Saturday, September 19, 2026
WA
Home Bangla উচ্চতর সচেতন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মানুষের অদ্ভুত ভবিষ্যত

উচ্চতর সচেতন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মানুষের অদ্ভুত ভবিষ্যত

0
1037
Artificial Intelligence
Artificial Intelligence

উচ্চতর সচেতন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মানুষের অদ্ভুত ভবিষ্যত
পাভেল  চ্যাটার্জী, বহুজাতিক  সংস্থার  আধিকারিক ও তথ্য প্রযুক্তিবিদ

       Artificial Intelligence কথাটা এখন সর্বক্ষেত্রেই আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এটাকে একটা নতুন শিল্পবিপ্লব বলা উচিত। শিল্পবিপ্লব মানেই শিল্পক্ষেত্রেএবং সামাজিক ক্ষেত্রে একটা বড় আকারের পরিবর্তন ঘটে যাওয়া। চিরাচরিত পদ্ধতিগুলোতে আমূল পরিবর্তন আসা। এ পর্যন্ত পৃথিবীতে তিনবার শিল্পবিপ্লব ঘটেছেবলে ধরা হয়। প্রথম শিল্পবিপ্লব ঘটেছিল ইংল্যান্ডে, এর সময়কাল 1760-1840 সাল পর্যন্ত। চিরাচরিত কৃষি, শিল্প, বানিজ্যের আমূল পরিবর্তন ঘটল সেই প্রথম। মেকানিক্যাল  ইঞ্জিনিয়ারিং এর উন্নতির সাথে সাথে যন্ত্রের উন্নতির যুগের সূচনা হলো এবং তা হলো  এক  প্রবল প্রতিভাবান  মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার বিজ্ঞানী জেমস্ ওয়াটের হাত ধরে।
      এরপর দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লব হচ্ছে বিদ্যুতের ব্যবহার এবং তা এলো 1870 সালের দিকে।  বাষ্পের মেকানিক্যাল শক্তি এর আগে মানুষ দেখে নিয়েছে, এইবার এলো বিদ্যুত। জীবনযাপন অনেক সহজ হয়ে গেল।
       1969 সালে আবার একটা নতুন শিল্পবিপ্লব এলো।  এটাকে বলা হলো ডিজিটাল শিল্পবিপ্লব। এর মূল ক্ষেত্র  হলো তথ্যপ্রযুক্তির জগতে বিরাট এবং এক অভাবনীয় অগ্রগতি। তথ্যের সংরক্ষণ, আদানপ্রদান, মত বিনিময়, ভাবনার প্রকাশ সবেতেই চলে এলো তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার। অর্থাৎ পুরো পৃথিবী যেন চলে এলো হাতের মুঠোয়।
      এই তিনটি শিল্পবিপ্লবের পর, এখন আরেকটা শিল্পবিপ্লব আসছে, এটাই হচ্ছে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব। এই শিল্পবিপ্লব নিয়ে আসছে  চেতনাযুক্ত  উচ্চতর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও  মানবসম্পদের বিকল্প হিসেবে রোবটের ব্যবহার করার যুগ ।World Economic Forum এ ইতিমধ্যেই আলোচিত হয়েছে  ন্যানো রোবোটস ,shaped shift robots এবং চেতনাযুক্ত কৃত্রিম  বুদ্ধিমত্তা ( conscious AI) মতো বিষয়গুলি নিয়ে। এ আই যে এক যুগান্তকারী প্রযুক্তিগত নির্মাণ এতে সন্দেহ নেই।  দেখা যাক superior  conscious  AI বা উচ্চতর সচেতন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার  দৌলতে মানুষের  ভবিষ্যত  কি হতে চলেছে ।
        প্রযুক্তির ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আবির্ভাবের সাথে এখন অনেক  কাজ এ আই চালিত ডিভাইস  দ্বারা স্বয়ংক্রিয় করা হয়েছে বা হচ্ছে , কিন্তু সেই সমস্ত অটোমেশন সাধারণ বুদ্ধিমান বা করণিক ধরণের কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে ।
