আল-আমীন মিশন: গ্রামবাংলার মেধাবীদের স্বপ্নপূরণের এক অনন্য শিক্ষাযাত্রা
সরকারি মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ধারাবাহিক সাফল্যে পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম শীর্ষ আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
সুমন মুন্সি | আইবিজি নিউজ
কলকাতা, ২২ জুলাই: পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাক্ষেত্রে গত কয়েক দশকে যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অসাধারণ সাফল্যের মাধ্যমে নিজেদের আলাদা পরিচয় গড়ে তুলেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম আল-আমীন মিশন। শুধু একটি আবাসিক বিদ্যালয় নয়, বরং আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া অথচ মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়নের একটি সামাজিক আন্দোলন হিসেবেও পরিচিত এই প্রতিষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক এম. নুরুল ইসলাম-এর নেতৃত্বে “দরিদ্র ও মেধাবীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা” এই মূল দর্শনকে সামনে রেখে আল-আমীন মিশন আজ পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম সফল আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, মালদা, বীরভূমসহ রাজ্যের একাধিক জেলায় বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের শাখা পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
সরকারি মেডিকেলে নজিরবিহীন সাফল্য
আল-আমীন মিশনের অন্যতম প্রধান শক্তি হলো NEET ও WBJEE-কেন্দ্রিক প্রস্তুতি। প্রতিষ্ঠানের দাবি অনুযায়ী, ২০১৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৪,৫০০-এরও বেশি ছাত্র-ছাত্রী সরকারি MBBS ও BDS কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
বিগত কয়েক বছরের সাফল্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
- ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে ৩২৮ জন সরকারি মেডিকেলে সুযোগ পান।
- ২০২১-২২ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৬৮।
- ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ৩,৪২৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে রেকর্ড ৫৩০ জন সরকারি MBBS ও BDS আসন অর্জন করেন।
NEET UG 2026-এ নতুন সাফল্যের নজির
২০২৬ সালের NEET UG পরীক্ষাতেও আল-আমীন মিশনের শিক্ষার্থীরা উল্লেখযোগ্য ফলাফল করেছে।
প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী—
- ২৭ জন শিক্ষার্থী ৬০০-এর বেশি নম্বর পেয়ে AIR 10136-এর মধ্যে স্থান অর্জন করেছে।
- ৮৭ জন ৫৮০-এর বেশি নম্বর পেয়ে AIR 18224-এর মধ্যে রয়েছে।
- ১৯০ জন ৫৬০-এর বেশি নম্বর নিয়ে AIR 29755-এর মধ্যে স্থান পেয়েছে।
- ৩৪২ জন ৫৪০-এর বেশি নম্বর অর্জন করে AIR 46225-এর মধ্যে রয়েছে।
এবারের পরীক্ষায় মোশিউর রহমান ৬৪৫ নম্বর পেয়ে AIR 1805, মুদাস্সিরুল ইসলাম ৬৪১ নম্বর পেয়ে AIR 2147, এবং সাকিল দফাদার ৬৩০ নম্বর নিয়ে AIR 3498 অর্জন করেছেন। এছাড়াও মাসুম ইকবাল, নওয়াজ মুনতাসির, মাহামুদুর রহমান, মনসুর আলম, ফারহানা সিদ্দিকা, সৈয়দ এম. রহমান ও এস.কে. জাহিদ মাহমুদ অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্কিংয়ের প্রথম ৬,২০০-র মধ্যে স্থান পেয়েছেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে ধারাবাহিক কৃতিত্ব
শুধু মেডিকেল বা ইঞ্জিনিয়ারিং প্রবেশিকা নয়, WBBSE এবং CBSE-এর মাধ্যমিক পরীক্ষাতেও আল-আমীন মিশনের সাফল্য উল্লেখযোগ্য।
প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী—
- ২০১৮ সালে ২৮১ জন শিক্ষার্থী ৯০ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়েছিল।
- ২০২০ সালে ৪৮২ জন ৯০ শতাংশের বেশি নম্বর অর্জন করে, সর্বোচ্চ নম্বর ছিল ৯৮ শতাংশ।
- ২০২৪ সালে ৮৭৮ জন এবং
- ২০২৫ সালে ৯১৯ জন শিক্ষার্থী ৯০ শতাংশের বেশি নম্বর অর্জন করেছে।
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বিজ্ঞান, কলা ও বাণিজ্য—তিনটি বিভাগেই শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে ৯০ শতাংশের বেশি নম্বর অর্জন করছে। ২০২০ সালে বিজ্ঞান বিভাগে সর্বোচ্চ নম্বর ছিল ৯৯.৬ শতাংশ।
সামাজিক দায়বদ্ধতার শিক্ষামডেল
আল-আমীন মিশনের বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে রয়েছে—
- দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক সুবিধা, খাবার ও শিক্ষাসামগ্রী প্রদান।
- নবম শ্রেণি থেকেই NEET, WBJEE ও IIT-JEE-এর বিশেষ প্রশিক্ষণ।
- শৃঙ্খলা, নৈতিক শিক্ষা ও চরিত্র গঠনের ওপর সমান গুরুত্ব।
- রাজ্যজুড়ে বিস্তৃত শিক্ষা নেটওয়ার্ক।
- প্রতিষ্ঠানের দাবি অনুযায়ী, প্রতি বছর ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ৩৫ শতাংশেরও বেশি অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ও BPL পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।
শিক্ষার মাধ্যমে স্বপ্নপূরণের ঠিকানা
আল-আমীন মিশন আজ শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের অসংখ্য মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণের একটি সফল উদ্যোগে পরিণত হয়েছে। সরকারি মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ধারাবাহিক সাফল্যের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে।



(দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত পরিসংখ্যান ও তথ্য আল-আমীন মিশনের প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে।)

















