দ্বিতীয় ঢেউয়ের আবহের মধ্যেই করোনার তৃতীয় ঢেউ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। ভীতি ও গুজব ছড়ানোর আগে দু একটা সহজ সত্যি সহজ ভাবে জানুন।
কোভিড19তৃতীয়_ঢেউ
ড: পলাশ বন্দ্যোপাধ্যায়, ০৩ জুন ২০২১
দ্বিতীয় ঢেউয়ের আবহের মধ্যেই করোনার তৃতীয় ঢেউ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। ভীতি ও গুজব ছড়ানোর আগে দু একটা সহজ সত্যি সহজ ভাবে জানুন।
● ধরুন কোনো স্থানে কোনো সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব চলছে। চলতে চলতে হঠাৎ পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা গেল কোনো একটা সময়ে কিছুদিন ধরে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। এই ব্যাপারটিকে বলে ওয়েভ বা ঢেউ।
●এবার আপনি যদি স্বাভাবিক বুদ্ধি খাটান তাহলে নিজেও বুঝতে পারবেন ,হঠাৎ করে এই সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার তিনটি কারণ।
১.যে কারণে সংক্রমন হয় সে কারণ প্রতিহত করতে আমরা স্বাস্থ্যবিধি মানছি না। অর্থাৎ এর দায় নাগরিকের।
২.যে বিষয় রোগকে প্রতিহত করতে পারে তার যোগান কম। অর্থাৎ স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় গলদ। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা মানে চিকিৎসা পরিকাঠামো ।তার মধ্যে ওষুধ, দরকারে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা এবং ভ্যাক্সিন সব পরে। এর দায় মূলত প্রশাসনের।
৩.প্রথম দুটো বিষয়ে গলদ নেই, কিন্তু ভাইরাস নিজেকে পরিবর্তিত করে ফেলেছে। ফলত ওষুধ ভ্যাক্সিন কোনো কিছু কাজ করছে না। এটাকে বলে ভাইরাসের মিউটেশন।
●তৃতীয় ঢেউয়ের জন্য ভাইরাসের ডবল মিউটেশন যা ইতিমধ্যে হয়ে গেছে, সেটাই দায়ী হবে বলে বিজ্ঞানীরা ভাবছেন।
●কিন্তু কেন এমন হলো? তার কারণটা খুব জটিল নয়। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে যাঁরা আক্রান্ত হন, তাঁরা অনেকেই উপসর্গযুক্ত, অনেকেই উপসর্গহীন। যাঁরা উপসর্গযুক্ত তাঁরা তো রাষ্ট্রের চিকিৎসার নাগালে।কিন্তু যাঁরা তা নন তাঁরা নির্বিচারে রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সমাজের সবথেকে সাংঘাতিক বিপদের সম্ভাবনা তাঁদের থেকে।তাঁদের শরীরে থাকা ভাইরাস কোনো চিকিৎসার আওতায় না এসে নিজেদেরকে পরিবর্তিত করার কারণে মানুষের আয়ত্বের বাইরের চলে যাচ্ছে। শুধু তাইই নয় তাদের থেকে যে সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন, তাঁরা পরিসংখ্যানের বাইরে।
●এই ঢেউ কবে আসবে নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না। পারার কথা নয়। কারণ পুরোটাই নির্ভর করবে উপরে বর্ণিত কর্মকান্ডের গতির উপর। স্বাস্থ্যব্যবস্থা ঠিকঠাক ও স্বাস্থ্যবিধিতে নাগরিক দায়িত্ব পালন ঠিকঠাক হলে এমনও হতে পারে যে এই ঢেউ এলই না অথবা খুব হালকা চালে এল।
●এর তীব্রতাও আগাম বলা সম্ভব না। পুরোটাই নির্ভরশীল নাগরিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বের প্ৰতি তাঁদের দায়বদ্ধতার উপর।
●এর মারণ ক্ষমতা ও সংক্রমণের ক্ষমতা সম্বন্ধে এখনই পূর্বাভাস সম্ভব না। কারণ মিউটেন্ট ভাইরাসের ক্ষমতা কেমন হবে তা ভাইরাস নিজেই জানেনা। হতে পারে তা বিষাক্ত। হতে পারে তা নির্বিষ।
●আরো একটা বিষয় বলা হচ্ছে, এই ওয়েভে টার্গেটের অনেকটাই হবে শিশুরা।
তার দুটো কারণ। প্রথম কারণ হলো,বেশির ভাগ শিশুকেই স্বাস্থ্যবিধি পালন করানো সম্ভব হয়না। দ্বিতীয় কারণ হলো শিশুরা এখনো ভ্যাক্সিন নেওয়ার টার্গেট গ্রুপে আসেনি, তাই রোগের টার্গেট পপুলেশন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তাদেরই বেশি।
■■যেভাবে বললাম, কার্যক্ষেত্রে ব্যাপারটি অতখানি সরল না।এতে আরো অনেক অংক আছে।তবে কিছু না বুঝে আন্দাজে ঢিল ছুঁড়ে মানুষকে বিভ্রান্ত না করে মূল বিষয়টি এ ভাবে জেনেও পোস্ট লিখলে সুবিধে।
■■আর, সরকার তো তাঁদের ব্যাপারটা বুঝবেন। সেটা আপনার আমার হাতে নয়। যেটা আপনার আমার হাতে, অর্থাৎ স্বাস্থ্যবিধি পালন, বরং চলুন মন দিয়ে সেটাই করি আমরা। ধন্যবাদ।

Dr. Palash Bandopadhyay popular pediatrics expert with Post Graduate of Pediatric Nutrition,(Boston University). Doctor, Author, Poet, and a beautiful mind. He, always a great content provider for the readers with value to the core of the subject.
০৩.০৬.২০২১