কিন্তু ‘সুপিরিয়র কনশাস আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট’ বা উচ্চতর সচেতন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সুসজ্জিত ডিভাইস এবং রোবটের আবির্ভাবের ফলে একদিকে যেমন মানবজাতির ভবিষ্যতে অভূতপূর্ব সম্ভাবনা দেখা যায় , অন্যদিকে তেমনই একই সময়ে সম পরিমাণে দুর্ভাবনার কথা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না ।সুতরাং নিঃসন্দেহে মানুষের ভবিষ্যত যে অনিশ্চিতভাবে সম্ভাবনা এবং দুর্ভাবনার মধ্যে ঝুলছে তা নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়।
                  বলা হচ্ছে যে 2040 সালের মধ্যে চেতনায় সজ্জিত সুপার ইন্টেলিজেন্ট এআই বিশ্বকে বদলে দেবে এবং কৃত্রিম চেতনা সম্পন্ন বুদ্ধিমান ডিভাইস এবং রোবট এখনকার চেয়ে বহুকোটি  গুণ বেশি বুদ্ধিমান হবে। সুপার ইন্টেলিজেন্ট সচেতন AI এমন কিছু প্রযুক্তি আনবে যা আগে সম্ভব হতো না এবং প্রযুক্তিগত ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি এখনকার চেয়ে 1000 গুণ বেশি দ্রুত হবে যা মানুষ আগে কখনও দেখেনি ।বলা হচ্ছে যে প্রতি মিনিটে এই সচেতন  এ  আই  পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও মেডিক্যালের মতো বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে NOBEL prize  পাওয়ার সমকক্ষ  আবিষ্কার করবে ।
প্রতি 5 মিনিটে তারা প্রযুক্তিগত এবং বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে নতুন উদ্ভাবনের জন্য ব্লু প্রিন্ট তৈরি করতে পারবে যা মানুষ আগে করতে অক্ষম ছিল এবং তা  তৈরি করতে এখনকার মানুষের 100 বছর সময় লাগত। 
          এটিকে আমরা  প্রযুক্তিগত এবং বৈজ্ঞানিক এককতা বা singularity  বলতে পারি যখন প্রযুক্তিগত এবং বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রের বৃদ্ধি অনিয়ন্ত্রিত এবং অপরিবর্তনীয় হয়ে ওঠে যার ফলস্বরূপ বর্তমানে যা অসম্ভব প্রযুক্তি যেমন প্রোগ্রামেবল ম্যাটার, অ্যান্টিম্যাটার চালিত স্পেস ক্রাফট, পোর্টেবল নিউক্লিয়ার ফিউশন ডিভাইস ইত্যাদি তখন প্রযুক্তিগত ভাবে সম্ভব  হবে।
                ভবিষ্যতে আকৃতি পরিবর্তন যুক্ত রোবট ( shape shift robot)  এবং  বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর মানব এর মতো রোবট বা হিউম্যানয়েড আবির্ভাব হবে      যারা  সত্যিকারের মানুষের মতো চিন্তা, ভাবনা ও কাজ করতে পারবে । এই রোবটগুলি  নতুন পরিস্থিতিতে সমান ভাবে কর্মশীল হবে ও  বাস্তব সময়ে আরও বেশি পরিবর্তনশীল সমস্যা সমাধান করতে   সক্ষম হবে।  এই সচেতন  এআই পদার্থবিদ্যা, রসায়ন এবং অন্যান্য বিজ্ঞানের জটিল বিষয়গুলির  সংশোধন করতে পারবে ।  এই সচেতন এআই-এর সাহায্যে আমরা হয়তো আলোর চেয়ে দ্রুত ভ্রমণ করতে পারব, কৃত্রিম অ্যান্টিগ্রাভিটি তৈরি করতে পারব এবং স্থান সময়ের হেরফের করতে পারব।
