শারদীয়া উৎসবের বাংলায় ভগবান তথাগত বুদ্ধের নীরবে প্রস্থান সারা বাংলার লজ্জা !!!
কলকাতা
ঘটনাটি ঘটেছে কিছুদিন আগেই কিন্তু নজরে আসে সম্প্রতি ।
ভারতের তথা বিশ্বের অন্যতম অবতার , মহামানব ভগবান তথাগত বুদ্ধের মূর্তি সরিয়ে অন্য্ আরেকটি মূর্তি বসানো হয়েছে এই বাংলার নবান্নের ঢিল চোরা দূরত্বে । এই তথ্য এসেছে সোশ্যাল মাধ্যমের ফেইসবুক পোস্টে ।
বিভিন্ন বৌদ্ধ সংগঠন ভারতীয় সংঘরাজ ভিক্ষুমহাসভা(পশ্চিম বঙ্গ) ,Siddharth United Social Welfare Mission , ওয়েস্ট বেঙ্গল বুদ্ধ জয়ন্তী সেলেব্রেশন কমিটি প্রভৃতি সংগঠন এই বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত ভগবান বুদ্ধের মূর্তির সম্মানপূর্বক পুনর্স্থাপনের আর্জি জানায়।
সকল স্তরে প্রতিবাদ ও বুদ্ধ মূর্তির সম্মান পূর্বক প্রতিস্থাপন হোক এবং দেশের সর্বত্র এমন কাজ যাতে না হয় সেই বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালতে আবেদন করা হোক । বিষয়টি এতটাই আশ্চর্য্যের যে আমরা হতবাক । বৌদ্ধ ধর্মের প্রাণপুরুষ গৌতম বুদ্ধ ভারতের ইতিহাসে যুগপুরুষ তিব্বত ,জাপান, চীন সহ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া সহ বিশ্বে ১০টি বৌদ্ধ প্রধান দেশ ভারত ভগবান বুদ্ধের কর্মভূমি একথা ভুলে গেলে চলবে না ।
এই বিষয়ে বৌদ্ধ ভিক্ষু বুদ্ধপ্রিয় মহাথেরো Siddharth United Social Welfare Mission এর প্রাণ পুরুষ বলেন ,”আমরা সকল বৌদ্ধ ভক্ত ও অনুগামীরা বিনীত আবেদন করছি ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রশাসনের কাছে যাতে দ্রুত ভুল সংশোধন করা হয় । আশাকরি প্রশাসন সহৃদয় চিত্তে আমারদের অনুরোধ বিবেচনা করবেন। জয় ভগবান বুদ্ধের জয় “
এই বিষয়ে AIRA ইন্টারন্যাশনাল রিপোর্টের এসোসিয়েশনের জেনারেল সেক্রেটারি পশ্চিমবঙ্গ শ্রী সুমন মুন্সী বলেন ,” কোনো মহাপুরুষের মূর্তি , ধর্ম গুরুদের সাথে মানুষের বিশ্বাস ও আবেগ জড়িত , এই ঘটনা বাংলার সংস্কৃতির বিপরীত । আমি আশা করবো প্রশাসন দ্রুত খুঁজে বের করবেন কোন বুদ্ধিতে ভগবান বুদ্ধের এই অপমান করার দুঃসাহস দেখানো হলো। বিষয়টির তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা যেকোনো শুভবুদ্ধির মানুষ করবেন। চৈতন্য হোক প্রশাসনের সকল স্তরে ।”



এই বিষয়ে ড: ধীরেশ চৌধুরী অন্যতম সদস্য বার্ধক্য ও জটিল রোগ বিশেযজ্ঞ সংঘঠন, পশ্চিমবঙ্গ শাখার কি বললেন তাঁর ফেসবুক পোস্টে যা তাঁর অনুমতি সাপেক্ষে তুলে দিলাম আমাদের পাঠক দের জন্য,
“তীব্র ধিক্কার এবং প্রতিবাদ জানাই – তবে সাম্প্রদায়িক কোনো দৃষ্টিভঙ্গিতে নয়, বরং অবিবেচক ও আহাম্মক আচরণ করার মানসিকতা ও ধৃষ্টতাকে –
পুজোর এই বাজারে সবাই যখন উৎসব মুখর পুজো শুরুর প্রায় সপ্তাহ দুই আগে থেকে, নিশ্চিত বিষয়টি সকলের চোখ এড়িয়ে গেছে বা চোখে পড়লেও তাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা মাথায় আসেনি। কারণ বুদ্ধমূর্তি র অসম্মান সেটাতে কার ই বা কি এসে যায়…আর ঐ তো হাতে গোনা গুটি কয়েক বৌদ্ধ!!!, একটু আধটু বললে বা চেঁচালে কিই বা তাতে যায় আসে। একদল ঢাকি কে দিয়ে ঢাক বাজালেই তো ওদের গলার স্বরকে চাপিয়ে দেওয়া যায়।
