Saturday, September 19, 2026
WA
Home Bangla গঙ্গা নদীতে দেশি মাছের বংশবৃদ্ধি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রিভার র‍্যাঞ্চিং

গঙ্গা নদীতে দেশি মাছের বংশবৃদ্ধি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রিভার র‍্যাঞ্চিং

0
21
Fish Market - Bengal
Fish Market - Bengal

গঙ্গা নদীতে দেশি মাছের বংশবৃদ্ধি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রিভার র‍্যাঞ্চিং

নমামী গঙ্গে কর্মসূচির অধীনে এক দশকের তথ্যভিত্তিক পদক্ষেপ

By PIB Kolkata

প্রধান তথ্যসমূহ

২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ১৬৯টি রিভার র‍্যাঞ্চিং কর্মসূচির মাধ্যমে ২০৫.৫ লাখ দেশি মাছের চারা নদীতে ছাড়া হয়েছে।

এই প্রথমবার আইসিএআর-সিআইএফআরআই  বা সিফরি প্রধান নদীগুলির বার্ষিক মাছ ধরার পরিমাণ নির্ধারণ করেছে। মহানদীতে এই পরিমাণ মোট ১৫,১৩৪ টন এবং কৃষ্ণা নদীতে মোট ১৮,৯০২ টন।

গঙ্গা ও তার উপনদীগুলির পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অংশে এই র‍্যাঞ্চিং প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে।

দেশি প্রজাতির সংরক্ষণ, বংশগত বিশুদ্ধতা বজায় রাখা এবং স্থায়ী নদীজ মৎস্য পালনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

আইসিএআর-সেন্ট্রাল ইনল্যান্ড ফিশারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউট নমামী গঙ্গে কর্মসূচির অধীনে এই বৈজ্ঞানিক পদক্ষেপগুলি নিয়েছে।

প্রেক্ষাপট ও যৌক্তিকতা

গত শতাব্দীর অধিকাংশ সময় গঙ্গা নদী শুধুমাত্র জল বহন করেনি। এই নদী মানুষের জীবিকা নির্বাহের পথ দেখিয়েছে, জনপদকে খাদ্য জুগিয়েছে এবং নিজের গতিপথে জীববৈচিত্র্যের এক নিবিড় জাল বুনেছে। তবে সাম্প্রতিক দশকগুলিতে নদীতে দেশি মাছের সংখ্যা কমেছে। বাসস্থানের অবক্ষয়, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে পরিবর্তন, দূষণ এবং অনিয়ন্ত্রিত মৎস্য শিকারের ফলে এই ক্ষতি হয়েছে।

গত ১০ বছর ধরে এই পতন রুখতে এক নীরব প্রয়াস শুরু হয়েছে। কেন্দ্রের নমামী গঙ্গে কর্মসূচির অধীনে আইসিএআর-সেন্ট্রাল ইনল্যান্ড ফিশারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউট  বড় স্তরে বৈজ্ঞানিক রিভার র‍্যাঞ্চিং কর্মসূচি নিয়েছে। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য কেবল নদীতে মাছের সংখ্যা বাড়ানো নয় বরং নদীর পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা।
 

২০১৭ সালের ২৬ মে ব্যারাকপুরে তৎকালীন জল সম্পদ, নদী উন্নয়ন ও গঙ্গা পুনরুজ্জীবন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুশ্রী উমা ভারতী এই র‍্যাঞ্চিং কর্মসূচির উদ্বোধন করেন

কর্মসূচির পরিধি

২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আইসিএআর-সিআইএফআরআই বা সিফরি গঙ্গা ও তার উপনদীগুলির পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অংশে ১৬৯টি রিভার র‍্যাঞ্চিং কর্মসূচি পালন করেছে। এই সময়ে নির্দিষ্ট নদীক্ষেত্রগুলিতে ২০৫.৫ লঞ্জক্ষ দেশি মাছের চারা ছাড়া হয়েছে। দেশি প্রজাতির সংরক্ষণ, বংশগত বিশুদ্ধতা বজায় রাখা এবং নদীজ মৎস্য পালনের দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