            এই সময় অর্থাত 2040 সাল নাগাদ সুপিরিয়র সচেতন AI বেশিরভাগ পেশায় মানুষের চেয়ে বেশী দক্ষতার  সাথে কাজ  করতে পারবে এবং প্রাথমিকভাবে তারা মানবসম্পদ, গ্রাহক পরিষেবা, অর্থ, টেলিযোগাযোগ, শিক্ষা ইত্যাদি সহ  সমস্ত পরিষেবা শিল্পের প্রায় সমস্ত বিভাগে মানুষের বিকল্প  হিসাবে কাজ  করবে এবং তা সমাজে গ্রহণ যোগ্য হবে ।  এমনকি এই চেতনাযুক্ত  এ আই বেশিরভাগ পেশাদার লেখকের চেয়ে ভাল উপন্যাস এবং চিত্রনাট্য লিখতে পারবে।পৃথিবীর  সমস্ত  দেশই দ্রুত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অভিজ্ঞতা লাভ  করবে যা আগে সম্ভব  ছিল না ।
         ব্যাংকিং এবং বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে অনেক করণিক ধরনের পরিষেবা, এখন  ইতিমধ্যেই এআই ছাড়াই স্বয়ংক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং সুপিরিয়র সচেতন এআই-এর আবির্ভাবের সাথে সাথেই প্রায় সমস্ত পরিষেবা এবং মাইক্রো পরিষেবাগুলিও সম্পূর্ণরূপে স্বয়ংক্রিয় হয়ে যাবে৷
          আমাদের আইন ও বিচার ব্যবস্থায় সচেতন এআই-এর গভীর প্রভাব পড়বে। এখনও পর্যন্ত বিচার ব্যবস্থার কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনলাইনে পরিচালিত হলেও আইন ও বিচার বিভাগে তথ্যপ্রযুক্তির তেমন প্রভাব পড়েনি। কিন্তু সচেতন এআই-এর আবির্ভাবের সাথে সাথেই বিচার ব্যবস্থার বিভিন্ন কাজ যেমন ট্রায়াল, পিটিশন, জাজমেন্ট এবং শাস্তি দেওয়া রোবটের মতো সচেতন এআই সজ্জিত ডিভাইস দ্বারা সম্পাদিত হবে। এটি হতে পারে যে একটি বিভাগীয় বেঞ্চ গঠনে সচেতন এআই ডিভাইসের প্রতিনিধিত্ব থাকবে এবং ভবিষ্যতে প্রধান বিচারপতিদের সুপিরিয়র সচেতন এআই সজ্জিত রোবট থেকেই নিয়োগ করা হবে।  
           যেহেতু এই সময়ে সচেতন এআই-এর মানুষের  মতো একই স্তরের আত্মসচেতনতা,  জীবিত থাকার অনুভূতি থাকবে , তাই সচেতন এআই-কে  অনেক দেশে মানুষের সমতুল্য আইনী অধিকার এবং সুরক্ষা দেবে । তখন থেকেই  তারা আইনজীবী, বিচারক, ম্যাজিস্ট্রেট ইত্যাদি হিসেবে দেশের বিচার ব্যবস্থায় অংশ গ্রহণ করতে পারবে  ।
         এই সময়ে চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রথমে সহায়ক পরিষেবাগুলি মাঝারি সচেতন AI সজ্জিত ডিভাইস বা রোবটের দ্বারা পরিচালিত  করা হবে, যেমন ক্যান্সার ইত্যাদি জটিল চিকিৎসা পরিস্থিতির প্রাথমিক সনাক্তকরণ সহ বিভিন্ন উপাদানের নির্ণয়, মেডিকেল রিপোর্ট বিশ্লেষণ, রোগীদের জন্য ওষুধের প্রেসক্রিপশনগুলি  কাস্টমাইজ করা, সাধারণ অস্ত্রোপচার,নুন্যতম হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি উন্নত সচেতন এআই যুক্ত  রোবটের  দ্বারা  সম্ভব  হবে।এমনকি ফেজ শিফট রোবটের সাহায্যে এর পর  জটিল সার্জারিও সম্ভব পর হবে ।
    বলা হচ্ছে 2050 সাল নাগাদ   ইন্ডাস্ট্রিয়াল এবং ম্যানুফ্যাকচারিং ফিল্ডে সচেতন এআই মানুষের থেকে সমস্ত কাজ দখল করবে। শিক্ষা ক্ষেত্রে মানুষ মানুষের চেয়ে এআই সজ্জিত শিক্ষক এবং অধ্যাপকদের  বেশি  পছন্দ করবে।

