রম্যরচনা
বাংলার আকাশ এখন, কাল তুমি আলেয়া
সুমন মুন্সী
আমার দুর্ভাগ্য আমি সেই সময় জন্মানো বাঙালি , যখন বাঙালি বললেই , কোহিনূর মার্কা সম্মান জুটতো সারা পৃথিবী জুড়ে । তাই একটা আলগা অহংকার হতো নিজের গুণে না হলেও , নিজের জাতির মহা মানবদের জন্য । স্বামীজী , গুরুদেব রবি ঠাকুর ,নেতাজি , ড: বিধান চন্দ্র ,জেসি বোসে ,মেঘনাদ সাহা ,সত্যেন বোসে , হেমন্ত ,মান্না ,কিশোর ,সচিন কর্ত্তা ,আরডি ,উত্তম সুচিত্রা,সৌমিত্র ,উৎপল এমন কি জামাই অমিতাভ !!! ভাবা যায় ব্র্যান্ড ভ্যালু
হটাৎ এদের মনে পড়লো কেন ?
আজ আবার পিএম এসেছেন কলকাতা ,চায়ের দোকান জমজমাট ।
সকাল সকাল চায়ের দোকানে গেছি গরম খবরের আশায় আসা আরো কয়েক সাংবাদিক বন্ধু এসেছে গুটি গুটি ।
দেখি সেই আধ বুড়ো বসে মুচকি হাসছে ।
বললাম কি ব্যাপার হাসছেন কেন ?
বললেন ,”বাবার মুখে শোনা নেতাজির সেই ভাষণ , যা রেডিও সিঙ্গাপুর বা রেঙ্গুন থেকে বাজান হতো ১৯৪২-৪৩ তে ,”তোমরা আমায় রক্ত দাও আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব । গায়ে কাঁটা দিত।”
“হ্যাঁ শুনেছি গর্ব হবার বিষয় “
বুড়ো বললো , আজ এক নেতার ভাষণ শুনছিলাম আসলে দুই পার্টির দুই জন ,একজন সরকারে একজন বিরোধী । এই চায়ের দোকানে বলছে , এবার জিতলে পূরণ হবে নেতাজির ইচ্ছা ।
জিজ্ঞাসা করলাম কি ইচ্ছা ?
উত্তর এলো স্বাধীনতা ।
সেকি আমরা তো স্বাধীন ১৫ই অগাস্ট স্বাধীনতা দিবস । কোন স্বাধীনতার কথা বলছেন ?
অরে ও সব ফ্ল্যাগ তোলা স্বাধীনতা , আমরা চাইছি তোলা তোলার স্বাধীনতা , মধুচক্র চালানোর স্বাধীনতা , যেমন খুশি চুরির স্বাধীনতা । বিদ্যালয়ে মদ্যপান দেখবে জাতি ভাগ্যবান । মিড্ ডে ড্রিংক চালু হবে ,মদ্যপ রত্ন পুরস্কার দেয়া হবে ,ওহ লাভলী বলে।
তবেই না বাংলার মানুষ নিজের বিদ্যা প্রকাশ করতে পারবে । শোনেননি চুরি বিদ্যা ,মহা বিদ্যা , যদি না পরে ধরা ?
পাশের বিরোধী নেতা, হেসে বললো ৭৫এর ৭৫ ভাগ যেন ভারত ভাগ্যবিধাতার ঝোলায় ঠিক সময় যায় , মনে রেখ ।
উত্তর এলো , সে আর বলতে ভাইফোঁটার আম না হলে স্বার্থক হবে কি করে ।
আমি বললাম , এতে নেতাজি কোথায় থেকে এলো ?
বুড়ো বললো, ওহো আপনি কি নেতাজি বলতে সুভাষ চন্দ্র বোসের কথা ভাবছেন , অরে মা সারদা যদি ধর্ণা দিতে পারেন ,তবে , দুবাই ফেরত নেতা কেন নেতাজি হবে, না ।
মূর্খ বাঙালি আরো কিছুদিন ভিক্ষা করে নিন , ততদিনে ক্যামকেস্বর এলেন মাস্ককে টোপকে নিন ।
এই বলে বিরোধী যাত্রা পালার অধিকারী মশাই বললেন , আজ কিন্তু ম্যাঠ ভরাতে হবে, বাজেটে খাসির মাংস আর ইংলিশ অপ্প্রভ করেছি ,আর আসলে মুরগি আর বাংলা দিচ্ছি , বাকিটা আমাদের সন্ধ্যের খরচ , চলে আসিস ।
উত্তর এলো কোনো চিন্তা নেই গুরু, দশে মিলে করি কাজ , হারি জিতি নাহি লাজ ।
এই বলে চায়ের দোকানের দেয়ালে তাকালাম , আমাদের রাজনীতির শেষ আইকন নেতাজি হাসছেন সামরিক পোশাক পরে ।
নেতা চলে যেতেই বুড়ো বললো , কি বুঝলেন কালনেমির লিঙ্ক ভাগ ।
সকালেই দেখেছি দুই নেতার বাড়ির সানাই ইট বালি সিমেন্ট মার্বেল পড়েছে ,আর একতালা উঠলো বলে ।
এই সময় শ্লোগান উঠলো ডাবল চাকার গরুর গাড়ি , সামলে চলো তাড়াতাড়ি ।
বুড়ো বললো ,”তাকিয়ে দেখুন বাংলার আকাশ এখন, কাল তুমি আলেয়া”














