
পূর্ব রেল ‘স্বচ্ছতা হি সেবা ২০২৬’-এর অধীনে সার্কুলার ইকোনমি ও দায়িত্বশীল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে
কলকাতা, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬:
পরিবেশগত স্থায়িত্বের লক্ষ্যে এক বড় পদক্ষেপে, পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার শ্রীমতী গীতিকা পাণ্ডে-র নেতৃত্বে চলমান ‘স্বচ্ছতা হি সেবা ২০২৬’ অভিযানের (১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর, ২০২৬) অংশ হিসেবে পুরো নেটওয়ার্ক জুড়ে পরিবেশ-বান্ধব উদ্যোগ আরও জোরদার করা হয়েছে। হাওড়া, শিয়ালদহ, মালদা এবং আসানসোল বিভাগে বৈজ্ঞানিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সম্পদ পুনরুদ্ধারের ওপর জোর দিয়ে রেলওয়ে অঞ্চলটি বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরিত করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
হাওড়া, শিয়ালদহ এবং মালদা বিভাগে প্ল্যাটফর্ম ও রেল চত্বর থেকে সংগৃহীত প্লাস্টিক বর্জ্য যাতে বৈজ্ঞানিক উপায়ে প্রক্রিয়াজাত করা যায়, সে জন্য ‘প্লাস্টিক রিসাইক্লিং মেলা’-র মাধ্যমে স্টেশন বিক্রেতা ও ক্যান্টিনের মতো বৃহৎ বর্জ্য উৎপাদনকারীদের সরাসরি অনুমোদিত পুনর্ব্যবহারকারীদের (রিসাইকলার) সাথে যুক্ত করা হচ্ছে। হাওড়া ও শিয়ালদহে ‘কবাড় সে জুগাড়’ ও ‘কবাড় সে কলা’ উদ্যোগের অধীনে পুরোনো সিগন্যালিং সরঞ্জাম, কোচের অংশ এবং মেটাল স্ক্র্যাপের মতো বাতিল রেল বর্জ্যকে আকর্ষণীয় শিল্পকর্ম ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য সামগ্রীতে রূপান্তরিত করে স্টেশন, কলোনি ও ওয়ার্কশপে প্রদর্শিত করা হচ্ছে।


অভিযানের ১৩তম দিনে (২৯.০৯.২০২৬), আসানসোল বিভাগ আসানসোল (০২টি), দুর্গাপুর (০২টি), জসীডিহ (০২টি) এবং দুমকা (০২টি) স্টেশনে মোট ০৮টি প্লাস্টিক রিসাইক্লিং মেলা আয়োজন করে। এই কর্মসূচিতে বিক্রেতা ও স্টল চালকদের নিজ নিজ এলাকা পরিষ্কার রাখতে এবং যাত্রীদের ডাস্টবিন ও প্লাস্টিক বোতল ক্রাশিং মেশিন (PBCM) ব্যবহার করতে উৎসাহিত করার পরমর্শ দেওয়া হয়।

মালদা বিভাগে “স্বচ্ছতা সে সমৃদ্ধি” বার্তা প্রচারে ব্যাপক সচেতনতামূলক অভিযান চালানো হয়। এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হাউসকেপিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এবং গ্রীন জেন কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে মালদা টাউন স্টেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বর্জ্য পৃথকীকরণ, স্যানিটারি বর্জ্য নিরাপদ প্যাকেটজাতকরণ এবং বিপজ্জনক বর্জ্য সঠিক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কর্মীদের চারটি আলাদা রঙের ডাস্টবিন ব্যবহারের নিয়ম বোঝানো হয়: ভেজা পচনশীল বর্জ্যের জন্য সবুজ ডাস্টবিন; শুকনো পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্যের (পিইটি বোতল, কাগজ, ক্যান) জন্য নীল ডাস্টবিন; স্যানিটারি বর্জ্যের জন্য লাল ডাস্টবিন; এবং বিপজ্জনক বর্জ্যের (ব্যাটারি, ই-বর্জ্য, ভাঙা কাঁচ) জন্য কালো ডাস্টবিন।
এই উদ্যোগের সাফল্য তুলে ধরে পূর্ব রেলের চিফ পাবলিক রিলেশনস অফিসার শ্রী শিবরাম মাঝী বলেন, “পূর্ব রেল বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করতে এবং যাত্রীদের জন্য একটি পরিষ্কার ও সবুজ পরিবেশ তৈরিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। বৈজ্ঞানিক রিসাইক্লিং, পদ্ধতিগত বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং স্ক্র্যাপের সৃজনশীল ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা একটি বর্জ্যমুক্ত ও পরিবেশ-বান্ধব রেল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সচেষ্ট।”


