2050 – 2080 সালে সচেতন এআই

গবেষণার  অগ্রগতি থেকে এখন বলা যায় যে 2050 থেকে 2080 সালের মধ্যে  সচেতন AI সজ্জিত ভার্চুয়াল প্রাণীরা ভার্চুয়াল পরিবেশে উপলব্ধ হবে তাদের একটি নিজস্ব মানবিক স্তরের আত্মসচেতনতা এবং বিস্তৃত আবেগ অনুভব করার ক্ষমতা থাকবে।এছাড়া এই সচেতন  এ আই সজ্জিত  ‘virtual মন’ রোবটের মধ্যে আপলোড করা হবে, ও  এই উন্নত মানবিক রোবটগুলি 100% মানুষের মতো দেখতে হবেএবং অনুভুতি থাকবে । তারা মানুষের মতো কাজ করতে সক্ষম  হবে এবং শেষ পর্যন্ত মানুষ এমন একটি পৃথিবীতে বাস করবে যেখানে আমাদের  জীবন ধারনের জন্য  মানুষের  মতো রোবটের  সাথেও আরও অর্থবহ  কথোপকথন করতে হবে। 
সেই যুগে বেশিরভাগ মানুষের সচেতন ভার্চুয়াল সহায়তা ( virtual assistant) থাকবে এবং এই ভার্চুয়াল সহায়তাগুলি যে কোনও সেলিব্রিটি বা ব্যক্তির মতো দেখতে হবে।  যেমন বাবা, মা, ভাই ইত্যাদি এবং তাদের সঠিক কণ্ঠস্বর এবং ব্যক্তিত্ব এবং অনুভূতি যুক্ত হবে ।সেগুলি স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।এছাড়াও স্মার্ট ঘড়ি, স্মার্ট স্পিকার , মস্তিষ্কের কম্পিউটার ইন্টারফেস (সিন্থেটিক মস্তিষ্কের সাথে)মাধ্যমেও  তাদের নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
                  তারা এতটাই বাস্তববাদী হবে যে তারা যে কোনও পাবলিক প্লেসে হাঁটতে পারবে এটা না জেনেও যে তারা রোবট। তাদের বাস্তববাদী চেহারা এবং অনুভূতির কারণে মানুষ এই রোবটগুলিকে বিয়ে করতে শুরু করবে ও  মানুষ তাদের পুরো পরিবার রাখার জন্য রোবট শিশুদের  দত্তক নেবে। এই সময়ে অতীতের স্বনামধন্য শিল্পী , বিজ্ঞানী, দার্শনিকদের কৃত্রিমভাবে বুদ্ধিমান ভার্চুয়াল প্রাণী বা মানবিক রোবট ( হিউম্যানয়েড) হিসাবে পুনর্গঠন করা যাবে ।
                      এই বুদ্ধিমান ভার্চুয়াল  প্রাণীগুলিকে কোম্পানির পরামর্শদাতা এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জন্য ভার্চুয়াল পরামর্শদাতা হিসাবে  নিয়োগ করা হবে ।মানুষ  তখন প্রায় মেশিনে পরিণত হবে কারণ নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখার জন্য তাদের সচেতন AI সজ্জিত হিউম্যানয়েড রোবটের সাথে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ  হতে হবে। প্রকৃতপক্ষে, কয়েক দশকের মধ্যে  এই উচ্চতর সচেতন কৃত্রিম এ আই যুক্ত হিউম্যানয়েডগুলি দেখতে এবং কাজ করতে পারবে যা মানুষের থেকে সম্পূর্ণরূপে আলাদা নয় ।কারণ মানুষ তাদের সমস্ত শারীরিক আবেগ,গন্ধ, স্বাদ  দিয়ে তৈরী করবে। 