হ্যাঁ, যে ঘটনা র কথা বলছি সেটা হয়তো বা ফেসবুক পোস্ট সার্ফ করতে গিয়ে চোখে পড়লেও পড়তে পারে। সত্যিকথা বলতে আমি নিজেও সেভাবেই জেনেছি। কোনা এক্সপ্রেসের উপর সাতরাগাঁছি র নিকটবর্তী কেরি রোডের ডানদিকে একটি সরকারি পার্কে এতদিন ধরে থাকা বুদ্ধমূর্তিকে হঠাৎ করে সরিয়ে দিয়ে সেখানে সম্ভবত সাঁওতাল বিদ্রোহ বা কোনো আদিবাসী বিদ্রোহের প্রতীকী হিসেবে স্থাপত্যকে বসানো। স্থূল চোখে খুবই সাধারণ একটা বিষয়। কিন্তু সেভাবে দেখতে গেলে যারা বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী বা অনুরাগী তাঁদের আবেগ ও সম্মানে বড় আঘাত। ইতিমধ্যে বেশ কিছু বাঙালি বৌদ্ধ সংগঠন এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন লিখিত ভাবে প্রশাসনের কাছে। অবশ্যই সেটা যুক্তিযুক্ত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। তাঁদের দাবি স্ব স্থানে আবার বুদ্ধমূর্তি কে পুনঃস্থাপন। যদিও আমি বরং একটু ভিন্ন ভাবে বিষয়টিকে দেখছি। হয়তো সংখ্যা গরিষ্ঠ আমার সাথে একমত হবেন না।
বুদ্ধমূর্তিকে স্ব স্থানে প্রত্যাবর্তন করার দাবিতে আমি বিশ্বাস রাখিনা। সেই দাবি যদি মেনেও নেয় তাতে আহামরি কিছু জয় বা প্রাপ্তি প্রমাণিত হয়না। কিছু সে অর্থে আহাম্মক, বোধবুদ্ধি হীন নিম্ন মেধার মানুষ যাঁরা এটা করেছেন তাঁদের এই কৃত কর্মে বুদ্ধের মাহাত্ম্য একবিন্দুও খাটো হয়নি। কারণ কোথায় বুদ্ধ মূর্তি বসলো আর না বসলো সেটার উপর বিশ্ব ব্যাপী সমাদৃত এই মহামানবের সম্মান নির্ভর করে না। আর এই বোধটুকু থাকলে এরকম কাজই তো কেউ করতে পারতেন না। আমাদের বরং দাবিটা এটাই হোক যত্রতত্ৰ মন চাইলেই বুদ্ধমূর্তিকে বসানো যাবেনা। বুদ্ধ কোনো সৌখিন সাজানোর বস্তু নয়। এই বোধটা জাগ্রত করতে হবে। যাঁদের না হবে তাঁদেরকে সেটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দিতে হবে। এই সাবধান বাণী প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট সব স্তরকে জানিয়ে দিতে হবে। এবং এরকম করলেই যে তীব্র প্রতিবাদ হবে সেই বিষয়টিকেও বুঝিয়ে দিতে হবে যাতে সবাই সতর্ক হয়। শুধু পার্কেই নয় এমনকি সিনেমা হলে, শপিং মলে, সেলুনে, সেলুনের ভিতরে যেখানে প্রায় নগ্ন অবস্থায় ম্যাসাজ করা হয় সেখানেও বুদ্ধমূর্তি থাকে। এমনও দেখা গেছে। তাই আমাদের দেখার দৃষ্টিটাও পাল্টাতে হবে।
নিশ্চিত এই সব কিছু সবাই করতে পারছে আমরা অত্যন্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ বলে। আমাদের ভোট সে অর্থে নগন্য। কিন্তু পরিতাপের বিষয় আমাদের কিছু লোকজনও তো নির্লজ্জ ভাবে শুধুমাত্র পদলেহন করতে ব্যস্ত ব্যক্তিগত কিছু স্বার্থসিদ্ধির জন্য। উজ্জ্বল উপস্থিতি শুধুমাত্র সংখ্যার উপর নির্ভর করেনা বরং মুষ্টিমেয় সংখ্যাই কখনো কখনো অত্যন্ত শক্তিশালী হয় তাদের নিজস্ব গুণ ও ব্যক্তিত্বে জোরে। তখন লোকজন ভাবতে বাধ্য হয়, সমীহ করতে বাধ্য হয়, কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে গিয়ে সতর্ক হয়…সেই জায়গাটিকে আমাদের ধরে রাখতে হবে। শান্তিকামী মানেই দুর্বল নয় সেটাকে বুঝিয়ে দিতে হবে, একটু ভিন্ন ভাবে…
মনে রাখবেন এখন আবার কোনো স্থাপত্য (আদিবাসীদের প্রতীকী যেটা বলা হচ্ছে) কে সরানোর দাবি মানে কিছু মানুষের আবেগকে পুনরায় আঘাত করা। সেটাও কখনো কাঙ্ক্ষিত নয়। আমাদের মতন সমৃদ্ধ বৌদ্ধ সমাজ এই দাবি করে নিজেদের ছোট না করে উল্টো প্রতিবাদ হোক যত্রতত্র বুদ্ধমূর্তি কে উপযুক্ত সম্মান প্রদর্শন করতে না পারলে বসানো যাবেনা। প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হোক তাঁদের চেতনা বোধকে জাগ্রত করার জন্যই এই দাবি ও প্রতিবাদ…”
সংখ্যা লঘুদের প্রতি দায়বদ্ধতা শুধুমাত্র সাংবিধানিক নয় সামাজিক দায়িত্বও বটে , তাই আশা করবো মা মাটির দেশে গৌতম বুদ্ধের পুনর্প্রবেশ হবে রাজার মতো আর তা পুজোর কার্নিভালের আগেই ভালো হবে ।
এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী , রাজ্যপাল সহ সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ।
Photo By Google Map