র‍্যাঞ্চিং কর্মসূচির প্রভাব

এই কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন দেশি মাছের প্রজাতি রাখা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে:
 

ইন্ডিয়ান মেজর কার্প (IMCs)
মহাশোল (Mahseer)
দেশি মাগুর ও শিং জাতীয় মাছ (Native catfishes)
চিতল (Chitala)
গলদা চিংড়ি (Freshwater scampi)

নদীতে ছাড়ার পর মাছের বেঁচে থাকার হার বাড়াতে ১০-১৫ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের এবং ১০০-১২০ গ্রাম ওজনের বড় চারা ব্যবহার করা হয়েছে। এই মাছগুলি সাধারণ হ্যাচারির মাছ নয়। গঙ্গা থেকে সরাসরি সংগ্রহ করা দেশি প্রজননক্ষম মাছ থেকে এই চারা তৈরি করা হয়েছে। দেশি মাছের বংশগত বিশুদ্ধতা বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নদীতে ছাড়ার আগে নিয়ন্ত্রিত হ্যাচারি ও নার্সারিতে এই মাছগুলি বড় করা হয়। প্রাকৃতিক পরিবেশে মাছের মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বাড়াতে এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।

লক্ষ্যভিত্তিক ভৌগোলিক কৌশল

এই প্রয়াসেরভৌগোলিক বণ্টন একটি সুচিন্তিত কৌশল তুলে ধরে। যেখানে পরিবেশগত গুরুত্ব এবং জীবিকার নির্ভরশীলতা সবচেয়ে বেশি, সেখানেই র‍্যাঞ্চিং কর্মসূচিকে সংহত করা হয়েছে। 

উল্লিখিত সময়ে ১৬৯টি কর্মসূচির রাজ্যভিত্তিক পরিসংখ্যান নিচে দেওয়া হল:

পশ্চিমবঙ্গ : ৬৮ শতাংশ
বিহার : ১৭ শতাংশ
উত্তরপ্রদেশ : ৯ শতাংশ
ঝাড়খণ্ড : ৫ শতাংশ
উত্তরাখণ্ড : ১ শতাংশ

পশ্চিমবঙ্গে এই কর্মসূচির আধিক্য নদীর পরিবেশগত গুরুত্ব এবং অববাহিকার নিম্নপ্রবাহে মৎস্য শিকারের ব্যাপকতার প্রতিফলন।

পরিমাপযোগ্য সাফল্য
পরিবেশগত পুনরুদ্ধারকার্য সাধারণত দীর্ঘ সময়ের বিষয় হলেও প্রাথমিক ফলাফল ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রধান নদীজ কেন্দ্রগুলিতে ইন্ডিয়ান মেজর কার্প প্রজাতির মাছ ধরার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই প্রজাতিটি পরিবেশগত অবস্থার একটি প্রধান নির্দেশক।

প্রয়াগরাজে এই বৃদ্ধির হার ২৪.৭ শতাংশ

বারাণসীতে এই বৃদ্ধির হার ৪১ শতাংশ

নমামী গঙ্গে কর্মসূচির অধীনে নিয়মিত র‍্যাঞ্চিং এবং সংশ্লিষ্ট সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপের ফলেই এই উন্নতি সম্ভব হয়েছে। 

কেবল সংখ্যার বৃদ্ধি নয়, এই উদ্যোগ দেশি মাছের বংশবৃদ্ধি ঘটিয়েছে এবং নদীর বাস্তুতন্ত্রকে শক্তিশালী করেছে। এর ফলে, মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের জীবিকা সুরক্ষিত হয়েছে। উন্মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য পালনের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনার গুরুত্বও এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রমাণিত।

আইসিএআর-সিআইএফআরআই বা সিফরি ২০২৫ সালে হুগলি মোহনা থেকে সংগৃহীত পুরুষ মাছের হিমায়িত শুক্রাণু এবং প্রজননক্ষম স্ত্রী মাছের সাহায্যে ইলিশের কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতি তৈরি করেছে।