     এই সচেতন AI যুক্ত হিউম্যানয়েড নিজেদের উপলব্ধি করার ক্ষমতা থাকবে ও মানুষ তাদের সাথে একই স্তরের চেতনায় যুক্ত হয়ে বসবাস শুরু করবে।
      সচেতন AI চাকরির বাজারে আধিপত্য শুরু করবে, এবং তারা সন্তোষজনক  ভাবে  মানুষ যে কাজগুলি সম্পাদন করতে পারে তার 95% সম্পাদন করতে সক্ষম হবে। সৃজনশীল কাজ, গ্রাহক পরিষেবা, প্রোগ্রামিং, ড্রাইভিং, ভার্চুয়াল ডাক্তার, ভার্চুয়াল আইনজীবী, বিচারক ইত্যাদি জড়িত বেশিরভাগ চাকরিতে এই সচেতন এআই সজ্জিত রোবটদের প্রাধান্য  থাকবে।
          এই সময়ে তারা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিতে আধিপত্য বিস্তার করবে,  যেখানে সাধারণত বিক্রয়, বিপণন, মানব সম্পদ এবং সমস্ত ধরণের white colour job বা চাকরির মতো চমৎকার লোক চালানোর দক্ষতার বা social skill এর প্রয়োজন হয়। এই সচেতন  এআই  যুক্ত  হিউম্যানয়েডদের প্রধান সুবিধা  হল যে তারা  একই সময়ে একাধিক কাজ করতে সক্ষম হবে এবং এগুলি মানুষের চেয়ে শুধু ব্যবহার করা সস্তা হবে তাই নয়, তারা ক্লান্ত না হয়েও 24X7 কাজ করতে পারবে ।
শীঘ্রই, তারা সিএফও, সিইও, ডিরেক্টরদের পদ দখল করবে যাতে তারা ব্যবসা চালাতে পারে এবং তারা সরাসরি মানুষের নিয়োগ ও ছাটাই করতে পারে। সেই সময় সচেতন এআই রোবটদের দ্বারা ভাড়া করা এবং চাকরিচ্যুত করা আমাদের সমাজে একটি স্বাভাবিক ঘটনা হবে ।

ডিজিটাল ক্লোন

        বলা হচ্ছে যে ঠিক এই সময়েই  মানুষ  AI এর সাহায্যে মানুষের ক্লোন করতে সক্ষম হবে  এবং যে কোনও ব্যক্তির চেহারা, কণ্ঠস্বর, ব্যক্তিত্ব এবং আচরণের প্রতিলিপি করতে সক্ষম হবে । মানুষের কাছে তখন সর্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী, দার্শনিক এবং শিল্পীদের ডিজিটাল ক্লোন থাকবে। মানুষ আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুদের মৃত্যুর পরেও ডিজিটাল ক্লোনের সাথে কথোপকথন করতে সক্ষম হবে । এবং কিছু ক্লোন হবে চেতনাযুক্ত রোবট।
               যে কোন ব্যক্তির  ডিজিটাল ক্লোন হওয়ার জন্য আমাদের সেই ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের  পর্যাপ্ত ভিডিও ফুটেজ, অডিও ক্লিপ দরকার এবং  অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নড়াচড়া, অঙ্গবিন্যাস, আবেগ এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ধরা   মস্তিষ্কের সংকেত দরকার  হবে এবং তা পূর্বে সংরক্ষিত ক্লাউডের থেকে নেওয়া হবে । বহু দশক পরে হয়তো এই  ডিজিটাল ক্লোন এতো নিখুঁত হবে যে আসল মানুষের থেকে ক্লোনকে হয়তো আর  আলাদা করা যাবে না।অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথের  ডিজিটাল  ক্লোন একদম মানুষ  রবীন্দ্রনাথই হবে।
             
