হারিয়ে যাওয়া বন্ধন: নাতি-নাতনিদের সঙ্গে দাদু-দিদা, ঠাকুমা-ঠাকুরদার সময় কাটানো কেন জরুরি
সুমন মুন্সি | IBG NEWS
একটি শিশু কীভাবে একজন দায়িত্বশীল মানুষ হয়ে উঠবে, তা শুধু পাঠ্যবই, স্কুলের শিক্ষা কিংবা ডিজিটাল স্ক্রিনের মাধ্যমে নির্ধারিত হয় না। শিক্ষা জ্ঞান দেয়, কিন্তু চরিত্র গড়ে ওঠে সম্পর্ক, কথোপকথন, পর্যবেক্ষণ, অভিজ্ঞতা এবং ভালোবাসার মধ্য দিয়ে।
একটি শিশুর জীবনে সবচেয়ে মূল্যবান অথচ ক্রমশ অবহেলিত হয়ে পড়া সম্পর্কগুলির মধ্যে অন্যতম হলো দাদা-দিদা, ঠাকুমা-ঠাকুরদার সঙ্গে নাতি-নাতনিদের সম্পর্ক।
আজকের দিনে বহু পরিবারে দেখা যায়, একই বাড়িতে থেকেও দাদা-দিদা বা ঠাকুমা-ঠাকুরদা এবং নাতি-নাতনির জীবন যেন আলাদা জগতে বিভক্ত। শিশুরা স্কুল, কোচিং, স্মার্টফোন, ভিডিও গেম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যস্ত। অন্যদিকে প্রবীণরা দিনের বড় অংশ একাকীত্বে কাটান। আবার অনেক পরিবারে ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে নাতি-নাতনিদের সঙ্গে দাদা-দিদা বা ঠাকুমা-ঠাকুরদার দেখা হয় খুবই কম।
এই প্রজন্মের মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতি নিয়ে সমাজের আরও গভীরভাবে ভাবা দরকার।
দাদা-দিদা বা ঠাকুমা-ঠাকুরদা শুধু দেখাশোনার মানুষ নন
প্রবীণরা একটি পরিবারের ইতিহাস, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ, অভিজ্ঞতা ও জীবনের বাস্তব জ্ঞানের জীবন্ত ভাণ্ডার।
একজন ঠাকুমা তাঁর ছোটবেলার গল্প বলছেন, একজন ঠাকুরদা বোঝাচ্ছেন কীভাবে কঠিন সময়ে পরিবারকে সামলে রাখা হয়েছিল, কিংবা একজন দিদা সততা, সাহস, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের গল্প শোনাচ্ছেন—এসব শিক্ষা কোনো নীতিশিক্ষার বইয়ের কয়েকটি অধ্যায়ের মাধ্যমে সম্পূর্ণভাবে দেওয়া সম্ভব নয়।
একটি শিশুর এমন প্রশ্ন করার সুযোগ থাকা দরকার—
- সত্য বলা কঠিন হলেও কেন সত্যবাদী হওয়া উচিত?
- বিনিময়ে কিছু পাওয়ার আশা না করেও কেন অন্যকে সাহায্য করব?
- আমার থেকে আলাদা মানুষকেও কেন সম্মান করতে হবে?
- ভুল করলে কীভাবে তা স্বীকার করব?
- হেরে গেলে কীভাবে পরিস্থিতি সামলাব?
- পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব বলতে আসলে কী বোঝায়?
