Saturday, September 19, 2026
WA
Home Bangla ভোটের “বঙ্গ”, কোতো না রঙ্গ

ভোটের “বঙ্গ”, কোতো না রঙ্গ

0
31
Public and Politics
Public and Politics

ভোটের “বঙ্গ”, কোতো না রঙ্গ

সুনন্দ মিত্র

বাজার গরম সামনে ভোট,
দেখবে বঙ্গ, কতো না রঙ্গ,
বাঁধাবে সবাই কতো না ঘোঁট।

হ্যাঁ, আগামী মাস সাত আটেক, পশ্চিমবঙ্গে ক্যাওড়া ক্যাচালের শেষ থাকবে না। হয়ত ভাবছেন এ আবার কেমন ভাষা! ন্যাকা! যেগুলো হচ্ছে, আগামী দিনে আরও হবে সেগুলো কি খুবই শোভন, খুবই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন সভ্য সমাজের অনুকূল সামাজিক কাজ, যে ভাষা কারণে অকারণে ব্যবহার হয় বা হবে তা কি খুবই শ্লীল? সাংবাদিকতা my foot। সাংবাদ কি? কাকে বলে? কিছু scripted script এর রম্য পরিবেশন ছাড়া তো আর কিছু নয়! একদিক থেকে দেখতে গেলে সংবাদ মাধ্যম আর বিচার ব্যবস্থা একই সুতোয় বাঁধা। সংবাদের নামে এক চূড়ান্ত melodrama আর বিচারের নামে প্রহসন। যাক গে যাক, যে যা পারে করুক। ইতিমধ্যেই ভোটের ঢাকে কাঠি পড়ে গেছে আর সেই ঢাকের বোলে কি বোল ফুটছে সেটাই শোনার চেষ্টা করা ভালো। রাজনৈতিক সাংগঠনিক ভিত্তিতে কাদের সম্ভাবনা সব থেকে বেশি, আগামী পাঁচ বছর কারা পেতে পারে মসনদের দখল, বা দাদাগিরি করার ইজারা সেই বিষয়ে বিশ্লেষণ করে দেখা যাক কারা এগিয়ে এবং কেন?

পশ্চিমবঙ্গে ভোট যুদ্ধ হবে মূলত চারটে দলের মধ্যে। এই চারটে দলের মধ্যে, আগামী পাঁচ বছর রাজত্ব করার lease এর ছাড়পত্র পেতে পারে কোন দল? তো এই লুটে খাওয়ার ছাড়পত্র পেতে তো লুটমার হবেই, তাই নয় কি? Its literally a huge tender, আর সেই দরপত্র হাসিল করতে কিছু তো ক্ষমতা প্রদর্শন হবেই, সাথে চলবে ভাওতাবাজি, ভাট বকা, খিস্তি খেউড়, ধর্ষণ, খুন জখমের মত ছোট ঘটনা ঘটবেই। সেনোরিটা बड़ी बड़ी देशों में ऐसी छोटी छोटी बात तो होती ही रहती है!

