বারুইপুর – ডায়মন্ড হারবার শাখায় রেল অবরোধে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি
কলকাতা, ০৯ জুন ২০২৬
আজ সকালে শিয়ালদহ ডিভিশনের বারুইপুর–ডায়মন্ড হারবার শাখায় কিছু ব্যক্তি ইএমইউ লোকাল ট্রেনের সাধারণ কোচের অতিরিক্ত অর্ধেক অংশকে মহিলা কোচ হিসেবে নির্ধারণ করার প্রতিবাদে আন্দোলন ও রেল অবরোধ করেন। এর ফলে এই শাখায় ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়।
এই আন্দোলন ও ট্রেন চলাচলে বাধা প্রদানের কোনও যৌক্তিক কারণ নেই, কারণ এই শাখায় ইএমইউ লোকাল ট্রেনের বর্ধিত ধারণক্ষমতার মাত্র একটি ক্ষুদ্র অংশ মহিলা যাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত করা হয়েছে। মহিলা যাত্রীরা মোট উপনগরীয় যাত্রীর প্রায় ২৫ শতাংশ এবং তাঁদের পক্ষ থেকেও সংরক্ষিত আসন বৃদ্ধি করার দাবি ছিল। এছাড়াও মহিলা কোচের সংখ্যা ২ থেকে ৩-এ বৃদ্ধি করার পর পুরুষ যাত্রীদের জন্য স্থানসংকটের আংশিক ক্ষতিপূরণ এবং মহিলা যাত্রীদের অতিরিক্ত সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে এই শাখা ও দক্ষিণ শাখার অন্যান্য অংশে অতিরিক্ত ২ জোড়া ট্রেন চালু করা হয়েছে।
পরিচালন ক্ষমতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে শিয়ালদহ ডিভিশন দক্ষিণ শাখায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে:
১. সোনারপুর–ক্যানিং, বারুইপুর–ডায়মন্ড হারবার, বারুইপুর–লক্ষ্মীকান্তপুর এবং মাইল-৫–বজবজ শাখায় উন্নত অটো-সিগন্যালিং ব্যবস্থা স্থাপন।
২. ডায়মন্ড হারবার ও ক্যানিংয়ে স্টেবলিং ইয়ার্ড নির্মাণ।
এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত উন্নয়নমূলক কাজগুলি চলতি বছরের মধ্যেই সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। কাজগুলি সম্পূর্ণ হলে পিক আওয়ারে আরও বেশি ট্রেন চালানো সম্ভব হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে এই শাখায় কয়েকটি ট্রেন চালানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সকলের কাছে আবেদন, পরিস্থিতির সীমাবদ্ধতাগুলি অনুধাবন করে যাত্রীসেবার স্বার্থে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সহযোগিতা করুন।
আজ হোটর স্টেশনে সকাল ৮:২০ থেকে ১০:০১ পর্যন্ত, দক্ষিণ দুর্গাপুরে ১০:০৮ থেকে ১০:২২ পর্যন্ত এবং কল্যাণপুরে ১০:৩০ থেকে ১০:৫২ পর্যন্ত যে রেল অবরোধ হয়েছে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও নিন্দনীয়। এর ফলে হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হন। এর জেরে প্রায় ১২টি লোকাল ট্রেন বাতিল করতে হয়েছে।
শিয়ালদহ ডিভিশন, পূর্ব রেল এই ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানায়। কোনও কারণেই "রেল রোকো" কর্মসূচি গ্রহণযোগ্য নয় এবং এই ধরনের বেআইনি ও স্বেচ্ছাচারী কার্যকলাপ সহ্য করা হবে না। উল্লেখ্য, শিয়ালদহ ডিভিশন প্রতিদিন প্রায় ২০ লক্ষ রেলযাত্রীকে পরিষেবা প্রদান করে এবং এই ধরনের অবরোধ লক্ষ লক্ষ যাত্রীর দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায় ও রেল পরিষেবার অপূরণীয় ক্ষতি করে।
গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, কিছু ব্যক্তি আন্দোলন ও প্রতিবাদের নামে রেলস্টেশনে অবস্থান বা পিকেটিং করে ট্রেন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছেন। এই প্রসঙ্গে রেলওয়ে আইন, ১৯৮৯-এর ধারা ১৫৩, ১৫৪ এবং ১৭৪-এর প্রতি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে। আন্দোলন বা প্রতিবাদের নামে "রেল রোকো" একটি দণ্ডনীয় অপরাধ এবং দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড এবং/অথবা ২০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।