এই ধরনের কথোপকথন শিশুর কাছে নৈতিক মূল্যবোধকে শুধু তত্ত্ব হিসেবে নয়, জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা হিসেবে তুলে ধরে।
প্রজন্মের মধ্যে শেখার সুযোগ
প্রতিটি প্রজন্মের কাছেই এমন কিছু অভিজ্ঞতা থাকে, যা পরবর্তী প্রজন্ম স্বাভাবিকভাবে অর্জন করতে পারে না।
দাদা-দিদা বা ঠাকুমা-ঠাকুরদারা ভিন্ন সময়ের সমাজ দেখেছেন। তাঁরা অভাব, পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি, অর্থনৈতিক সংকট, পারিবারিক দায়িত্ব, সামাজিক পরিবর্তন এবং ব্যক্তিগত ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে জীবন কাটিয়েছেন।
তাঁদের জীবনের গল্প শিশুদের ধৈর্য, কৃতজ্ঞতা, সহনশীলতা ও বাস্তবতার মূল্য শেখাতে পারে।
অন্যদিকে নাতি-নাতনিরাও প্রবীণদের নতুন প্রযুক্তি, আধুনিক ধারণা এবং পরিবর্তিত সামাজিক বাস্তবতা বুঝতে সাহায্য করতে পারে।
তাই এই সম্পর্ককে এমন একটি ব্যবস্থা হিসেবে দেখা উচিত নয় যেখানে শুধু প্রবীণরা শিক্ষা দেবেন আর শিশুরা শুনবে।
এটি হওয়া উচিত দুই প্রজন্মের মধ্যে জ্ঞান, স্নেহ, অভিজ্ঞতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার আদান-প্রদান।
এই সম্পর্ক শিশুর মধ্যে নিজের পরিবার ও শিকড়ের প্রতি গভীর অনুভূতি তৈরি করতে পারে।
পারিবারিক গল্প থেকে সামাজিক দায়িত্ববোধ
একটি সুস্থ সমাজ শুধু মেধাবী নাগরিক দিয়ে তৈরি হয় না। তার জন্য প্রয়োজন দায়িত্বশীল নাগরিক।
যে শিশু নিয়মিত প্রবীণদের সঙ্গে সময় কাটায়, সে ধীরে ধীরে বুঝতে শেখে—
“আমি একটি পরিবারের অংশ। আমার পরিবার একটি সমাজের অংশ। আর আমার কাজ অন্য মানুষের জীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে।”
এই উপলব্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একজন শিশুকে যদি একজন বয়স্ক মানুষের কথা ধৈর্য ধরে শুনতে শেখানো হয়, তাহলে ভবিষ্যতে সে সমাজের দুর্বল ও অসহায় মানুষদের প্রতিও বেশি সংবেদনশীল হতে পারে।
যে শিশু একজন বৃদ্ধ দাদা-দিদা বা ঠাকুমা-ঠাকুরদার যত্ন নিতে শেখে, সে সহমর্মিতা ও দায়িত্বের অর্থ বুঝতে পারে।
আর যে শিশু পূর্ববর্তী প্রজন্মের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের গল্প শোনে, সে সমাজের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও দায়বদ্ধতা অনুভব করতে শেখে।
এভাবেই আন্তঃপ্রজন্মের সম্পর্ক সহমর্মিতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, সম্মান ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে।
পারিবারিক বন্ধনের অভাব কি অপরাধপ্রবণতা বাড়াতে পারে?
এই প্রশ্নটির উত্তর অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দিতে হবে।
এটা বৈজ্ঞানিকভাবে বলা ঠিক নয় যে দাদা-দিদা বা ঠাকুমা-ঠাকুরদার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক না থাকলেই কোনো শিশু অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠবে।
অপরাধমূলক আচরণের পেছনে বহু কারণ কাজ করতে পারে—পারিবারিক পরিবেশ, দারিদ্র্য, নির্যাতন, বন্ধুমহলের প্রভাব, মাদকাসক্তি, সামাজিক পরিস্থিতি, ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য, শিক্ষার পরিবেশ এবং আরও নানা ব্যক্তিগত ও সামাজিক কারণ।
তবে যদি একটি শিশু দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অবহেলা, দুর্বল পারিবারিক যোগাযোগ, ইতিবাচক আদর্শের অভাব, পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধানের অভাব এবং সহমর্মিতা ও দায়িত্ব শেখার সুযোগের ঘাটতির মধ্যে বড় হয়, তাহলে তার আচরণগত ও মানসিক বিকাশে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তাই সমস্যাটি শুধু দাদা-দিদা বা ঠাকুমা-ঠাকুরদার অনুপস্থিতি নয়।
আরও গভীর সমস্যা হলো—
