিত্তিতে এর একটি বেস মডেল প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশে তৃণমূল স্তরে এই বেস মডেল নিয়ে কাজ চলছে।