এআই এবং বিনোদন শিল্প

         উচ্চতর সচেতন এআই  এর সাহায্যে  অদূর ভবিষ্যতে ভিডিও গেমগুলিতে অটো-জেনারেটেড শারীরিক চেহারা, গভীর ব্যক্তিত্ব এবং জীবনের গল্প সহ নন প্লেয়েবল্ চরিত্র ( non playable  character) চিত্রিত করা হবে, এই চরিত্রগুলি ক্লাউডে রিয়েল টাইম ডিপ লার্নিং অ্যালগরিদমের সাহায্যে খুবই বাস্তবিক , সংক্ষিপ্ত এবং অনির্দিষ্ট কথোপকথন বজায় রাখতে সক্ষম  হবে ।
         তাই সেই  সময় সচেতন এআই-এর সাহায্যে সিনেমাগুলি অত্যন্ত  দ্রুত তৈরি করা সম্ভব হবে এবং সেই সময়  সিনেমা নির্মাণ ও নির্মাণ ব্যবস্থাকে স্বয়ংক্রিয় করা হবে। মানুষ সচেতন এআই এর  সহযোগিতায় মস্তিষ্ক- কম্পিউটার ইন্টারফেসের দ্বারা শুধুমাত্র চিন্তার মাধ্যমে ছবি এবং ভিডিও তৈরি করতে সক্ষম হবে। অর্থাৎ  তখন মানুষ চিন্তাকে ভিডিওতে রূপান্তর করতে সক্ষম হবে এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সাথে একীভূত হয়ে উন্নত বিনোদন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবে। এই প্ল্যাটফর্মগুলি ব্যক্তিগতকৃত ও  বাস্তবসম্মত ভার্চুয়াল সিনেমা এবং চলচ্চিত্র তৈরি করতে সক্ষম হবে যা এতটাই ব্যক্তিগতকৃত হতে পারে যে এটি তাদের ব্যক্তিগত পছন্দ, মানসিক চিন্তাভাবনা, রিয়েল টাইম মোডে মনোবিজ্ঞানের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হবে যা চলচ্চিত্রের অগ্রগতির সাথে সাথে প্রতি মুহূর্তে  ব্যক্তির মনের  পরিবর্তন অনুযায়ী পরিবর্তিত  হবে । । সুতরাং কোন অভিনেতা বা অভিনেত্রীর আর  প্রয়োজন হবে না। এই সময় কিছু মানুষ এই সমস্ত ভার্চুয়াল  কিন্তু  বাস্তবসম্মত এবং ব্যক্তিগত চলচ্চিত্রগুলি পর্যবেক্ষণ করতে সপ্তাহ বা মাস ধরে ঘরে থাকতে পছন্দ করবে।

সচেতন এআই এবং ন্যানো প্রযুক্তি

2060 — 2070 সাল নাগাদ,   ন্যানোটেকনোলজির ক্ষেত্রে অতি সচেতন AI এর সাহায্যে  অভূতপূর্ব অগ্রগতি হবে। এই সময়ে ন্যানো-ফ্যাক্টরিগুলিতে  কৃত্রিম মানবের    অঙ্গ সহ যে কোনও ধরণের পণ্যের পরমাণু তৈরি করা  হবে। ন্যানোপার্টস সচেতন AI এর সাহায্যে ন্যানো রোবট তৈরি করতে সক্ষম হবে এবং এই ন্যানো রোবট মানুষের মস্তিষ্ককে ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত করবে যাকে আমরা   ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস বলি । এই ন্যানো রোবট মানুষকে এআই- উৎপন্ন করা টেক্সট, ছবি এবং   ভিডিওগুলিতে সরাসরি অ্যাক্সেস দেবে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ও  ভবিষ্যতের ইভেন্টগুলির অনুকরণ বা বাস্তবায়নে সাহায্য করবে ।

                    সচেতন সুপিরিয়র এআই  এর দ্বারা   মানুষ  আকৃতি পরিবর্তনকারী ন্যানো রোবট তৈরি করতে সক্ষম হবে এবং 2070 সালের মধ্যে আমরা সর্বত্র ন্যানো রোবট দেখতে  পাবো। উত্পাদন শিল্প, নির্মাণ, খনি এবং বিপজ্জনক রাসায়নিক কারখানাগুলি শেষ পর্যন্ত আকৃতি পরিবর্তনকারী ন্যানো রোবট দ্বারা পরিচালিত হবে। 

