কঠিন সম্ভাবনা – মুর্শিদাবাদ লোকসভায় বিজেপির জেতাটা প্রায় অসম্ভব, আর ঐ “প্রায়”এইয়ে রয়েছে আসল সম্ভাবনা।
সুনন্দ মিত্র
সম্ভাবনা, তবে অলীক চিন্তা বা ফাটকা নয়। হাতে এসে যাওয়া হঠাৎ সুযোগ বলা যেতে পারে। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে প্রতিকূল পরিবেশকে অনুকূল পরিবেশে পরিবর্তিত করাকেই smart politics বলে।
তবে এটাও সত্যি বলা সহজ কিন্তু করা কঠিন তবে অসম্ভবও নয়। অনেক কিন্তু পরন্তু যদি’র ওপর নির্ভর করছে ২০২৪ লোকসভার দুটো আসন মুর্শিদাবাদ আর বহরমপুর। যা বলতে যাচ্ছি সেটা শুনেই লোকে বলবে পাগলের প্রলাপ।
নাহ মোটেও না শুধু একটা সামান্য গণনা, যা বিশ্লেষণ করেছি ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা আর তার ফল আগাম উপলব্ধি করে আগাম পূর্বাভাস।
মুর্শিদাবাদ লোকসভায় বিজেপির জেতাটা প্রায় অসম্ভব, আর ঐ “প্রায়”এইয়ে রয়েছে আসল সম্ভাবনা। যেটা আখেরে ২’৫% থেকে ৩% এর ফারাক। মোটামুটি বিজেপির ভোট ব্যাংক হিন্দু, সেখানে হিন্দুরা মাত্র ২৬%, এই পার্সেন্টেজে যে জয় লাভ সম্ভব নয় সেটা সবাই জানে। আর এই আসনে বিজেপি ও তার প্রার্থীর কিছু করারও নেই, তাহলে??? খেলা অন্য দুই প্রার্থীর আর সম্ভাবনা বিজেপি প্রার্থীর। চাচা পোর খাওয়া রাজনীতিক তার লড়াই heavy weight মিয়ার সাথে। কেউ কম যায় না। ভুলে যাবেন না চাচা কিন্তু পোর খাওয়া রাজনীতিক সাথে বামপন্থী, যারা ভোট রাজনীতির বিজ্ঞান ভিত্তিক চাতুরতায় সিদ্ধহস্ত। সাথে আছে ব্যক্তিগত ইগো। হারলে,,,,,! বুঝতেই পারছেন!
মোটামুটি ভোট দান এই লোকসভায় ৭৮%-৮২%। সেখানে এবার বিজেপির ঝুলিতে হিন্দু ভোটের যদি ২২% পায় যেটা হিসেব মত ৮২% ভোটের প্রায় ২৭% হয়। এবার আসি কিসের ওপর ভিত্তি করে ২২% বলছি? কারণ একটাই প্রথম সন্দেশখালী, আর দ্বিতীয় রামনবমির মিছিলে আক্রমন। এই দুটো নাহলে কিন্তু হিন্দু ভোটের এই একত্রীকরণের গণনা করতাম না। এ ছাড়াও সংখ্যালঘু ভোটে বিজেপির একটা থাবা বসার ভীষণ সম্ভাবনা আছে। সেটা যদি কমবেশি ৪% হয়ে যায় তাহলে কিন্তু অনেক হিসেবই পাল্টে যাবে।
এবার অঙ্কটা করি:- ৮২%-২৭=৫৫% কংগ্রেস যদি গতবারের মার্জিনটা ধরে রাখতে পারে (কারণ কং বাম জোট) কংগ্রেসের ভোট বামে যাবে ধরে নিতে পারি। আর বিস্তারিত যাচ্ছি না। ৫৫%-২৬%=২৯%।
এবার দেখা যাক।
এর সাথে আরও কিছু খুচরো ফ্যাক্টর আছে যেগুলো সর্ব সাকুল্যে ১% থেকে ১’৫%। সব মিলিয়ে যা দাড়াল একবার দেখা যাক। ২৯+২৬+২৭+১’৫= ৮৩’৫%। অনেকে এই প্রশ্নও করতে পারে একবার বলছি গড়পড়তা ভোট দানে সংখ্যা ৮২% হলে এই বাড়তি ১’৫%টা এলো কথা থেকে! এই ১’৫%টা ৮২% এর মধ্যেই আছে, তবে আমি ঝুকি সমস্যাকে মাথায় নিয়েই ২০২৪ এ ভোটদানের পার্সেন্টেজ যদি ২/৩% বেড়েও যায় সেই সম্ভাবনাকেও মাথায় রেখেই সম্ভাব্য গণনা করেছি। তাতেও কিন্তু বিজেপি প্রার্থীর একটা সম্ভাবনা থেকেই।
হিন্দু ভোট ব্যাংকের আরেকটা ধারা হচ্ছে এরা সচরাচর স্বাদ পাল্টায় না, আর যখন কোন কিছু বি-স্বাদ হয়ে যায় তার আভাস দেয়। এবারও কিন্তু সেই ধারা দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় মহিলারা আব্রুর তোয়াক্কা না করেই প্রবল ক্ষমতাবান প্রতিপক্ষর ওপর রে রে করে ফুঁসে উঠছে। তাই বিজেপির পালে এবার বাড়তি advantage সন্দেশখালী। এর impact যে কতটা গভীরে আগামী দিনে তা বোঝা যাবে।
তবে এই সম্ভাবনাকে সম্ভবপর করে তুলতে কিন্তু শুধু চাচা ভাতিজার ওপর ভরসা করে বসে থাকলে হবে না। আরও কঠিন পরিশ্রম আর মোগজাস্ত্রের সূক্ষ্ম চালের সঠিক মেলবন্ধনের যথার্থ ভারসাম্যই আসল চাবি কাঠি। এরপর কাল বহরমপুর লোকসভা নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্লেষণ করবো।

Sunanda Mitra, Social Worker, Poet, Columnist, Political Analyst and Activist

















