গড়িয়ার INTUC কার্যালয়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ, বিজেপির রাজ্য সভাপতির হস্তক্ষেপ দাবি
By Akash Jeebak
কলকাতা, ২৬ আগস্ট ২০২৬: দক্ষিণ ২৪ পরগনার গড়িয়ায় ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস (INTUC)-এর একটি কার্যালয়কে ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধের অভিযোগ উঠেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, স্থানীয় বিজেপির সঙ্গে যোগ থাকার দাবি করা কয়েকজন ব্যক্তি তাদের কার্যালয়ের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ এবং সংগঠনের কর্মীদের হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
২২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে লেখা একটি চিঠিতে গড়িয়া-সোনারপুর জোনাল কমিটি বিষয়টি বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কাছে জানিয়ে হস্তক্ষেপের আবেদন করেছে।
চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, গড়িয়া রেলস্টেশনের সংলগ্ন কৃষ্ণ মজদুর বাজার এলাকার একটি কার্যালয় দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে INTUC ও কংগ্রেসের সাংগঠনিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। সংগঠনের দাবি, স্থানীয় শ্রমিক এবং আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনে ওই কার্যালয় থেকে কাজ করা হতো।
২০১১ সালে কার্যালয় দখলের অভিযোগ
INTUC-এর চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, ২০১১ সালে কয়েকজন ব্যক্তি জোরপূর্বক ওই কার্যালয় দখল করে নেন। সেই সময় স্থানীয় নেতৃত্ব ও সংগঠনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানানো হলেও কোনও কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
পরবর্তীতে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর গত ৪ মে ২০২৬ তারিখে সংগঠনের পক্ষ থেকে কার্যালয়টি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরদিন, ৫ মে থেকে কার্যালয়টি সংস্কার ও পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।
সংগঠনের বক্তব্য অনুযায়ী, কার্যালয়ের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সংগঠনের সদস্যদের কাছ থেকেই অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল।
স্বাধীনতা দিবসের পতাকা উত্তোলন নিয়েও অভিযোগ
চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ১২ আগস্ট প্রায় ৩০ জন যুবক একটি গাড়িতে করে সেখানে এসে কার্যালয়ের সামনে বা সংলগ্ন বাজার এলাকায় কোনও পতাকা লাগানো যাবে না বলে হুমকি দেন।
সংগঠনের কর্মীরা এ বিষয়ে প্রশ্ন তুললে ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের অধিকার নিয়েও আপত্তি তোলা হয় বলে অভিযোগ।
INTUC-এর অভিযোগ, ওই ব্যক্তিরা পুলিশে অভিযোগ জানালে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলেও হুমকি দিয়েছিলেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছেও বিষয়টি জানানো হয়েছিল বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, স্থানীয় বিধায়কের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি জানানো সম্ভব হয়নি।
বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের কাছে হস্তক্ষেপের আবেদন
পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি সংগঠনের রাজ্য নেতৃত্বের কাছে জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, রাজ্য INTUC সভাপতি স্থানীয় নেতৃত্বকে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের কাছে বিষয়টি লিখিতভাবে জানানোর নির্দেশ দেন।
INTUC-এর অভিযোগ, কয়েকজন দলত্যাগী, বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি এবং বহিরাগতদের মাধ্যমে কার্যালয়ের কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে এই অভিযোগগুলি INTUC-এর চিঠিতে উত্থাপিত দাবি; সরবরাহ করা নথির ভিত্তিতে এগুলি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সংগঠনের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলির নিজ নিজ কর্মসূচি পরিচালনার পাশাপাশি এলাকায় শান্তি ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
বিজেপির রাজ্য সভাপতিকে পৃথক চিঠি
এর পরদিন, ২৩ আগস্ট ২০২৬, INTUC পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি এম. কামরুজ্জামান কামার বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে পৃথক একটি চিঠি দেন।
চিঠির সঙ্গে আগের অভিযোগপত্রটি সংযুক্ত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে, কিছু ব্যক্তি নিজেদের স্থানীয় বিজেপি নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে INTUC-কংগ্রেসের কার্যালয়ের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করছেন এবং স্থানীয় কংগ্রেস ও INTUC নেতাদের কার্যালয় থেকে সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন।
INTUC-এর পক্ষ থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতির কাছে উপযুক্ত ও কার্যকর পদক্ষেপের আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে সংগঠনটি ভয় বা বাধা ছাড়াই তার সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে।
এই চিঠিপত্র থেকে স্পষ্ট যে, গড়িয়ার কার্যালয়কে ঘিরে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে INTUC নেতৃত্ব বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ চাইছে।
তবে সরবরাহ করা নথিতে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব বা অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কোনও প্রতিক্রিয়া নেই। ফলে অভিযোগগুলির সত্যতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাচ্ছে না।

— IBG NEWS

