গঙ্গা নদীতে ফারাক্কা ব্যারেজের উজানে মোট ৩.৮২ লাখ পূর্ণবয়স্ক ইলিশ ছাড়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬০৩১টি মাছের গায়ে শনাক্তকরণ ট্যাগ লাগানো ছিল।

প্রাকৃতিক উপায়ে ইলিশের সংখ্যা বাড়াতে ৫৪.৯১ লাখ নিষিক্ত ইলিশের ডিম এবং ৮.০৬ লাখ ইলিশের চারা নদীতে ছাড়া হয়েছে।

এই প্রতিষ্ঠানের  সাফল্য মিলেছে। বর্তমানে ভারত বার্ষিক ১৮.৯ লাখ টন অভ্যন্তরীণ মৎস্য উৎপাদনের মাধ্যমে চীনকে ছাপিয়ে বিশ্বে প্রথম স্থান অধিকার করেছে।

এই প্রথমবার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান নদীগুলির বার্ষিক মাছ ধরার পরিমাণ নির্ধারণ করেছে। মহানদীতে এই পরিমাণ ১৫,১৩৪ টন এবং কৃষ্ণা নদীতে ১৮,৯০২ টন।

হুগলি-মাতলা, ঋষিকুল্যা, মাণ্ডবী-জুয়ারি ও নেত্রাবতী-গুরুপুর – এই চারটি প্রধান মোহনা এবং তিনটি নোনা জলের হ্রদের জন্য স্থায়ী ব্যবস্থাপনা বিধি তৈরি করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ বাস্তুতন্ত্রের বিজ্ঞানভিত্তিক শাসনব্যবস্থাকে আরও মজবুত করেছে।

আপনি কি জানেন?

জলাশয় মৎস্য চাষের নির্দেশিকা অনুসরণের ফলে গড় উৎপাদন হেক্টর প্রতি বছরে ২০ কেজি থেকে বেড়ে ১৫০ কেজি হয়েছে। একইসঙ্গে জলাভূমির উৎপাদন হেক্টর প্রতি বছরে ৬০০ কেজি থেকে বেড়ে ১৬০০ কেজি হয়েছে। এই প্রচেষ্টার ফলেই ২০২৫ সালে জাতীয় জলাশয় মৎস্য চাষ নীতি নির্দেশিকা প্রণয়ন করা সম্ভব হয়েছে।

নেতৃত্ব, প্রসার ও জন-আদানপ্রদান

বেশ কিছু রিভার র‍্যাঞ্চিং কর্মসূচি প্রবীণ জনপ্রতিনিধি এবং নীতি-নির্ধারকদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়েছে। এটি নদীজ জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারে জাতীয় গুরুত্বের প্রতিফলন। 
এই অনুষ্ঠানগুলি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, অংশীদারদের সহযোগিতা এবং গঙ্গা অববাহিকায় স্থায়ী মৎস্য চাষের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

২০১৯ সালের ৮ নভেম্বর প্রয়াগরাজে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী শ্রী নীতিন গড়করি এই র‍্যাঞ্চিং কর্মসূচির উদ্বোধন করেন

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জে বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রকের কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শ্রী শান্তনু ঠাকুর এই র‍্যাঞ্চিং কর্মসূচির উদ্বোধন করেন

সুদীর্ঘ ঐতিহ্যের প্রতিষ্ঠান

১৯৪৭ সালের মার্চ মাসে পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে আইসিএআর-সিআইএফআরআই  বা সিফরি প্রতিষ্ঠিত হয়। ভারতের অভ্যন্তরীণ মৎস্য গবেষণার বিবর্তনে এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘকাল ধরে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে। শুরুতে উৎপাদনের ওপর জোর দেওয়া হলেও বর্তমানে এই গবেষণা বাস্তুতন্ত্র-ভিত্তিক এক ব্যাপক রূপ নিয়েছে। এই নতুন ধারায় স্থায়িত্ব, সংরক্ষণ, জীবিকা এবং পুষ্টির নিরাপত্তাকে একসূত্রে গাঁথা হয়েছে।

আপনি কি জানেন?

