পশ্চিমবঙ্গে কলেজ শিক্ষাক্ষেত্রে কি মধ্য মেধার অধিকারীরাই শেষ পর্যন্ত জিতল?

0
557
Books - Friend for Life
Books - Friend for Life

পশ্চিমবঙ্গে কলেজ শিক্ষাক্ষেত্রে কি মধ্য মেধার অধিকারীরাই শেষ পর্যন্ত জিতল?

বাংলার কারিগরি ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার গৌরব অনেক দিনই অস্তাচলের সূর্য্য । হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বাদে সকল ক্ষেত্রেই নিম্নগতি যেন অনিবার্য পরিণতি । যার ফলে সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে বাংলার সেই শিক্ষা ও সংস্কৃতির সোনালী দিন গত । এর কারণ অনুসন্ধান করলে প্রথমেই যে বিষয় এগিয়ে আসে তাহলো অযোগ্যের শিক্ষক আসনে আলো করে বসা ।মধ্য মেধার মানুষজন খুঁটির জোরে বা নোটের জোরে পেয়ে যাচ্ছে চাকরী ।

যেকোনো বিষয়ে ডক্টরাল রিসার্চ সঠিক ভাবে করলে তার মেধা সম্পর্কে ওই বিষয়ে অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া যায়, কিন্তু এবারের কলেজ সার্ভিস কমিশন ২০২০ এর লিস্ট পর্যালোচনা করলে দেখা যায় এক গভীর দৈন্যের চিত্র । শুধু ভূগোলের দিকে তাকালে বোঝা যায় রাজনৈতিক ক্ষয়কার্য্য কতটা প্রবল।

পিএইচডি করা মাত্র ৮ জন ভূগোল বিষয়ে উত্তীর্ণ যেখানে কয়েক ডজন পিএইচডি ইন্টারভিউ দিলেন । সাধারণত পিএইচডি থাকলে নম্বর অতিরিক্ত পাওয়া যায় ইন্টারভিউতে, তবে কি এমন খারাপ হলো যে পিএইচডি করারা লিস্টের শেষের দিকে বা নামই এলোনা লিস্টে ? তবে কি তাঁদের পিএইচডি যোগ্যতার কোনো দাম নেই ?নাকি কোনো অদৃশ্য শক্তি লিস্টের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করলো ;যেখানে মেধা ছাড়া উপঢৌকন বেশি কাজ করলো ?

এ এক গভীর দুর্দিনের মধ্য গগন বাংলার, যা বাম আমল পাড় করে বর্তমান শাসকের সময়ও কি একই রকম স্বজন পোষণের রোগে আক্রান্ত । যদি সত্যি পিএইচডি করা দের থেকে অন্যরা অধিক যোগ্য হন তবে কিছু বলার নেই , কিন্তু বাস্তব বলে পিএইচডি করেও যদি বঞ্চিত হতে হয়, তবে ছাত্ররা কিসের জন্য পিএইচডি করবেন । আর তার পরিণতি কি হবে ভবিষৎ শিক্ষকের নিয়োগের ক্ষেত্রে অযোগ্য লোকেদের ভিড় ।

আপাত দৃষ্টিতে কোনো গোলমাল হয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রফেসর ও কলেজ কর্মী । কারণ হিসাবে তাঁদের দাবি যারা দীর্ঘ দিন চুক্তিভিত্তিক বা পার্শ্ব শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করলো তাদের এক অংশ বঞ্চিত রইলো অজানা কারণে । অনেক কম অভিজ্ঞতা বা বিনা অভিজ্ঞতার প্রার্থীরাও নির্বাচিত হলেন অজানা জাদু কাঁঠির ছোঁয়ায় । প্রশাসনের কাছে অনুরোধ বিষয়টি কে গুরুত্ব দিয়ে বিচার করুন ।

একটি ব্যাপক দুর্নীতির গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে আর তা না হলে তদন্ত হোক সেই সব পিএইচডি দানকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের গুণগত ম্যান নিয়ে ।

মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ স্বপ্নের বাংলা গড়তে হলে আবার শিক্ষায় শ্রেষ্ঠ হতে হবে, আর তা হতে হলে প্রকৃত মেধা কে আনতে হবে সর্বস্তরে । দোয়া করে অসহায় যোগ্য মানুষদের পাশে দাঁড়ান আর কোনো দুর্নীতি হয়ে থাকলে শক্ত হাতে দমন করুন । আপনার স্বচ্ছ প্রশাসনের ছবি আরো উজ্জ্বল করুন ।

চলতি প্রবাদে গাধা পিটিয়ে ঘোড়া করা যায় ,কিন্তু গাধা দিয়ে ঘোড়া বানানো কি সম্ভব ?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here