গ্রাম বাংলার মফঃস্বল শহর থেকে কানাডার কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং ফিজিক্স অ্যাস্ট্রোনমির অধ্যাপক রাজিবুল ইসলাম।
অরূপ মিত্র
সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বলতে যখন শিক্ষার অভাব প্রকট হয়ে ওঠে তখন এপিজে আব্দুল কালাম ভেসে ওঠেন চোখের সামনে উজ্জ্বল তারা হয়ে। আর সেই তারার পথেই উঠে এলো মেদিনীপুরের হলদিয়ার চকদ্বীপা হাইস্কুলের প্রাক্তনী রাজিবুল ইসলামেরে নাম।
হতাশা যখন বাংলার শিক্ষার আকাশ কে ঢেকে ফেলেছে ঠিক তখন যে গুটিকয় মানুষ বলে হতাশ হয়না আমি আছি , এগিয়ে চলো ভাই!!
সুদূর কানাডা থেকে নাড়ির টানে মাঝে মাঝে পড়াতে আসেন হলদিয়ার নিজের স্কুলে। কিন্তু কে তিনি?
ইনি গত ২০০০ সালে পশ্চিম বাংলায় মাধ্যমিকে প্রথম হয়েছিলেন, বর্তমানে একজন গবেষক বিজ্ঞানী।
কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়ে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং ফিজিক্স অ্যাস্ট্রোনমির অধ্যাপক।
সেটা ২০০০ সাল। মাধ্যমিক পরীক্ষায় রেজাল্ট বের হতেই মেদিনীপুরের হলদিয়ার চকদ্বীপা হাইস্কুল খবরের শিরোনামে। রাজিবুল ইসলাম নামে এক ছাত্র এই স্কুল থেকে মাধ্যমিকে রাজ্যের মধ্যে প্রথম হন। তারপর নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন হয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে এখন কানাডার ওয়াটারলু বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও ফিজিক্স অ্যাস্ট্রোনমিতে। এবার নিজের স্কুলের পড়ুয়াদের উদ্বুদ্ধ করতে শিক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে হাতেকলমে পদার্থ বিজ্ঞানের তালিম দিলেন গবেষক অধ্যাপক রাজিবুল ইসলাম।
রাজিবুল ইসলাম কানাডার ওয়াটারলু বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ান্টাম কম্পিউটিং অ্যান্ড ডিপার্টমেন্ট অফ ফিজিক্স অ্যাস্ট্রোনমির অধ্যাপক বিজ্ঞানী। কিন্তু শিকড়ের টান তার থেকেই গেছে। তাই ফিরে আসেন বারবার নিজের স্কুলে।
চকদ্বীপা হাই স্কুলের বিবেকানন্দ প্রেক্ষাগৃহে অনুষ্ঠিত বিজ্ঞান শিক্ষা ও উদ্বুদ্ধকরণ শিবিরে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি । সঙ্গে ছিলেন পদার্থ বিজ্ঞানের দুই অধ্যাপক কাঁথি প্রভাত কুমার কলেজের প্রদীপ্ত পঞ্চধ্যায়ী , কৌশিক নন্দ এবং বিজ্ঞান সঞ্চারক ভবানীচক অঘোরচাঁদ হাই স্কুলের পদার্থবিদ্যার শিক্ষক শ্রেয়াম জানা। সীমাবদ্ধতা ভুলে সম্ভাবনার বিষয়ে ছাত্রছাত্রীদের বেশি করে ভাবার পরামর্শ দিলেন তিনি । ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যে ছেলেটি লেখাপড়ায় ভাল। তার সঙ্গে সঙ্গে পাড়ার ইলেক্ট্রিকের দোকানে অথবা লেদে কিংবা পাড়ার সাইকেল, মোটর সাইকেল দোকানে কাজ করে। সে অনায়াসেই অসুবিধা দূর করে সারিয়ে দেয়। আমাদের এই রকম ছেলে দরকার, যারা কিনা বই পড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাতেনাতে কোনও সমস্যার যুক্তিনির্ভর সমাধান অনায়াসে করতে পারে।’
এছাড়াও তিনি বলেন, ”এই রকম শিবির চালিয়ে যেতে হবে। উদ্ভাবনী হতে গেলে নিজেকে প্রশ্ন করে খুঁজতে হবে নতুন নতুন যুক্তি। যা একটা বহমান প্রক্রিয়া। কোয়ান্টাম ফিজিক্সের বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন তিনি। তিনি বলেন এই পদ্ধতিতে শূন্যস্থানের মধ্যে আয়নিত পরমাণুকে বন্দি করে লেজার রশ্মি দিয়ে তাকে পরমশূন্য তাপমাত্রায় ঠান্ডা করে ব্যবহার করা হয়। কোয়ান্টাম ধর্ম।”
বিজ্ঞান শিক্ষার গুরুত্বের কথা বুঝিয়ে বলেন। দর্শকাসনে তখন শয়ে শয়ে ছাত্রছাত্রী। এছাড়া ছিলেন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। শিক্ষক শিক্ষিকা সহ ছাত্রছাত্রীরা মন্ত্রমুগ্ধের মতো হয়ে শুনছিলেন একদা এই স্কুলের প্রাক্তনি বর্তমানে বিজ্ঞানী ও অধ্যাপক রাজিবুল ইসলামের বক্তব্য।চকদ্বীপা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মণিশঙ্কর গিরি বলেন, ‘রাজিবুলবাবু ইঞ্জিনিয়ার কিংবা সফল ডাক্তার হতে পারতেন। কিন্তু মৌলিক বিজ্ঞানের টানে আজকে এতদূর এগিয়েছেন। যা বিদ্যালয়ের বর্তমান ছাত্রছাত্রীদের কাছে শিক্ষণীয়। বিজ্ঞান শিক্ষা ও উদ্বুদ্ধকরণ শিবিরে প্রধান অতিথি হিসেবে রাজিবুল ইসলাম এর উপস্থিতি ছাত্র-ছাত্রীদের মনে আলাদা প্রেরণা যোগাবে।’
স্যালুট জানাই বাংলার কৃতি বিজ্ঞানী ও অধ্যাপক রাজিবুল ইসলামকে।
আইবিজি নিউজ স্যালুট জানায় আপনাকে আর এই লেখার লেখক অধ্যাপক অরূপ মিত্র কে, বাংলার পথে ঘটে ছড়িয়ে থাকা মনি মুক্ত কে খুঁজে বের করার জন্য ।

অরূপ মিত্র পেশায় অধ্যাপক অংকের , পড়াশুনা বিলেতের কাউভেনট্রি বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে । নেশা মানুষ খুঁজে বেড়ান , সমাজ কল্যাণ করা। আসুন অরূপের পাশে দাঁড়িয়ে এই সমাজে কিছু ছাপ রেখেও যাই ।