মৎস্য গবেষণার ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠানটি অনেক দিকপাল তৈরি করেছে। এই প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তনী ডঃ ভি.জি. ঝিঙ্গরান এবং ডঃ এস. আয়াপ্পান দেশের মৎস্য গবেষণা জগতের একমাত্র পদ্মশ্রী পুরস্কার প্রাপক।

রিভার র‍্যাঞ্চিং একটি বৃহত্তর বৈজ্ঞানিক কর্মসূচির অংশ। এই কর্মসূচিতে নদী ও মোহনার মৎস্য সম্পদ পুনরুদ্ধার, মাছের বাসস্থানের চরিত্র নির্ধারণ এবং মাছ ধরার পরিমাণ অনুমানের মতো বিষয় রয়েছে। এছাড়া বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্ব বিচার, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং উন্মুক্ত জলাশয়ের জন্য নীতিগত সহায়তা প্রদানও এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত।

বৈজ্ঞানিক তত্ত্বাবধানের ঐতিহ্য
আইসিএআর-সিআইএফআরআই বা সিফরি খাঁচায় মাছ চাষের লাভ এবং গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে বিভিন্ন ভৌগোলিক এলাকায় উচ্চ মূল্যের দেশি মাছের উন্নত প্রজনন প্রযুক্তি তৈরি করেছে। এই তালিকায় ওমপোক বিমাকুলেটাস (পাবদা), লেবিও বাটা (বাটা), সিস্টোমাস সারানা লেবিও রোহিতা (সরপুঁটি), লেবিও রোহিতা (জয়ন্তী),  এবং পেনগাসিয়াস জাতীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রয়েছে।

খাঁচায় মৎস্য চাষের প্রসারে আইসিএআর-সিআইএফআরআইবা সিফরি-জিআই মডেল খাঁচা, ১৬ মিটার ব্যাসের এবং ৫ মিটার গভীরতার বিশালাকার এইচডিপিই বৃত্তাকার খাঁচা এবং ‘সিফরি-কেজগ্রো’ খাবার বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আনা হয়েছে।

দ্রুত বর্ধনশীল মাছের প্রজাতি ব্যবহারের মাধ্যমে 
এই পদ্ধতিতে ৯৬ ঘনমিটার আয়তনের প্রতিটি খাঁচায় গড়ে ৩-৪ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন সম্ভব।

গত কয়েক বছরে এই প্রতিষ্ঠান উন্নত পুষ্টিগুণ ও হজমক্ষমতা সম্পন্ন তিনটি বিশেষ মাছের খাবার – সিফরি কেজগ্রো, বিএসএফ ফ্লোটিং ফিশ ফিড এবং রেশমীন তৈরি করেছে।

মৎস্য চাষে রোগের প্রকোপ কমিয়ে মুনাফা বাড়াতে সিফরি ফিশ তানভাহারি এবং সিফরি অর্গকিউর নামক দুটি ওষুধ বাজারে আনা হয়েছে।

এছাড়াও, সিফরি জিআই খাঁচা, সিফরি বৃত্তাকার খাঁচা, সিফরি এফআরপি কোরাকল এবং সিফরি এফআরপি অর্নামেন্টাল ট্যাঙ্কের মতো প্রযুক্তিগুলি সম্প্রতি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

এই প্রতিষ্ঠান ‘ভার্টিক্যাল জেল ইলেকট্রোফোরেসিস’ এবং জলের নিচে ট্রান্সডিউসারের সঠিক অবস্থান মাপার জন্য ‘পোর্টেবল স্প্লিট বিম ট্রান্সডিউসার অ্যাসেম্বলি’ – এই দুটি পেটেন্ট অর্জন করেছে।

প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে আধুনিক আইওটি প্রযুক্তির সাহায্যে বেশ কিছু গবেষণা চালাচ্ছে :

জলের গুণমান, অ্যামোনিয়ার পরিমাণ এবং স্বচ্ছতা রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ ও পরিচালনা করা।

