‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি নৈহাটির বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের
স্বাধীনতা দিবসে কংগ্রেসের সদর দফতরের ঘটনার উল্লেখ করে আপত্তি; জাতীয় আবেগের প্রতি সম্মান ও ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন
Suman Munshi | IBG NEWS
নৈহাটি, ১৬ আগস্ট ২০২৬: ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রেক্ষিতে কংগ্রেসের প্রবীণ নেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি লিখলেন নৈহাটির বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়। ১৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে লেখা ওই চিঠিতে তিনি বন্দে মাতরম-এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে কংগ্রেসের সদর দফতরে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে গানটির পরিবেশন ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।
চিঠিতে সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় নিজেকে সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের উত্তরসূরি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বন্দে মাতরম কেবল একটি গান নয়; ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস ও জাতীয় চেতনার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি প্রতীক। তিনি অভিযোগ করেন, গানটির পূর্ণাঙ্গ পরিবেশনের সময় সোনিয়া গান্ধীর শারীরিক ভাষা ও দৃশ্যমান অস্বস্তি তাঁকে ব্যথিত করেছে।
স্বাধীনতা আন্দোলনে ‘বন্দে মাতরম’-এর ভূমিকার উল্লেখ
চিঠিতে সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় বন্দে মাতরম-এর ঐতিহাসিক যাত্রার বিভিন্ন অধ্যায়ের উল্লেখ করেছেন। তিনি স্মরণ করিয়েছেন, ১৮৮৬ সালের জাতীয় কংগ্রেসের কলকাতা অধিবেশনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গানটি পরিবেশন করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য, পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতা আন্দোলনে গানটি দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিপিনচন্দ্র পাল-সহ জাতীয়তাবাদী নেতাদের বক্তব্য ও স্বাধীনতা সংগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ে বন্দে মাতরম কীভাবে মানুষের মধ্যে দেশাত্মবোধ জাগিয়ে তুলেছিল। লেখক ক্ষুদিরাম বসু-সহ বহু বিপ্লবীর আত্মত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে গানটির সঙ্গে স্বাধীনতা সংগ্রামের আবেগগত সম্পর্ক তুলে ধরেছেন।
কংগ্রেসের ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর চিঠিতে কংগ্রেসের অতীত ইতিহাসেরও উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, একসময় কংগ্রেসের বিভিন্ন অধিবেশন ও জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে বন্দে মাতরম গভীরভাবে যুক্ত ছিল। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বর্তমান সময়ে গানটি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের সঙ্গে কংগ্রেসের ঐতিহ্যগত অবস্থানের তুলনা টেনেছেন।
চিঠিতে তিনি আরও প্রশ্ন তুলেছেন, বন্দে মাতরম-কে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাঁর মতে, এটি দেশের সম্মিলিত স্মৃতি, স্বাধীনতার ইতিহাস এবং জাতীয় আবেগের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।
‘জাতীয় আবেগকে সম্মান করুন’
চিঠির শেষাংশে সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় সোনিয়া গান্ধীর কাছে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, একজন ভারতীয় নাগরিক এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের উত্তরসূরি হিসেবে এই ঘটনায় তিনি গভীরভাবে ব্যথিত।
তিনি তাঁর চিঠিতে সংশ্লিষ্ট ঘটনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন জানান এবং ইতিহাস ও স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত প্রতীকগুলির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান।
চিঠির শেষে তিনি “বন্দে মাতরম” লিখে বক্তব্য শেষ করেছেন। চিঠিটির তারিখ ১৫ আগস্ট ২০২৬ এবং এটি সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরিত।
রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা
বন্দে মাতরম নিয়ে এই চিঠি স্বাধীনতা দিবসের আবহে জাতীয় সংগীত-জাতীয় গানের ঐতিহাসিক ভূমিকা, রাজনৈতিক দলগুলির অবস্থান এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের স্মৃতির প্রতি সম্মান—এই তিনটি বিষয়কে ফের আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের ঘোষিত ১৬ আগস্টের সাংবাদিক বৈঠকে এই চিঠির বিষয়বস্তু এবং তাঁর আপত্তির বিষয়ে আরও বিস্তারিত বক্তব্য সামনে আসতে পারে।
চিঠির বক্তব্যগুলি IBG NEWS-এর কাছে থাকা নথির ভিত্তিতে উপস্থাপিত; অভিযোগ ও রাজনৈতিক মতামত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে।



















