Read Time:5 Minute, 23 Second
পশ্চিমবঙ্গের আন এডেড মাদ্রাসা কেন্দ্রের অনুদান থেকে বঞ্চিত কেন উঠছে প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০১১ সালে মা-মাটি-মানুষের সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১০০০০ আন এডেড মাদ্রাসা অনুমোদন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু আজ পর্যন্ত মাত্র ২৩৪ টি আন এডেড মাদ্রাসা অনুমোদন দিয়েছে রাজ্যসরকার। গত ২০১৩-১৪ বর্ষে কেন্দ্রীয় সরকার মাদ্রাসাগুলিকে আধুনিকরণের জন্যে SPQEM Scheme-এর মাধ্যমে মাত্র একবার তিনজন শিক্ষক এক একটা মাদ্রাসা থেকে বেতনের টাকা পেয়েছিল কিন্তু তারপর থেকে আজ পর্যন্ত সেই টাকা থেকে পপশ্চিমবঙ্গের আন এডেড মাদ্রাসা গুলি বঞ্চিত।
গত ১২/৭/১৬ সালের কেন্দ্রীয় CGIAC এর মিটিংয়ে শাস্ত্রী ভবনে রাজ্যের প্রতিনিধি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন DME আবিদ হোসেন সাহেব। তিনি সরকারী টাকায় বিমানে চড়ে মিটিং এ এ্যাটেন্ট করলেন কিন্তু SGIAC এর কোনও রেকমেন্ট নিয়ে যান নি।
তারফলে CGIAC পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসাগুলিকে Not Approved করে দিয়েছিল।
এরফলে ১৮ কোটি কেন্দ্রীয় টাকা থেকে শিক্ষকরা বঞ্চিত হয়েছেন।
আগামী ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের জন্যে কেন্দ্রীয় সরকার মুসলিমদের ভোট পাওয়ার আশায় সারা ভারতের সমস্ত রাজ্য সরকার কে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছিল ২৬/৯/১৮ তারিখের দিল্লীর শাস্ত্রী ভবনে মিটিংয়ে এ্যাটেন্ট করার জন্যে কিন্তু দূঃভাগ্য পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার মাদ্রাসার শিক্ষকরা যাতে বেতন না পায় তার জন্যে সেই মিটিংয়ে রাজ্যের কোনও প্রতিনিধি পাঠায় নি। সংখ্যালঘুদের দরদি মুখ্যমন্রী মমতা ব্যানাজী। এখন মুসলিমদের ভোট মাথায় বুলিয়ে নেওয়ার জন্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুসলিমদেরকে বি জে পির জুজু দেখাচ্ছেন। মুসলিমরা ওই জুজুকে দেখে ভয় পায় না।
পশ্চিমবঙ্গে আন এডেড মাদ্রাসা বাঁচাও কমিটির রাজ্য সম্পাদক আব্দুল ওহাব মোল্লা বলছিলেন।
আগামী শাদর উৎসবের পরেই কলকাতা প্রেস ক্লাবে প্রেস কনফারেন্স করা হবে। রাজ্য সরকার চাইছে যেন পশ্চিমবঙ্গ থেকে মাদ্রাসা শব্দটি উঠে যাক।
মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ অনুদানের টাকা পাওয়া থেকে রাজ্য বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে ইতিমধ্যে। সরকারি আর্থিক সাহায্য পায় না এমন বেশ কিছু মাদ্রাসা চলছে রাজ্যে। পশ্চিমবঙ্গের এরকম ২৩৪টি মাদ্রাসা রাজ্য সরকারের স্বীকৃতিও পেয়েছে। কিন্তু স্বীকৃতি পেলেও এই মাদ্রাসাগুলি রাজ্য সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য পায় না কয়েক বছর। কয়েক বছর আগে কেন্দ্রীয় সরকারের এসপিকিউইএম প্রকল্পে এই মাদ্রাসাগুলি কিছু অর্থ পেয়েছিল। তা থেকে শিক্ষকদের বেতনের একটা অংশ আসছিল। কিন্তু গত তিন-চার বছর ধরে তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক ওই প্রকল্পটি নিয়ে বিভিন্ন রাজ্যকে বৈঠকে ডাকে। পশ্চিমবঙ্গ আনএডেড মাদ্রাসা বাঁচাও কমিটির রাজ্য সম্পাদক আব্দুল ওহাবের দাবি, ওই বৈঠকে রাজ্য সরকারের কোনও প্রতিনিধি যাননি। যদিও ওই বৈঠকের বিষয়ে তাঁরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। বৈঠকে না যাওয়ার জন্য ওই খাতে কেন্দ্রীয় অনুদান থেকে মাদ্রাসাগুলি বঞ্চিত হবে বলে তাঁর আশঙ্কা। এসপিকিউইএস প্রকল্পে মোট খরচের ৬০ শতাংশ কেন্দ্র দেয়। বাকিটা রাজ্য সরকারের। শিক্ষকদের বেতন ছাড়াও মাদ্রাসার উন্নয়ন প্রকল্পে এর থেকে টাকা পাওয়ার সুযোগ আছে। ১৫ অক্টোবর বর্তমান পত্রিকাতে এই সংবাদ প্রকাশের পর হইচই পড়ে গেল। বলছিলেন, উদার আকাশ পত্রিকার সম্পাদক ফারুক আহমেদ।
Advertisements