মাত্র একটি সিগারেটেই ভেস্তে যেতে পারে পুরো সফর, ধূমপানের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা পূর্ব রেলের
অন্তরা ত্রিপাঠী | আইবিজি নিউজ
কলকাতা, ৮ জুলাই, ২০২৬: ট্রেনে একটি সিগারেট জ্বালানোর মুহূর্তের অসাবধানতা শুধু আপনার যাত্রাই নয়, বিপদের মুখে ফেলতে পারে শত শত সহযাত্রীর জীবন। এই বার্তাই আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে ধূমপানবিরোধী সচেতনতামূলক প্রচার অভিযান তীব্র করেছে পূর্ব রেল। রেল কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট বার্তা—ট্রেন, স্টেশন বা রেলওয়ের যেকোনও প্রাঙ্গণে ধূমপানের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে।
পূর্ব রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনেক যাত্রী মনে করেন গভীর রাতে ট্রেনের শৌচাগারে গোপনে একটি সিগারেট খেলে কেউ টের পাবেন না। কিন্তু আধুনিক ট্রেনে স্থাপিত অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় স্মোক ডিটেক্টর মুহূর্তের মধ্যেই ধোঁয়া শনাক্ত করে অ্যালার্ম বাজিয়ে দেয়। এরপর দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠেন রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (RPF) এবং ট্রেনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা। ফলে একটি ছোট ভুল মুহূর্তেই সুখের সফরকে আইনি জটিলতা ও আর্থিক ক্ষতির কারণ করে তুলতে পারে।
রেল বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি চলন্ত ট্রেন সম্পূর্ণ আবদ্ধ পরিবেশ। সেখানে একটি জ্বলন্ত সিগারেট বা অবহেলায় ফেলে দেওয়া সিগারেটের টুকরো থেকেও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে। আগুন দ্রুত কোচজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে যাত্রীদের নিরাপদে বেরিয়ে আসার পথ বন্ধ করে দিতে পারে এবং বিষাক্ত ধোঁয়ায় বহু মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়। অতীতে এমন বহু দুর্ঘটনার নজির রয়েছে, যেখানে একটি ছোট স্ফুলিঙ্গই বড় বিপর্যয়ের কারণ হয়েছে।
এই ঝুঁকি সম্পূর্ণভাবে রোধ করতে পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেওস্করের নেতৃত্বে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। ট্রেনের কোচ ও টয়লেটে উন্নতমানের স্মোক ডিটেক্টর বসানো হচ্ছে। পাশাপাশি স্টেশন ও রেলওয়ে প্রাঙ্গণে সিসিটিভি নজরদারি, আরপিএফ-এর নিয়মিত টহল এবং আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রেলওয়ে আইন, ১৯৮৯-এর ধারা ১৬৭ অনুযায়ী, ট্রেন বা রেলওয়ে প্রাঙ্গণে ধূমপান করতে গিয়ে ধরা পড়লে সর্বোচ্চ ২,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, ট্রেন থেকে অবিলম্বে নামিয়ে দেওয়া এবং যাত্রার টিকিট বা পাস বাতিলের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ শত শত মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেওয়ার জন্য সামাজিকভাবেও নিন্দিত।
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক (CPRO) শিবরাম মাঝি বলেন, “একটি ট্রেন যাত্রা পারস্পরিক বিশ্বাস ও দায়িত্ববোধের ওপর নির্ভর করে। একজন যাত্রী যখন ট্রেনের ভিতরে সিগারেট জ্বালান, তখন তিনি শুধু আইন ভঙ্গ করেন না, পাশের কামরায় ঘুমিয়ে থাকা শিশু, প্রবীণ ও অন্যান্য যাত্রীদের জীবনকেও বিপদের মুখে ঠেলে দেন। বর্তমানে আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর। আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি ও জরিমানা আরোপ করতে আমরা দ্বিধা করব না। সকল যাত্রীর কাছে আমাদের আবেদন—একটি ক্ষণিকের নেশার চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও ধূমপানমুক্ত ভারতীয় রেল গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
পূর্ব রেল সকল যাত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, নিরাপদ রেলযাত্রা নিশ্চিত করতে ট্রেন, স্টেশন ও রেলওয়ে চত্বরে ধূমপান থেকে বিরত থাকুন এবং অন্যদেরও সচেতন করুন। একটি ছোট অসতর্কতা যেন কোনো পরিবার বা সহযাত্রীর জন্য বড় দুর্ঘটনার কারণ না হয়ে ওঠে—এই দায়িত্ব আমাদের সবার।



