জলের নমুনা সংগ্রহের জন্য ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার।
রিমোটলি অপারেটেড ভেহিকেল-এর সাহায্যে জলের নিচে মাছের আচরণ পর্যবেক্ষণ।

মহাকাশ গবেষণার প্রযুক্তি ব্যবহার করে জলাশয়ের মানচিত্র তৈরি।

ইন্ডিয়ান ইনল্যান্ড ফিশারিজ ইনফরমেটিক্স

আইসিএআর-সিফরি-এর ইন্ডিয়ান ইনল্যান্ড ফিশারিজ ইনফরমেটিক্স ব্যবস্থা ভারতের অভ্যন্তরীণ মৎস্য ব্যবস্থাপনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। এই সমন্বিত ক্লাউড প্ল্যাটফর্মে মেশিন লার্নিং, জিওস্পেশিয়াল অ্যানালিটিক্স এবং ডেটা সায়েন্স ব্যবহার করা হয়।

প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

ইউনিফায়েড ওয়েব-জিআইএস পোর্টাল :

এই পোর্টালটি দেশের অভ্যন্তরীণ মৎস্য সংক্রান্ত সব তথ্য এক জায়গায় নিয়ে আসে। পরিবেশের পরিবর্তনের ওপর নজর রাখতে এখানে স্থান-কাল ভিত্তিক মানচিত্র ব্যবহার করা হয়। জটিল তথ্যকে সহজে বোঝার জন্য এখানে ড্যাশবোর্ড রয়েছে। এই ব্যবস্থা অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং নিয়মিত নতুন তথ্যের মাধ্যমে একে সমৃদ্ধ করা হয়।

রিভার-অ্যাকোয়া-ম্যাপ: 

এটি কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ এবং সিফরি-র সংগৃহীত জলের গুণমান সংক্রান্ত তথ্যকে একত্রিত করে। এর মাধ্যমে দেশজুড়ে জলজ প্রাণীর বসবাসের উপযোগিতা যাচাই করা যায়। এছাড়া, নদীর কোথায় অক্সিজেনের অভাব রয়েছে এবং জাতীয় স্তরে পরিবর্তনের গতিপ্রকৃতি কেমন, তাও এই ম্যাপের মাধ্যমে চেনা সম্ভব।

আগামীর পথ

গত দশকের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে যে, নদী পুনরুজ্জীবনের বিষয়টি শুধু কথার কথা বা প্রতীকী কোনো পদক্ষেপ নয়। তথ্যভিত্তিক পদক্ষেপ যদি পরিবেশগত নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকে, তবে তার সুফল পাওয়া নিশ্চিত।

নমামী গঙ্গে কর্মসূচির অধীনে বৈজ্ঞানিক রিভার র‍্যাঞ্চিং  বা বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে মিষ্টি জলের মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণের ব্যবস্থাকরা প্রমাণ করেছে যে, বংশগত বিশুদ্ধতা বা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট না করেই বিলুপ্তপ্রায় দেশি মাছের ভাণ্ডার পূর্ণ করা সম্ভব। বর্তমান লক্ষ্য হলো এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। এই ধরনের উদ্যোগের পরিধি বাড়ানো, নিরন্তর গবেষণা চালানো, অংশীদারদের অংশগ্রহণ আরও গভীর করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থাপনায় বদল আনা প্রয়োজন। গঙ্গা নদীর জীববৈচিত্র্য এবং মৎস্য সম্পদের ভবিষ্যৎ কেবল এক মরশুমের মাছ ছাড়ার ওপর নির্ভর করে না। এর জন্য বিজ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে নিরবিচ্ছিন্ন তত্ত্বাবধান প্রয়োজন।

তথ্যসূত্র

প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো :

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Adblocker detected! Please consider reading this notice.

We've detected that you are using AdBlock Plus or some other adblocking software which is preventing the page from fully loading.

We don't have any banner, Flash, animation, obnoxious sound, or popup ad. We do not implement these annoying types of ads!

We need money to operate the site, and almost all of it comes from our online advertising.

Please add https://www.ibgnews.com to your ad blocking whitelist or disable your adblocking software.

×
Verified by MonsterInsights