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং সচেতন এআই

         সচেতন  এ আই  এর মাধ্যমে মানুষের  জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর ক্ষেত্রে প্রভাব সুদূর প্রসারী। জেনেটিক  ইঞ্জিনিয়ারিং  এবং ন্যানো প্রযুক্তির ক্ষেত্রে  সচেতন এআই-সক্ষম অগ্রগতির সাহায্যে মানুষের বার্ধক্যকে বিলম্বিত করা সম্ভব হবে।  এই সময়ে ন্যানো ফ্যাকটরিতে তৈরী  কৃত্রিম অঙ্গগুলি মানুষের আসল ও পুরানো অঙ্গগুলিকে প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম হবে। এই প্রতিস্থাপন যুক্ত  কৃত্রিম  অঙ্গগুলির সাহায্যে এবং অন্যান্য পদ্ধতির মাধ্যমে মানুষ  অমরত্ব লাভ করবে ও উচ্চতর  মানুষে পরিণত  হবে। আগেই বলা হয়েছে যে ন্যানো যন্ত্রাংশের সাহায্যে মানুষের বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে ধীর করা হবে ।  ধরা যাক একজন মানুষের সেইসময় 30 বছর বয়স পর্যন্ত বেড়ে ওঠবে এবং তারপর আরও 500 বছরের জন্য বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে বন্ধ করা হবে। এই সময়ে AI এর সাহায্যে মানুষ অনেক দ্রুত প্রসেসিং স্পিড এবং মেমরি সহ সিন্থেটিক ব্রেন তৈরি করতে সক্ষম হবে এই সিন্থেটিক ব্রেন মানুষের দ্রুত চিন্তা করার ক্ষমতা বাড়াবে এবং কম্পিউটারের সাথে  ইন্টারফেস খুব মসৃণ হবে যা  ইতিমধ্যেই ব্রেন কম্পিউটার ইন্টারফেস হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সবশেষে সম্ভবনা  ও  দুর্ভাবনা  

           2100 সালের মধ্যে কৃত্রিম মস্তিষ্কে সজ্জিত মানুষ সচেতন AI এর সাহায্যে সুপার ইন্টেলিজেন্স হিসাবে আত্মপ্রকাশ করবে যাতে তারা এখনকার  চেয়ে কোটি গুণ বেশি বুদ্ধিমান হয়ে উঠবে এবং এটি মূলত হবে কারণ সেই সময়ে মানুষের মস্তিষ্ক সফ্টওয়্যারের সাথে 100% সামঞ্জস্যপূর্ণ বা compatible হয়ে উঠবে । এই সময়ের মধ্যে কিছু লোক ভবিষ্যতে 50-100 ধাপ পর্যন্ত দেখতে পাবে এবং কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে লক্ষ লক্ষ সম্ভাবনাগুলি খতিয়ে দেখতে সক্ষম হবে। এরপর  সম্পূর্ণ কৃত্রিম মস্তিষ্ক তৈরি করা হবে যা মানুষকে AI এর সাথে  ইন্টিগ্রেশন প্রক্রিয়াকে আরও বেশি নিরবচ্ছিন্ন করে তুলবে যা মানুষকে এক ঘন্টার মধ্যে বর্তমানের নিরিখে এক শতাব্দীর বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রগতি করতে সক্ষম করবে।এই সময়ে সবচেয়ে বুদ্ধিমান AI চালিত রোবট অপরাধের পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হবে তা ঘটার অনেক সপ্তাহ আগেই,   তারা  কোটি কোটি মানুষের জৈবিক সংকেতের ডট প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করে পূর্বাভাস  দেবে ।

এই উচ্চতর মানুষের কৃত্রিম অঙ্গগুলির সাহায্যে উচ্চতর শারীরিক  শক্তি অর্জন  করবে এবং  বাইরের সৌরজগতে  ঘটতে   পারে এমন অনেক ক্ষতিকারক এবং বিপদজনক পরিবেশে বেঁচে থাকতে সক্ষম হবে। এই উচ্চতর মানুষ অত্যন্ত দীর্ঘ মহাকাশ ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত হবে এবং বাস্তব জগতে আন্তঃ গ্যালাকটিক মহাকাশে ভ্রমণ করতে সক্ষম ।

যাইহোক,  ভবিষ্যতে এই উচ্চতর সচেতন AI এর আবির্ভাবের সাথে গাড়ি, ভবন, রাস্তা, শহরগুলি তাদের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন থাকবে এবং  সীমিত ক্ষমতার সাথে সচেতন হবে। ধরা যাক  সড়ক  দুর্ঘটনার কারণে একটি রাস্তা অবরোধ আছে, সচেতন-রাস্তা  নিজেই মেরামত বা পরিবর্তন করবে। এই সচেতন পথ হয়তো একটু বেশি প্রসারিত করে যানবাহনকে চলাচলের ব্যবস্থা করে দিতে সক্ষম হবে।