প্রথমেই আসি কংগ্রেস: তাদের অস্তিত্ব আর বিশ্বাস এক্কেরে তলানিতে। প্রথম প্রশ্ন (১) তাদের সদিচ্ছা, (২) কারণ তারা কেন্দ্রীয় পরিচালন সমিতির মুখাপেক্ষী, (৩) রাজ্য চাইলেও কেন্দ্র রাজ্য কংগ্রেসকে কতটা ছাড় দেবে সে নিয়ে সংশয় আছে। (৪) কারণ এ রাজ্যে পাকাপোক্ত ভাবে কংগ্রেস বিদায় নেওয়ার পর কি তারা ক্ষমতা ফিরে পেতে সেই সদিচ্ছা দেখিয়েছে? কারণ ৬৮-৭৭ এই সময়ে কংগ্রেস, কি রাজ্য বা কি কেন্দ্র দুটো জায়গাতেই অত্যন্ত কুসল ও শক্ত নেতৃত্বের হাতে ছিল। কেন্দ্রে শ্রীমতি গান্ধী, আর রাজ্যে কাকে ছেড়ে কাকে ধরবেন? সিদ্ধার্থ শংকর রায়, গোনিখান চৌধুরী, প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সি, সুব্রত মুখার্জি, সোমেন মিত্র এবং আরও অনেকে, শুধু কি তাই! Next generation ও তৈরি, মমতা ব্যানার্জি, সুব্রত বক্সি, আকবর দা, মান্নান দা, আরও অনেকে। তাহলে সমস্যাটা কি দাঁড়ালো? নেতৃত্বের, সাথে অধির চৌধুরীর মত মাঠ কাপানো ডাকাবুকো নেতা। তার মানে তারা রাজত্ব নয়, ভাগচাষির মত একটা ভাগের বিনিময়ে রাজ্যপাট অনেক আগেই ছেড়ে দিয়েছিল, নির্দিষ্ট অনুদানের ভিত্তিতে। (৫) নাহলে ৭০-৭১ যত কংগ্রেসী নেতা খুন হয়েছে তার একটারও প্রতিবাদ করেছে, সাঁইবাড়ি হত্যা কান্ড, পীযূষ চন্দ্র ঘোষের খুন, নিজেদের দলের কর্মী সমর্থকদের এরম বহু খুনের যারা প্রতিবাদ না করে, উল্টে সেই খুনিদের সাথেই একাসনে আহার করে তাদের মানুষ বিশ্বাস করবে তো? (৬) এ কথা তো সবাই জানেন, কেন মমতা ব্যানার্জি দল ছেড়েছিলেন? যাদের দলের লোকেরাই তাদের বিশ্বাস করে না, সাধারণ মানুষ কি এতো বোকা? (৭) কথায় আর কাজে একেবারে ভিন্ন মেরুতে, নাহলে যে বামফ্রন্টের সাথে তাদের লড়াই, তাদের সাথেই সমঝোতা? মুখে বলছে ধর্ম নিরপেক্ষ কিন্তু চরম সাম্প্রদায়িক আব্বাস সিদ্দিকীর মত লোকের সাথে একই মঞ্চ ভাগ! আরও অনেক ত্রুটি বিচ্যুতি আছে, সব তুলে ধরতে গেলে লেখাটা সম্পূর্ণ হবে না, তাই যা দিয়েছি, যতটুকু দিয়েছি enough sufficient।

দ্বিতীয় বামফ্রন্ট তথা সবকটা বাম মনষ্ক দল: ৩৪বছর রাজ্যবাসী অকুণ্ঠ আশীর্বাদ ভালোবাসা দিয়েছিল, ফেরত কি পেয়েছে? খুন, জখম, রাহাজানি, ধর্ষণ, বিভিন্ন চিটফান্ড কেলেংকারী, এমন কি এই সারদা, রোজভ্যালিও কিন্ত বাম জমানারই ফসল। ঘটি বাঙাল এর দলাদলি, সংখ্যালঘু তোষণ, জঙ্গি ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন, বন্ধ, হরতাল, অরাজকতা, শিক্ষা ও শিল্পের সর্বনাশ। আর নারীঘটিত কেচ্ছা কেলেংকারী না হয় বাদই দিলাম। জ্যোতির আমলে জ্যোতির অভাব, লোডশেডিং কি ভুলে গেছেন? পক্ষপাতিত্বের বঞ্চনা কি ভূমিপুত্ররা সহজে ভুলবে? যার শীল যার নোড়া তারই ভাঙ্গি দাঁতের গোড়া। তাই ভূমিপুত্রদের ভোট বামফ্রন্ট তেমন পায়নি কখনও, আর সংখ্যালঘু ভোট? তারা নিজেদের ফায়দা বোঝে, জানে বামফ্রন্টের কাছে তাদের এইমুহুর্তে কিছু পাওয়ার নেই, আর তাদের ঘরের ভোট? আমাগো বাংলাদ্যাসি, তারা তো সব থেকে ক্ষিপ্ত, মরিচ ঝাঁপি থেকে শুরু করে বহু বাংলাদেশী উদ্বাস্তুর সর্বনাশের কারণ তারা বামফ্রন্টকেই মনে করে।

