পূর্ব রেলওয়ের ব্যাপক সচেতনতা অভিযান শুরু: রেল চত্বরে আবর্জনা ফেলার অপরাধে একদিনে ১৪৪৭ জনকে ধরা হল
কলকাতা, ১৭ এপ্রিল ২০২৬:
রেল চত্বরে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, রেললাইনে বর্জ্য পদার্থ না ফেলা এবং শুধুমাত্র নির্দিষ্ট স্থানে ও ডাস্টবিনে বর্জ্য ফেলার জন্য পূর্ব রেলওয়ের মহাপ্রবন্ধক (জেনারেল ম্যানেজার) শ্রী মিলিন্দ দেওস্করের উদাত্ত আহ্বানে সাড়া দিয়ে, ভারতে রেলওয়ের ১৭৩তম বছর পূর্তি উপলক্ষে ১৬.০৪.২০২৬ তারিখে সমগ্র পূর্ব রেলওয়ে জুড়ে একটি সর্বাত্মক সচেতনতামূলক পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছে।
এই উপলক্ষে জেনারেল ম্যানেজার, অ্যাডিশনাল জেনারেল ম্যানেজার, পূর্ব রেলওয়ের সমস্ত বিভাগীয় প্রধান (PHODs) এবং ডিআরএম-গণ বিভিন্ন স্টেশনে সচেতনতামূলক অভিযান চালান। তাঁরা চলন্ত ট্রেনে উঠে যাত্রীদের সাথে কথা বলেন এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ও নির্দিষ্ট স্থানে আবর্জনা ফেলার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তাঁদের সচেতন করেন। রেললাইনে আবর্জনা ফেলার কুফল সম্পর্কেও যাত্রী ও রেল ব্যবহারকারীদের অবহিত করা হয়; কারণ এই আবর্জনা সিগন্যালিং ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায়, ট্র্যাকের গুণমান নষ্ট করে এবং ট্রেন চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে।
রেলওয়ে স্টেশন চত্বর পরিষ্কার রাখা কেবল পরিবেশ সংরক্ষণের জন্যই অপরিহার্য নয়, এটি যাত্রী নিরাপত্তার অন্যতম শর্তও বটে। স্কাউটস অ্যান্ড গাইডস এবং সিভিল ডিফেন্স স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় এই ব্যাপক সচেতনতা অভিযানের পাশাপাশি, রেল চত্বরে যত্রতত্র আবর্জনা ফেলার কু-অভ্যাস রোধে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। এই কঠোর নজরদারির মাধ্যমে গত ১৬.০৪.২০২৬ (বৃহস্পতিবার) পূর্ব রেলওয়ের বিভিন্ন স্টেশনে যত্রতত্র আবর্জনা ফেলার জন্য একদিনে মোট ১৪৪৭টি অপরাধ শনাক্ত করা হয়েছে এবং ২,৮৯,৪০০/- টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
হাওড়া ডিভিশনে মোট ৪৫৭টি ক্ষেত্রে রেল পরিসর অপরিচ্ছন্ন করার জন্য ৯১,৪০০/- টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। আসানসোল ডিভিশনে মোট ২১৭টি ক্ষেত্রে ৪৩,৪০০/- টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। মালদা ডিভিশনে ওই দিন ১৫৮টি ক্ষেত্রে ৩১,৬০০/- টাকা এবং শিয়ালদহ ডিভিশনে ৬১৫টি ক্ষেত্রে ১,২৩,০০০/- টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এই জরিমানার উদ্দেশ্য হলো জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। রেল চত্বরে আবর্জনা ফেলা কেবল পরিবেশের পবিত্রতা নষ্ট করাই নয়, এটি একটি দণ্ডনীয় অপরাধও বটে।
পূর্ব রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শ্রী শিবরাম মাঝি জানান যে, এই ব্যাপক সচেতনতা অভিযানের মাধ্যমে পূর্ব রেলওয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে, যেখানে প্রত্যেকে রেল চত্বর পরিষ্কার রাখা এবং যত্রতত্র আবর্জনা না ফেলাকে নিজেদের কর্তব্য বলে মনে করবেন।



















