
‘আত্মনির্ভর ভারত’ ভাবনার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের কারিগরদের যুক্ত করতে মালদায় যন্ত্র ও টুলকিট বিতরণ কর্মসূচি আয়োজন করল কেভিআইসি
গ্রামোদ্যোগ বিকাশ যোজনার আওতায় কেভিআইসি-র চেয়ারম্যান শ্রী মনোজ কুমার পশ্চিমবঙ্গের ৪৯০ জন কারিগরের মধ্যে ১,১২০টি যন্ত্র ও টুলকিট বিতরণ করলেন
পাঁচটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের কারিগরদের মধ্যে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ৬৬১টি যন্ত্র ও টুলকিট বিতরণ
পশ্চিমবঙ্গে ৪৬৪টি খাদি প্রতিষ্ঠান মারফত ৫০ হাজারেরও বেশি খাদি কারিগরের কর্মসংস্থান
By PIB Kolkata
কলকাতা, ২ মার্চ, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘আত্মনির্ভর ভারত’, ‘ভোকাল ফর লোকাল’, ‘মেড ফর ওয়ার্ল্ড’ এবং ‘হর ঘর স্বদেশি, ঘর ঘর স্বদেশি’ অভিযানের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের কারিগরদের যুক্ত করা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা তাঁদের কাছে পৌঁছে দিতে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প মন্ত্রকের অধীন খাদি ও গ্রামোদ্যোগ কমিশন অর্থাৎ কেভিআইসি রবিবার মালদায় এক বৃহৎ বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেভিআইসির চেয়ারম্যান শ্রী মনোজ কুমার।
গ্রামোদ্যোগ বিকাশ যোজনা (জিভিওয়াই)-র অধীনে পশ্চিমবঙ্গের ৪৯০ জন প্রশিক্ষিত কারিগরের মধ্যে ১,১২০টি যন্ত্র ও টুলকিট বিতরণ করা হয়। এছাড়াও, পাঁচটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের কারিগরদের মধ্যে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ৬৬১টি যন্ত্র ও টুলকিট বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মালদা উত্তর কেন্দ্রের সাংসদ শ্রী খগেন মুর্মু এবং ইংলিশ বাজার (মালদা)-এর বিধায়ক শ্রীমতী শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী।
কারিগরদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেভিআইসি-র চেয়ারম্যান শ্রী মনোজ কুমার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে খাদি এখন একটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডে পরিণত হওয়ার পথে এগিয়ে চলেছে। এই প্রয়াসে পশ্চিমবঙ্গের কারিগরদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কারিগরদের কাছে ভারত সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিতে এই যন্ত্র ও টুলকিট বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “নতুন ভারতের নতুন খাদি” কেবল একটি বস্ত্র নয়, এটি আত্মনির্ভরতা, উদ্যোগশীলতা, শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতি, স্বদেশি ভাবনা এবং স্বনিয়োজিত কর্মসংস্থানের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রামোদ্যোগ বিকাশ যোজনা প্রধানমন্ত্রীর ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘মেক ফর দ্য ওয়ার্ল্ড’ অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা গ্রামীণ কারিগরদের কর্মসংস্থান ও স্বনিয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করে তাঁদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলছে, যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের কারিগররাও অন্তর্ভুক্ত।
এই উপলক্ষে কারিগরদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ৩২০টি বৈদ্যুতিক চাকার চাকি (কুমোরের চাকা), ৭০০টি মৌমাছি পালনের বাক্স, ২০টি আগরবাতি তৈরির যন্ত্র, ৪০টি বর্জ্য কাঠ প্রক্রিয়াকরণ কিট, ২০টি ইলেকট্রিশিয়ান টুলকিট এবং ২০টি মোবাইল মেরামতি টুলকিট।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির কারিগরদের মধ্যেও ভার্চুয়াল মাধ্যমে যন্ত্র ও টুলকিট বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে অরুণাচল প্রদেশে ২৮৪টি, নাগাল্যান্ডে ১৫২টি, মিজোরামে ১০০টি, ত্রিপুরায় ৯৭টি এবং মণিপুরে ২৮টি বিতরণ করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে খাদি ও গ্রামোদ্যোগের অগ্রগতির প্রসঙ্গে শ্রী মনোজ কুমার জানান, রাজ্যে বর্তমানে ৪৬৪টি খাদি প্রতিষ্ঠান কার্যকর রয়েছে, যেখানে ৫০ হাজারেরও বেশি সুতা কাটা কর্মী, তাঁতি এবং খাদি কর্মীর কর্মসংস্থান হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর গ্রামীণ অর্থনীতিকে “ভারতের প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিন” হিসাবে গড়ে তোলার এবং গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসন রোধের ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রধানমন্ত্রী রোজগার সৃষ্টির কর্মসূচি (পিএমইজিপি) কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করছে কেভিআইসি। ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কলকাতা রাজ্য কার্যালয়ের অধীনে পিএমইজিপির আওতায় মোট ৮,৪১৯টি ইউনিট স্থাপিত হয়েছে, যার জন্য প্রায় ৩১৬ কোটি টাকা মার্জিন মানি ভর্তুকি প্রদান করা হয়েছে। এই ইউনিটগুলির মাধ্যমে ৭৩,০০০-রও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
তিনি জানান, গত ১১ বছরে খাদি ও গ্রামোদ্যোগের ব্যবসায়িক লেনদেন ১.৭০ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি অতিক্রম করেছে এবং এই সময়ে ২ কোটিরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
অনুষ্ঠানে খাদি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা, গ্রামোদ্যোগ বিকাশ যোজনার সুবিধাভোগীরা, খাদি কর্মীরা, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও কেভিআইসি-র আধিকারিক ও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




