এবার আসি তৃতীয়, বা এই মুহূর্তে বঙ্গ রাজনীতির black horse 🐎 BJPর প্রসঙ্গে, সব আছে কিন্তু কিছু নেই। ওই সবে ধণ নীলমণি শুভেন্দু অধিকারী (বঙ্গ বিজেপির ক্ষেত্রে) একা কুম্ভ দিয়ে কি আর গড় জয় করা যাবে? কেন্দ্রীয় বিজেপি কার্পন্য করেনা, এবারেও উদার হস্ত হবে, কিন্তু লাভ কি? এ প্রসঙ্গে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ “তথাগত রায় মহাশয়ের” উক্তি “২০২১ এর পুনরাবৃত্তি হবে না তো, এবারও?” খুব একটা ভুল বলেননি, কারণ বঙ্গ বিজেপির তালেবর নেতাদের পদস্খলন খুব একটা আশ্চর্যের নয়। বিজেপির অন্দরে কিন্তু টিএমসির যথেষ্ট আধিপত্য আছে। এ প্রসঙ্গে কল্যাণ ব্যানার্জীর কথাটাও কিন্তু যথেষ্ট ইঙ্গিতপূর্ণ। বিজেপির অন্দরে যতদিন টিএমসির লোক আছে টিএমসিকে হারানো সম্ভব নয়। টিএমসি থেকে সুন্দরীদের ঢল নামলো বলে, আর বিজেপি নেতারা হামলে পড়লো বলে। বাইরে থেকে লোক এনে এখানে ভোটে জেতা যথেষ্ট শক্ত। কারণ সেই নেতারা পশ্চিমবঙ্গের সেন্টিমেন্টের সাথে পরিচিত নয়, তারপর প্রায় ৬০% কি একটু কম বেশি বাম-মনষ্ক। বাইরে থেকে আসা নেতারা ভরসা করবে লোকাল নেতার ওপর, আর সেই নেতা যে কোন দলের সেটা বোঝা যথেষ্ট কঠিন। তারপর অপরদিকে তুখোড় রাজনৈতিক বুদ্ধি ও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন প্রতিপক্ষ। তাই নামে ভারে প্রধান বিরোধী হলেও আদতে তো,,,,, হ্যাঁ প্রতিষ্ঠান বিরোধী ভোট বিজেপি পাবে সেটা ওই ৩৮-৩৯% কিন্ত সিংহাসনের ইজারা পেতে যে কম করেও আরও ৫%জন সমর্থন অবশ্যই প্রয়জন। খেলাটা সেই খানেই। বিজেপি যা সুযোগ পাচ্ছে, এটাই যদি বিরোধী হিসাবে মমতা ব্যানার্জি পেতেন তাহলে ঘুম উবে যেতো সরকার পক্ষের। আন্দোলন কি জিনিস, কাকে বলে দেখিয়ে দিতেন।

সব শেষে টিএমসি, অভিযোগে অভিযোগে জেরবার, কিন্তু সব কিছুই খুব মসৃণ ভাবে সামলে চলেছে টিএমসি নেতৃত্বে বা বলা ভালো মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী। বন্যাত্রান থেকে কার্নিভাল, সত্যিই একই এক’শ, ক্ষুরধার মস্তিষ্ক। তিনটে D এর oerfect combination “determination, dedication, descission”। যতই সমালোচনা করুক বিরোধীরা লক্ষীর ভান্ডার এক বিরাট সাফল্য তাদের। তারপর ব্যক্তি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত ক্যারিশমা তো আছেই।

ভোটের এখন অনেক দেরি তাই এতো তাড়াতাড়ি কিছু অনুমান না করাই ভালো, কারণ অনেক কিছু হবে ৭/৮মাস, তবে এই অবস্থা বজায় থাকলে বামেরা এবারও শূন্য হস্তে পূণ্য কামাবে, কংগ্রেস সান্তনা পুরস্কার স্বরূপ গোটা ৭/৮ সিট পেতে পারে একটু কম বেশি হতে পারে। বিজেপি ১০০-১১০(যদি না আবার সখী চলো চাঁদ দেখি করে), টিএমসি ১৮০-২০০। তবে আবারও বলছি this is not the final, কারণ এখনো অনেক permutation combination বাকি। কি কি চমক ভোটের বাজারে আসতে চলেছে তা যথেষ্টই চমকপ্রদ।

Author:

Mr. Sunanda Mitra, political analyst and social worker with 3 decades of active public works exposure with leading political formation.

****View expressed is author’s individual freedom of expression channel neither agree not disagree with the view.***

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Adblocker detected! Please consider reading this notice.

We've detected that you are using AdBlock Plus or some other adblocking software which is preventing the page from fully loading.

We don't have any banner, Flash, animation, obnoxious sound, or popup ad. We do not implement these annoying types of ads!

We need money to operate the site, and almost all of it comes from our online advertising.

Please add https://www.ibgnews.com to your ad blocking whitelist or disable your adblocking software.

×
Verified by MonsterInsights