‘সুস্থ বার্ধক্যের চাবিকাঠি’ বইয়ের জন্য দালাই লামার স্বাক্ষরিত আশীর্বাণী পেলেন ডঃ ধীরেশ চৌধুরী
নিজস্ব সংবাদদাতা, IBG NEWS:
কখনও কখনও একটি প্রাপ্তি ব্যক্তিগত আনন্দের সীমা ছাড়িয়ে জীবনের এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে ওঠে। এমনই এক অভিজ্ঞতার কথা জানালেন ডঃ ধীরেশ চৌধুরী, যাঁর আসন্ন বাংলা বই ‘সুস্থ বার্ধক্যের চাবিকাঠি’-র জন্য পরম শ্রদ্ধেয় দালাই লামার কাছ থেকে এসেছে তাঁর সরকারি লেটারহেডে স্বাক্ষরিত একটি বিশেষ আশীর্বাণী।
ডঃ ধীরেশ চৌধুরীর বক্তব্য অনুযায়ী, বইটি প্রকাশের আগে তিনি দালাই লামার সরকারি কার্যালয়ের ই-মেইল ঠিকানায় যোগাযোগ করেন। উদ্দেশ্য ছিল তাঁর নতুন বইটির জন্য দালাই লামার আশীর্বাদ প্রার্থনা করা। প্রত্যাশা খুব বেশি না থাকলেও, মাত্র দু’দিনের মধ্যেই দালাই লামার দপ্তরের সচিবের কাছ থেকে উত্তর আসে।
সেই বার্তায় জানানো হয়, বাংলা ভাষায় বইটি প্রকাশিত হতে চলেছে জেনে দালাই লামা আনন্দ প্রকাশ করেছেন এবং বইটির জন্য তাঁর আশীর্বাদ জানিয়েছেন।
এই উত্তর পাওয়ার পর আরও এক ধাপ এগিয়ে ডঃ ধীরেশ চৌধুরী অনুরোধ করেন, সম্ভব হলে দালাই লামার নিজস্ব সরকারি লেটারহেডে তাঁর স্বাক্ষরসহ একটি আশীর্বাণী দেওয়ার জন্য। তাঁর নিজের ভাষায়, এই অনুরোধের পর আর উত্তর পাওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি বলে তিনি মনে করেননি।
কিন্তু সেই আশঙ্কাও শেষ পর্যন্ত সত্যি হয়নি।
দালাই লামার দপ্তর থেকে জানানো হয়, বইটি বাংলা ভাষায় লেখা হওয়ায় সেটি দালাই লামার কাছে উপস্থাপনের জন্য ইংরেজি ভাষায় পাণ্ডুলিপি বা তার প্রয়োজনীয় অংশ পাঠানো দরকার। সম্পূর্ণ বই দ্রুত ইংরেজিতে অনুবাদ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব না হওয়ায় ডঃ ধীরেশ চৌধুরী বইটির সূচিপত্র, বিষয়বস্তুর সারাংশ এবং প্রাককথন ইংরেজিতে অনুবাদ করে দপ্তরে পাঠান।
এরপর শুরু হয় অপেক্ষা। দীর্ঘ সময় কোনও উত্তর না আসায় তিনি দু’বার স্মরণপত্রও পাঠান। অবশেষে আসে সেই প্রতীক্ষিত মুহূর্ত।
১০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ই-মেইল খুলে দালাই লামার দপ্তরের সচিবের কাছ থেকে একটি বার্তা দেখতে পান ডঃ ধীরেশ চৌধুরী। সেই ই-মেইলের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল একটি নথি—তাঁর বই ‘সুস্থ বার্ধক্যের চাবিকাঠি’-র জন্য দালাই লামার আশীর্বাণী, সরকারি লেটারহেডে এবং তাঁর স্বাক্ষরসহ।
ডঃ ধীরেশ চৌধুরীর কাছে এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছাবার্তা নয়, বরং একজন লেখক হিসেবে অত্যন্ত মূল্যবান স্বীকৃতি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আশীর্বাণীটি শুধুমাত্র কয়েকটি প্রচলিত শুভকামনার বাক্যে সীমাবদ্ধ নয়। সেখানে দালাই লামা বার্ধক্য সম্পর্কে তাঁর নিজস্ব ভাবনা ও উপলব্ধির কথাও প্রকাশ করেছেন এবং আশা ব্যক্ত করেছেন যে বইটি বহু মানুষের মনে আনন্দ সঞ্চার করবে।
একজন লেখকের কাছে বইয়ের বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিশ্ববরেণ্য এক ব্যক্তিত্বের এমন ইতিবাচক অভিব্যক্তি নিঃসন্দেহে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে বলে মনে করেন ডঃ ধীরেশ চৌধুরী।
তিনি বলেন, বইটি লেখার সময়কার দীর্ঘ পরিশ্রম, রাত জাগা, ক্লান্তি এবং নানা সংশয় যেন এই একটি প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে নতুন অর্থ পেয়েছে। একই সঙ্গে তিনি এই আশীর্বাণীকে তাঁর জীবনের অন্যতম মহার্ঘ্য প্রাপ্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
দালাই লামার প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধার কথাও তুলে ধরেছেন ডঃ ধীরেশ চৌধুরী। তাঁর মতে, করুণা, মানবিকতা, শান্তি এবং মানুষের প্রতি মানুষের দায়বদ্ধতার যে বার্তা দালাই লামা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিয়ে চলেছেন, তা তাঁর নিজের জীবন ও চিন্তাভাবনাকেও প্রভাবিত করেছে।
এই প্রাপ্তির পেছনে তিনি তথাগত বুদ্ধের আশীর্বাদের কথাও স্মরণ করেছেন। তাঁর অনুভূতিতে, যাঁর জীবনদর্শন ও বাণী তাঁকে দীর্ঘদিন অনুপ্রাণিত করেছে, সেই দালাই লামার কাছ থেকেই নিজের বইয়ের জন্য আশীর্বাণী পাওয়া এক গভীর আধ্যাত্মিক ও ব্যক্তিগত মুহূর্ত।
ডঃ ধীরেশ চৌধুরীর কথায়, এই আশীর্বাণী তাঁর কাছে শুধু আনন্দ বা সম্মানের বিষয় নয়—এটি তাঁর লেখকজীবনের এক অনন্য স্মৃতি এবং একই সঙ্গে একটি দায়বদ্ধতাও। দালাই লামার এই আশীর্বাণীর মর্যাদা যেন তিনি সারাজীবন ধরে রাখতে পারেন, সেটিই তাঁর প্রার্থনা।
‘সুস্থ বার্ধক্যের চাবিকাঠি’ বইটির মূল বিষয় বার্ধক্যকে কীভাবে আরও সুস্থ, সচেতন, ইতিবাচক ও আনন্দময়ভাবে গ্রহণ করা যায়—সেই ভাবনা। বইটি প্রকাশের আগেই দালাই লামার কাছ থেকে এমন আশীর্বাণী পাওয়ার ঘটনা তাই ডঃ ধীরেশ চৌধুরীর কাছে বইটির যাত্রাপথের একটি বিশেষ অধ্যায় হয়ে থাকল।

© ডঃ ধীরেশ চৌধুরী | ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬


