শিশুর জীবনে অর্থপূর্ণ মানবিক সম্পর্ক ও ইতিবাচক দিকনির্দেশনার অভাব।
প্রবীণরা এই গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কের একটি শক্তিশালী স্তম্ভ হতে পারেন। তবে তাঁদের কাছ থেকে সমাজের সমস্ত সমস্যার সমাধান আশা করাও ঠিক নয়।
ডিজিটাল প্রজন্মের আরও বেশি প্রয়োজন মানবিক কথোপকথন
আজকের শিশু মুহূর্তের মধ্যে পৃথিবীর যেকোনো তথ্য পেয়ে যেতে পারে।
কিন্তু তথ্য আর প্রজ্ঞা এক জিনিস নয়।
স্মার্টফোন শিশুকে ইতিহাসের কোনো ঘটনা সম্পর্কে তথ্য দিতে পারে। কিন্তু একজন ঠাকুরদা বলতে পারেন, সেই সময়ের ঘটনা সাধারণ মানুষের জীবনে কী প্রভাব ফেলেছিল।
ইন্টারনেট হাজার হাজার গল্প দিতে পারে। কিন্তু একজন দিদা বা ঠাকুমা বলতে পারেন পরিবারের নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া একটি সত্যিকারের গল্প।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে। কিন্তু একজন স্নেহময় দাদা-দিদা সেই প্রশ্নের পেছনে থাকা শিশুর অনুভূতিটিও বুঝতে পারেন।
এ কারণেই এমন সময়ে, যখন শিশুরা ডিজিটাল মাধ্যমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যোগাযোগ করছে অথচ গভীর মুখোমুখি কথোপকথনের সুযোগ ক্রমশ কমছে, মানবিক সম্পর্কের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
শুরু হোক “Grandparent Hour”
এর জন্য পরিবারকে খুব বড় কোনো পরিবর্তন করতে হবে না।
সপ্তাহে কয়েক দিন মাত্র ৩০ থেকে ৬০ মিনিট অর্থপূর্ণভাবে একসঙ্গে সময় কাটানোও একটি সুন্দর অভ্যাস তৈরি করতে পারে।
পরিবারে চালু করা যেতে পারে—
“Grandparent Hour” — দাদা-দিদা/ঠাকুমা-ঠাকুরদার সঙ্গে এক ঘণ্টা
এই সময়ে—
- স্মার্টফোন নয়।
- টেলিভিশন নয়।
- ভিডিও গেম নয়।
- পড়াশোনার চাপ নয়।
- শুধু গল্প, বই, খেলা, হাঁটা, রান্না, গান বা জীবনের কথা।
শিশুরা তাদের দাদা-দিদা বা ঠাকুমা-ঠাকুরদাকে তাঁদের ছোটবেলা সম্পর্কে প্রশ্ন করতে পারে।
প্রবীণরা শেখাতে পারেন—
- পুরনো দিনের খেলা
- লোকগান
- রান্না
- হাতের কাজ
- পারিবারিক ইতিহাস
- গ্রামের গল্প
- স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য
পরিবার চাইলে এই গল্পগুলিকে ছবি, লেখা বা অনুমতি নিয়ে অডিও-ভিডিও রেকর্ডের মাধ্যমে সংরক্ষণও করতে পারে।
উদ্দেশ্য আর একটি নতুন “ক্লাস” তৈরি করা নয়।
উদ্দেশ্য হলো শিশুর মনে নিজের পরিবার ও শিকড়ের সঙ্গে গভীর সংযোগ তৈরি করা।
গল্পের মাধ্যমে নৈতিক শিক্ষা
শিশুকে বারবার “সৎ হও” বলার পরিবর্তে একজন দাদা বা ঠাকুরদা এমন একটি গল্প বলতে পারেন যেখানে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও একজন মানুষ সত্য বলেছিল এবং তার ফল কী হয়েছিল।
তারপর শিশুকে প্রশ্ন করা যেতে পারে—
“তুমি হলে কী করতে?”
এই প্রশ্নটি শিশুকে নৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে চিন্তা করতে শেখায়।
সততা, দয়া, বিশ্বাসঘাতকতা, সাহস, লোভ, ক্ষমা, দায়িত্ব ও তার পরিণতি নিয়ে গল্প শিশুকে বুঝতে সাহায্য করে যে নৈতিক সিদ্ধান্ত সবসময় সহজ হয় না।
সে শুধু কী ভাবতে হবে তা শেখে না; বরং কীভাবে সঠিক ও ভুল নিয়ে চিন্তা করতে হয়, সেটাও শিখতে শুরু করে।
স্কুল ও সমাজও ভূমিকা নিতে পারে
এই দায়িত্ব শুধু পরিবারের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।
স্কুল, সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলি আন্তঃপ্রজন্মের বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করতে পারে।
যেমন—
- প্রবীণদের সঙ্গে মৌখিক ইতিহাস সংগ্রহ
- দাদা-দিদা ও নাতি-নাতনির যৌথ পাঠচক্র
- গ্রামীণ ও ঐতিহ্যবাহী খেলার কর্মসূচি
- গল্প বলার অনুষ্ঠান
- স্থানীয় ইতিহাস নিয়ে প্রকল্প
- প্রবীণদের কাছ থেকে জীবনদক্ষতা শেখা
- শিশুদের মাধ্যমে প্রবীণদের প্রযুক্তি শেখানো
