আদর্শ মাতৃত্ব থেকে নারী জাগরণ: স্বামী প্রণবানন্দ মাতৃ সম্মেলনে নারীশক্তির বিকাশে জোর
কলকাতা: নারীশক্তির জাগরণ, পারিবারিক মূল্যবোধের সংরক্ষণ, আত্মনির্ভরতা এবং নৈতিক সমাজ গঠনের বার্তা সামনে রেখে অনুষ্ঠিত হল স্বামী প্রণবানন্দ মাতৃ সম্মেলন। রবিবার সকালে কলকাতার বালিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী রাজা শ্রীনাথ সভাগৃহে মন্মথপুর প্রণব মন্দিরের উদ্যোগে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
যুগাবতার শ্রীমৎ স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজের আদর্শ ও জীবনদর্শনকে সামনে রেখে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পরিবার, সমাজ ও বৃহত্তর সামাজিক পরিসরে নারীর ভূমিকা এবং দায়িত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি বর্তমান সময়ে নারীর আত্মমর্যাদা, শিক্ষা, আত্মনির্ভরতা ও মানসিক সুস্থতার মতো বিষয়গুলিও বিশেষ গুরুত্ব পায়।
সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রধান সম্পাদক স্বামী বিশ্বাত্মানন্দজী মহারাজ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বামী অন্বেষানন্দজি মহারাজ, সন্ন্যাসিনী মা তেজময়ী, সন্ন্যাসিনী মা আত্মস্থানন্দময়ী এবং সন্ন্যাসিনী মা বেদপ্রাণা।
নারী জাগরণ ও সামাজিক পরিবর্তনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বক্তব্য রাখেন চিকিৎসক রনিতা রায় এবং সুলতা মণ্ডল। তাঁদের আলোচনায় নারীশিক্ষা, আত্মমর্যাদা, আত্মনির্ভরতা এবং পরিবার ও সমাজে নারীর সক্রিয় ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলি উঠে আসে।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, একটি সুস্থ ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গঠনে পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই প্রেক্ষাপটে আদর্শ মাতৃত্ব, পারিবারিক বন্ধনে আধ্যাত্মিক চেতনার উপস্থিতি এবং সন্তানদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মায়ের ভূমিকা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
আলোচনায় সমকালীন সমাজে নারীর আত্মমর্যাদা ও স্বাধিকারের সচেতনতা, শিক্ষা ও আত্মনির্ভরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভারতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সংরক্ষণ, মানসিক শান্তি এবং নৈতিক জীবনযাপনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।
স্বামী বিশ্বাত্মানন্দজী মহারাজ তাঁর বক্তব্যে নারীশক্তির বিকাশকে বৃহত্তর সামাজিক অগ্রগতির সঙ্গে যুক্ত করে বলেন, নারীশক্তির জাগরণ কেবল ব্যক্তিগত উন্নয়নের বিষয় নয়; এর প্রভাব পরিবার, সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপরও পড়ে। মূল্যবোধ, আত্মনির্ভরতা ও নৈতিক চেতনার বিকাশের মাধ্যমে নারীরা সমাজকে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সম্মেলনের আলোচনায় আরও বলা হয়, নারীর ভূমিকা শক্তিশালী করার জন্য শুধু সামাজিক স্বীকৃতিই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন শিক্ষা, অর্থনৈতিক ও সামাজিক আত্মনির্ভরতা, মানসিক সুস্থতা এবং নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা। স্বামী প্রণবানন্দজি মহারাজের আদর্শকে অনুসরণ করে নারীসমাজকে নিজেদের অন্তর্নিহিত শক্তি সম্পর্কে সচেতন ও সক্রিয় হওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের মূল বক্তব্য ছিল—নারীর উন্নয়নকে পরিবার ও সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করে দেখতে হবে। আদর্শ, শিক্ষা, আত্মশক্তি ও মূল্যবোধের সমন্বয়ের মধ্য দিয়েই আরও মানবিক ও নৈতিক সমাজ গঠনের পথ তৈরি হতে পারে।











