
ডুরান্ড কাপে স্বপ্নের অভিষেক এফসি রেংদাইয়ের, ভারতীয় নৌবাহিনীকে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয়
অন্তরা ত্রিপাঠী
সম্পাদক, আইবিজি নিউজ বাংলা
ফলাফল
এফসি রেংদাই – ১ (খাইদেম অমরজিৎ সিং ৫৮’)
ভারতীয় নৌবাহিনী ফুটবল দল – ০
ইম্ফল, ৩০ জুলাই: ভারতের প্রাচীনতম ফুটবল প্রতিযোগিতা ১৩৫তম ইন্ডিয়ানঅয়েল ডুরান্ড কাপের মঞ্চে অভিষেকেই ইতিহাস গড়ল মণিপুরের এফসি রেংদাই। খুমান লমপাক মেইন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘ডি’-এর ম্যাচে গতবারের কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট ভারতীয় নৌবাহিনী ফুটবল দলকে ১-০ গোলে হারিয়ে স্মরণীয় সূচনা করল তারা। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড় খাইদেম অমরজিৎ সিং-এর করা একমাত্র গোলই নির্ধারণ করে দেয় ম্যাচের ভাগ্য। একই সঙ্গে এটি ডুরান্ড কাপে এফসি রেংদাইয়ের ইতিহাসে প্রথম গোল এবং প্রথম জয়।
নিজেদের সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে মুখরিত স্টেডিয়ামে তরুণ ফুটবলারদের দুরন্ত লড়াই ছিল এই ঐতিহাসিক সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
অভিজ্ঞ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তরুণদের দাপট
ভারতীয় নৌবাহিনী দলের প্রধান কোচ আকাশ কাম্বলে অভিজ্ঞ ফুটবলারদের নিয়েই প্রথম একাদশ সাজান। দলে ছিলেন ভারতীয় সুপার লিগ ও অন্যান্য শীর্ষ প্রতিযোগিতায় খেলা ভাস্কর রায়, নভিন গুরুং, আদর্শ মাট্টুম্মাল, শ্রেয়াস ভি.জি., বিজয় জে., ব্রিজেশ গিরি, মাইবাম ডেনি সিং এবং বিজয় মারান্ডি।
অন্যদিকে এফসি রেংদাইয়ের কোচ ক্ষেত্রিময়ুম বীরবল সিং সম্পূর্ণ ভারতীয় তরুণ ফুটবলারদের নিয়ে প্রথমবারের মতো ডুরান্ড কাপে নামেন। অভিজ্ঞ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তাদের আত্মবিশ্বাস, গতি এবং লড়াই করার মানসিকতা শুরু থেকেই নজর কাড়ে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক রেংদাই
ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই গোলের সুযোগ তৈরি করে এফসি রেংদাই। মৃদুল দোলে ভারতীয় নৌবাহিনীর রক্ষণভাগ ভেঙে বক্সে ঢুকে পড়লেও তাঁর বাঁ-পায়ের শট সহজেই আটকান গোলরক্ষক ভাস্কর রায়।
এরপর ভারতীয় নৌবাহিনীও একাধিক সেট-পিস থেকে চাপ তৈরি করে। লং থ্রো এবং ফ্রি-কিক থেকে রেংদাইয়ের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখলেও শেষ পর্যন্ত গোলের মুখ খুলতে পারেনি তারা।
হাইড্রেশন ব্রেকের আগে রোশন পান্না ও বিজয় মারান্ডি-র সুন্দর সমন্বয়ে সুযোগ পান শ্রেয়াস ভি.জি.। কিন্তু তাঁর দুর্বল শট সহজেই রুখে দেন রেংদাই গোলরক্ষক কামেই পান্টিগা।
প্রথমার্ধে দুই দলই ছয়টি করে গোলের সুযোগ তৈরি করলেও কোনও দলই সাফল্য পায়নি। ফলে বিরতিতে স্কোরলাইন ছিল ০-০।
দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড়দের প্রভাব
বিরতির পর কোচ বীরবল সিং মাঠে নামান লাইশরাম বিক্রমজিৎ সিং এবং খাইদেম অমরজিৎ সিং-কে। এই পরিবর্তনের পরই ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নিতে শুরু করে রেংদাই।