- কমিউনিটি বাগান তৈরি
- প্রবীণ নাগরিকদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ কর্মসূচি
এতে যেসব শিশুর নিজের দাদা-দিদা বা ঠাকুমা-ঠাকুরদা কাছে নেই, তারাও প্রবীণ প্রজন্মের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করার সুযোগ পেতে পারে।
সম্মান দুই দিকেই থাকতে হবে
এখানে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু বয়সে বড় বলেই প্রবীণদের সব কথা শিশুকে প্রশ্নহীনভাবে মেনে নিতে হবে—এমনটা হওয়া উচিত নয়।
শিশুর কথাও শুনতে হবে। তার অনুভূতি, প্রশ্ন ও মতামতকে সম্মান করতে হবে।
সবচেয়ে সুস্থ আন্তঃপ্রজন্মের সম্পর্ক তৈরি হয় পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে।
প্রবীণরা অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান দেবেন, কিন্তু কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠবেন না।
অভিভাবকরা শৃঙ্খলা বজায় রাখবেন, কিন্তু আবেগগতভাবে দূরে সরে যাবেন না।
শিশুরা নিজেদের মত প্রকাশ করবে, কিন্তু প্রবীণদের প্রতি সম্মান বজায় রাখবে।
এই তিন প্রজন্মের মধ্যে সুস্থ যোগাযোগ তৈরি হলে পরিবার নিজেই নাগরিকত্বের প্রথম বিদ্যালয়ে পরিণত হয়।
সামাজিক বন্ধন পুনর্গঠনের প্রয়োজন
একটি সমাজের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করে সে কীভাবে তার শিশুদের বড় করে তোলে তার ওপর।
যদি শৈশব শুধুমাত্র স্ক্রিন, প্রতিযোগিতা, পরীক্ষার চাপ, একাকীত্ব ও সাফল্যের দৌড়ে সীমাবদ্ধ হয়ে যায় এবং পারিবারিক কথোপকথনের সুযোগ ক্রমশ কমতে থাকে, তাহলে সমাজ এমন একটি মূল্যবান জিনিস হারাতে পারে যা সহজে ফিরিয়ে আনা যায় না।
এর অর্থ এই নয় যে প্রযুক্তি বা আধুনিক শিক্ষা প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
বরং প্রয়োজন—
প্রযুক্তির সঙ্গে মানবিকতার ভারসাম্য।
শিশুর গণিত ও বিজ্ঞান দরকার। সাহিত্য ও ইতিহাস দরকার। কোডিং ও প্রযুক্তির জ্ঞান দরকার।
কিন্তু তার পাশাপাশি দরকার—
গল্প, ভালোবাসা, মতের অমিল, ক্ষমা, দায়িত্ব, সহমর্মিতা এবং মানবিক সম্পর্ক।
আর কখনও কখনও এই শিক্ষাগুলি দেওয়ার সবচেয়ে যোগ্য মানুষটি হয়তো পাশের ঘরেই বসে আছেন—একজন দাদা, দিদা, ঠাকুমা কিংবা ঠাকুরদা, যার কাছে রয়েছে জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার অসংখ্য গল্প।
ছোট একটি পারিবারিক অভ্যাস, বড় একটি সামাজিক প্রভাব
দাদা-দিদা বা ঠাকুমা-ঠাকুরদা একা কোনো শিশুকে অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পারবেন না। আবার শুধু পারিবারিক বন্ধন থাকলেই প্রত্যেক শিশু নৈতিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হয়ে উঠবে—এমন নিশ্চয়তাও নেই।
কিন্তু একটি শক্তিশালী পারিবারিক সম্পর্ক শিশুকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুভূতি দিতে পারে—
“আমি গুরুত্বপূর্ণ। অন্য মানুষও গুরুত্বপূর্ণ। আর আমার কাজের ফল আছে।”
এই ভিত্তিটি অত্যন্ত মূল্যবান।
তাই প্রতিটি পরিবারকে নিজেদের একটি প্রশ্ন করা উচিত—
“শেষ কবে আমাদের সন্তানরা পড়াশোনা, খাবার, টেলিভিশন বা মোবাইলের জন্য নয়—শুধু গল্প করার জন্য দাদা-দিদা বা ঠাকুমা-ঠাকুরদার পাশে বসেছিল?”
এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো একটি পরিবারের প্রকৃত সামাজিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অনেকটাই প্রকাশ করতে পারে।
কারণ ভবিষ্যতের নাগরিক আজই তৈরি হচ্ছে।
আর অনেক সময় নৈতিকতার প্রথম পাঠশালা কোনো স্কুল নয়।
সেটি হতে পারে বাড়ির উঠোন, গ্রামের বারান্দা কিংবা সেই মানুষটির পাশে বসা—যিনি একটি গোটা জীবন পার করে আজ তাঁর নাতি-নাতনিকে গল্প শোনাচ্ছেন।
— সুমন মুন্সি
Chief Editor, IBG NEWS



















