নাদ সংগীত সম্মেলনের প্রথম দিনে শাস্ত্রীয় সংগীতের মূর্ছনায় ঋদ্ধ হলো কলকাতা
সুমন মুন্সী
25 March 2022,Kolkata
একজন সংগীতের গুরুকে শ্রদ্ধা জানানোর আদর্শ আয়োজন কি হতে পারে, তা দেখিয়ে দিলেন পন্ডিত বিক্রম ঘোষের উদ্যোগে “পন্ডিত শঙ্কর ঘোষ ফাউন্ডেশন” , ভারতী বিদ্যাভবন ও সহযোগী বেঙ্গল চেম্বার্স কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ আয়োজকরা ।
দিকপাল শাস্ত্রীয় সংগীত গুরুদের ঘরানা কে আগে নিয়ে যাওয়ার জন্য, পরবর্তী প্রজন্ম কতটা তৈরী, আর তাঁরা যে গুরুশিষ্য পরম্পরার ধারক ও বাহক, তা দেখিয়ে দিলো প্রথম দিনের এই নাদ সংগীতের অনুষ্ঠানে।
কলকাতা কেন ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী তা বোঝা যায়, যখন, আজও তাঁর শিক্ষিত গুণিগ্রাহী দর্শক দেখে কিন্তু ভয় হয় শিল্পী তৈরী হলেও চর্চার অভাবে শ্রোতা আর তাঁর কান কি তৈরী হচ্ছে? সেই প্রশ্ন কিন্তু আজকের অভিভাবকদের কাছে রেখে যেতে হয় । ভালো শিল্পী পেতে হলে ভালো শ্রোতাও প্রয়োজন ।
প্রথম দিন ছিল যন্ত্র সংগীতের সেরা আয়োজন । বীনা, চতুরঙ্গ, তবলা, মৃদঙ্গ আর বাঁশির পরিবেশন ও বান্দিশ। সুর, তাল,লয় ঘরানার ছোঁয়ায় কথা দিয়ে তিন ঘন্টা কেটে গেলো বোঝা মুশকিল।
কে কে পরিবেশন করলেন প্রথম দিনে ?
উত্তর দক্ষিণ যুগলবন্দীতে ছিলেন চতুরাঙ্গীতে পণ্ডিত দেবাশীষ ভট্টাচার্য্য, বীণাতে বিদ্বান রাজেশ বৈদ্য , মৃদঙ্গমে বিদ্যান এস. শেখর এবং লিজেন্ড পণ্ডিত অনিন্দ্য চ্যাটার্জী তবলায়। ঝালা, ডুয়েট বা বোল বাণী চলন সবেতেই সোনা ঝরে চারিদিকে শুধু আপ্লুত জনতা। পণ্ডিত বিক্রম ঘোষ নিজে তখন ছুটেছেন রবীন্দ্র সদনে আর একটি অনুষ্ঠানে। কিন্তু বিড়লা সভাগৃহ অনুষ্ঠানের প্রাণ পুরুষ বিক্রম ঘোষের অনুপ্রেণার ছোঁয়া প্রতিমুহূর্তে উপভোগ করছেন চেটেপুটে।
এই অসামান্য যুগলবন্দীর পর সামান্য বিরতি, আর সেই ফাঁকেই আলাপ এই প্রবাসী প্রাজ্ঞ শ্রোতার সাথে থাকেন, সুদূর আমেরিকাতে। এসেছিলেন কলকাতায়, চলে যাবে খুব শিগগিরই । কি বললেন শুনুন “বারবার কলকাতা ছেড়ে বিদেশে চলে যাই, কিন্তু এই টানেই আবার শেকড় খুঁজে পাই”।
এবার পরিবেশনায় এলেন, বাঁশির জগৎ গুরু, পন্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার যোগ্য উত্তরাধিকারী শ্রী রাকেশ চৌরাশিয়া জি তাঁর বাঁশি নিয়ে। বাজালেন বেহাগ, তারপর পাহাড়ি আর মালকোষ সঙ্গে তবলায় যোগ্য সঙ্গত করলেন অনুব্রত চ্যাটার্জী।
অনুষ্ঠানকে কি করে আদাকারীতে মাৎ করতে হয়, কি করে শ্রোতা আর বাদকের এক আত্মিক সম্পর্ক তৈরী করতে হয়, তা যোগ্য পন্ডিত শিষ্য দেখিয়ে দিলেন। মধুর ব্যাবহার আর পেশকী বুঝিয়ে দিলো “বাপ করে বেটা সিপাই ক্যা ঘোড়া কুচ নাই তো থোড়া থোড়া” প্রবাদ আসলেই বাস্তব। চৌরাসিয়ার বাঁশি যোগ্য হাতেই আছে আর আমরা সেই প্রবাদপ্রতীমের পায়ে প্রণাম জানাই, একজন যোগ্য উত্তরাধিকার তৈরী করার এই মহান কাজের জন্য।
অনুষ্ঠান শেষে শুধুই মুগ্ধতা আর দ্বিতীয় দিনের অপেক্ষা।
প্রথম নাদ সঙ্গীত সম্মেলন সিংহ নাদ নিয়ে হাজির, কলকাতার সঙ্গীত রসিক জনের কাছে । আগামীদিনে আরো শ্রী বৃদ্ধি হোক এই শুভ উদ্যোগের ।
ছবি : অন্তরা ত্রিপাঠি


ছবি : অন্তরা ত্রিপাঠি