ডান দিক থেকে পি. এম. রাকেভেইচে-র নিখুঁত ক্রস থেকে মৃদুল দোলে সুযোগ পেলেও হেডে বল স্পর্শ করতে পারেননি। কিছুক্ষণের মধ্যেই আরও একটি সুযোগ নষ্ট করেন তিনি, যখন বক্সের ভিতরে বল পেয়েও শট উড়িয়ে দেন ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে।
অমরজিৎ সিংয়ের গোলে ইতিহাস
ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে আসে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
ভারতীয় নৌবাহিনীর ডিফেন্ডার নভিন গুরুং-এর কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দ্রুত বক্সের দিকে এগিয়ে যান মৃদুল দোলে। গোলরক্ষক তাঁকে ফাউল করলেও বল গড়িয়ে যায় বদলি খেলোয়াড় খাইদেম অমরজিৎ সিং-এর সামনে। কোনও ভুল না করে তিনি ফাঁকা জালে বল পাঠিয়ে এফসি রেংদাইকে এগিয়ে দেন।
এই গোল শুধু ম্যাচের একমাত্র গোলই নয়, ডুরান্ড কাপের ইতিহাসে এফসি রেংদাইয়ের প্রথম গোল হিসেবেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত রক্ষণ
গোল খাওয়ার পর সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে ভারতীয় নৌবাহিনী। একের পর এক আক্রমণ ও বক্সে ক্রস তুলে চাপ সৃষ্টি করলেও রেংদাইয়ের রক্ষণভাগ অসাধারণ শৃঙ্খলা ও সংযমের পরিচয় দেয়।
ম্যাচের শেষ দিকে মৃদুল দোলে একক প্রচেষ্টায় ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেলেও গোলরক্ষক ভাস্কর রায় অসাধারণ সেভ করে দলকে ম্যাচে ফিরিয়ে রাখেন।
যোগ করা সময়ে বদলি খেলোয়াড় টিংকাওচুন গাংমেই ফাঁকা গোলের সামনে থেকেও সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন। তবে সেই মিস শেষ পর্যন্ত রেংদাইয়ের জয়ের আনন্দে কোনও প্রভাব ফেলতে পারেনি।
ডুরান্ড অভিযানের স্বপ্নের সূচনা
অতিরিক্ত পাঁচ মিনিটের চাপ সামলেও শেষ বাঁশি পর্যন্ত এক গোলের লিড ধরে রাখে এফসি রেংদাই। ডুরান্ড কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই গতবারের কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট দলকে হারিয়ে তারা প্রমাণ করল যে ভারতের ফুটবলে মণিপুরের প্রতিভা আবারও বড় মঞ্চে নিজেদের পরিচয় দিতে প্রস্তুত।
প্রথম ম্যাচেই প্রথম গোল, প্রথম জয় এবং প্রথম তিন পয়েন্ট—সব মিলিয়ে ডুরান্ড কাপের এবারের আসরে অন্যতম চমক হয়ে উঠেছে এফসি রেংদাই।
আগামীকালের ডুরান্ড কাপের সূচি
গ্রুপ – ই
শিলং লাজং এফসি বনাম নংকসেহ এসএস অ্যান্ড সিসি
সময়: বিকেল ৫টা
ভেন্যু: জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম, শিলং
গ্রুপ – এ
ইস্টবেঙ্গল এফসি বনাম সিআইএসএফ প্রোটেক্টর্স
সময়: সন্ধ্যা ৭:৩০টা
ভেন্যু: কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গন, কলকাতা
১৩৫তম ইন্ডিয়ানঅয়েল ডুরান্ড কাপের সব ৪৩টি ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে সনি স্পোর্টস নেটওয়ার্কে এবং লাইভ স্ট্রিমিং করা হচ্ছে SonyLIV-এ।
