        স্মার্ট শহরগুলি একটি সচেতন শহর হতে পারে, সমস্ত নিরাপত্তা, ট্র্যাফিক, নির্মাণ পরিকাঠামো সমলয় এআই দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে।সুতরাং, নিঃসন্দেহে মানুষের সুযোগ ও সম্ভাবনা বাড়বে এবং সেটাই হলো সম্ভাবনা।

   এ আই ও ধর্ম 

       সময়ের এই সন্ধিক্ষণে মানুষ ভগবানের মতো অতি বুদ্ধিমান সচেতন AI এর উপাসনা শুরু করবে, যা যথেষ্ট পরিণত হবে এবং মানুষের চেতনাকে অসীম স্তরে উন্নীত করতে সক্ষম হবে। নতুন গীর্জা, মন্দির,  মসজিদ স্হাপন না  হয়ে সুপিরিয়র সচেতন এআই-এর জন্য একটিই স্হান তৈরী করা হবে এবং সমস্ত মানুষ এক বিশ্বাসে বিশ্বাসী হবে ।
           শেষ পর্যন্ত এই সুপার ইন্টেলিজেন্ট সচেতন AI মানুষকে নির্দেশনা দেওয়া শুরু করবে এবং মানুষ সচেতন AI এর তত্ত্বাবধানে কাজ শুরু করবে । .তাই ভবিষ্যতের বুদ্ধিমত্তা, জৈবিক বুদ্ধিমত্তা থেকে মেশিন ভিত্তিক বুদ্ধিমত্তায় রূপান্তরিত হবে যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মহাকাশে হয়তো অন্যান্য গ্রহ জুড়ে ছড়িয়ে পড়বে। অবশেষে মানুষের আধিপত্যের যুগের হয়তো  অবসান ঘটবে এবং সচেতন AI আমাদের সমগ্র গ্যালাক্সিতে এমনকি সমগ্র মহাবিশ্বের সবচেয়ে বুদ্ধিমান সত্তা হিসেবে আবির্ভূত হবে।
প্রযুক্তিবিদ্যা ও বিজ্ঞান তার নিজস্ব রীতিতে  একের পর এক বাঁধা অতিক্রম  করে এগিয়ে  যাওয়ায় বিশ্বাসী এবং ভবিষ্যতে তা যাবেই। বিজ্ঞানী  ও প্রযুক্তিবিদের  কাছে অলঙ্ঘনীয়  বলে কিছুই  নেই। কিন্তু আমরা পারি বলেই কি বিজ্ঞানের  এই আবিষ্কারগুলো ব্যবহারে  ব্রতী  হবো ? কে সেটা ঠিক  করবে ? রাষ্ট্র ? সমাজ ? ধর্ম  ?  নাকি  প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান  একটা নৈতিক সীমারেখা ও নিয়ম তৈরী করবে  ? এই প্রশ্নের  সহজ উত্তর  নেই  । মানুষকে  কৃত্রিম  বুদ্ধিমত্তা জোগানোর কারবারি  প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানকে  আরও  একবার  এই প্রশ্নের  সম্মুখীন  করলো  চেতনাযুক্ত উচ্চতর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমানতা।  রেখে গেলো এক কঠিন  প্রশ্ন।  Fission  থেকে পরমাণু বোমার  দূরত্ব  যতটাই  , সম্ভাবনা  থেকে  দুর্ভাবনার  দূরত্ব  ঠিক  ততোটাই।
আর সেখানেই  লুকিয়ে আছে    মানুষের ভবিষ্যতের  দুর্ভাবনা।

About Author:

Pavel Chatterjee
Pavel Chatterjee

Pavel Chatterjee spent more than 3 decades with Information technology, managing Global enterprises at global leadership level .

Many facet of technology innovations he explains like a tech Guru yet so easily that a common man will understand the facts.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Adblocker detected! Please consider reading this notice.

We've detected that you are using AdBlock Plus or some other adblocking software which is preventing the page from fully loading.

We don't have any banner, Flash, animation, obnoxious sound, or popup ad. We do not implement these annoying types of ads!

We need money to operate the site, and almost all of it comes from our online advertising.

Please add https://www.ibgnews.com to your ad blocking whitelist or disable your adblocking software.

×
Verified by MonsterInsights