লোকসভা নির্বাচনে নারী-শক্তির জয় জয়কার শুধু সময়ের অপেক্ষা – মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৪২ টি আসনের মধ্যে ১৭ জন মহিলাকে টিকিট দিয়েছেন

0
1167
CM Mamata Banerjee with Faruque Ahamed
CM Mamata Banerjee with Faruque Ahamed
0 0
Azadi Ka Amrit Mahoutsav

InterServer Web Hosting and VPS
Read Time:22 Minute, 29 Second

লোকসভা নির্বাচনে নারী-শক্তির জয় জয়কার শুধু সময়ের অপেক্ষা 

ফারুক আহমেদ

বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে নারী-শক্তির জয় জয়কার দেখে সবাই অবাক হয়েছিলেন। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৫০ শতাংশ সিটে মহিলা প্রার্থী দিয়েছিল তৃণমূল। এবার লোকসভা নির্বাচনে ৪১ শতাংশ সিটে মহিলা প্রার্থী দিয়ে সকলকেই টেক্কা দিল তৃণমূল দলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৪২ টি আসনের মধ্যে ১৭ জন মহিলাকে টিকিট দিয়েছেন তিনি। 

এবার লোকসভা নির্বাচনে যত সংখ্যক মহিলা প্রার্থী হয়েছেন তা একটা রেকর্ড। সর্বোপরি যেভাবে মহিলা প্রার্থীরা পঞ্চায়েত নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন তা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। 
এটা ভারতের ইতিহাসে একটা ঐতিহাসিক ঘটনা। 

লোকসভা নির্বাচনের পর ২৩ মে ফল বেরিয়ে গেলে তাতে দেখা যাবে বাংলা থেকে সব থেকে বেশি মহিলা সাংসদ লোকসভার সদস্য হয়েছেন।

আসন্ন সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে মালদা লোকসভা কেন্দ্রে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মৌসম বেনজির নূর, বশিরহাটে নুসরাত জাহান, যাদবপুরে মিমি চক্রবর্তী, আসানসোলে মুনমুন সেন, উলুবেড়িয়াতে সাজদা আহমেদ, কৃষ্ণনগরে মৌহা মৈত্র, পূর্ব বর্ধমানে মোমতাজ সংঘমিত্রা, আরামবাগে অপরূপা পোদ্দার, বনগাঁয় মমতা বালা ঠাকুর, বালুরঘাটে অর্পিতা ঘোষ, রানাঘাটে রূপালী বিশ্বাস, বারাসাতে কাকলি ঘোষ দোস্তিদার, বীরভূমে শতাব্দী রায়, মালা রায় সহ অন্যদের জয় প্রায় নিশ্চিত।

কাজী নজরুল ইসলাম সবসময়ই সমাজ প্রগতির লক্ষ্যে নারীর অবরোধ প্রথার বিলোপ এবং তাঁদের শিক্ষার আলোকে আলোকিত করাকে তাঁর লেখনিতে তুলে ধরেছেন গুরুত্ব দিয়ে।

কাজী নজরুল ইসলাম সমকালে নারী সমাজের মুক্তির লক্ষ্যে যারা একনিষ্ঠভাবে সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে অগ্রণী ছিলেন রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে কাজ করেছিলেন মিসেস এম রহমান, শামসুন্নাহার মাহমুদ, সুফিয়া কামাল সহ বেশ কয়েকজন নারী।

পুরুষতান্ত্রিক সমাজে কখনও কখনও মৌখিকভাবে নারী-পুরুষের সমানাধিকারের ব্যাপারটি স্বীকার করা হলেও বাস্তবক্ষেত্রে অবস্থাটা সহজেই অনুমেয়। তাই কাজী নজরুল ইসলাম-এর ’নারী’ কবিতায় লিখেছিলেন—-

‘সাম্যের গান গাই,

আমার চক্ষে পুরুষ রমণী কোন ভেদাভেদ নাই,

বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।’

আশার কথা যে, সামাজিক পরিবর্তনের পাশাপাশি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটেছে। একবিংশ শতাব্দীর এই দিনে নারী-পুরুষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর ভবিষ্যত গড়ে উঠছে, আর এখানেই কবির সার্থকতা প্রতীয়মান। নির্বাচনের ফলেও আমরা দেখবো নারী-শক্তির জয় জয়কার। বাংলার ইতিহাসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিশেষ জায়গা করে নিলেন, সমাজের কল্যাণে অফুরন্ত কাজ করে।

আর্দশ ভারত গড়তে বিজেপি হটিয়ে ৪২ টি আসনেই তৃণমূল জিততে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে। বাংলার মানুষ ইতিহাস তৈরি করে। তাই বিজেপির পতন সুনিশ্চিত করতে এবং বিভেদকামী শক্তির অবসান ঘটাতে আমরা আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে একটা ভোটও বিজেপিকে দেব না। এই হোক আমাদের দেশ রক্ষার শপথ।
দেশের মানুষের কল্যাণে  দলিত মুসলিমদের যৌথ উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মহামিছিল ও জনসভা সফল করতে তরুণ তুর্কী নেতারা বড় দায়িত্ব পালন করছেন। আর্দশ ভারত গড়তে বিজেপি হটিয়ে ৪২ টি আসনেই তৃণমূল জিততে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আমরা যদি এগিয়ে আসি।
এই মুহূর্তে বাংলার ও দেশের সবথেকে জনপ্রিয় নেত্রী হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
 
বাংলার লড়াকু নেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে দুই মেদিনীপুর, মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলা সহ বাংলার জেলায় জেলায় ভাল ফল করবে তৃণমূল।
এবার বাংলার ইতিহাসে নতুন ইতিহাস রচনা করে সব থেকে বেশি সিটে জয় পাবে তৃণমূল।  

৪২ টা আসনেই প্রচারে একটিই মুখ তিনি হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল দলের আসন বাড়াতে কর্মীরা দৃঢ় প্রতীজ্ঞ। এক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দুই শুভেন্দু অধিকারী ও তিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, চার ফিরহাদ হাকিমরা জোর কদমে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায়।

এবার পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ আছে। 

দলিত মুসলিমদেরই যৌথ উদ্যোগেই ঐতিহ্যময় ভারত গড়তে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আদি ভারতবাসীদের নিজেদের মধ্যে লড়িয়ে দিয়ে কারা ক্ষমতায় আছেন এতো বছর? ভাবুন একবার আর জেগে উঠুন। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করবেন না। ভাবুন একবার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বাবরী মসজিদ ভেগেছে বিভেদকামী শক্তি কি কারণে? স্রেফ বিভাজনের মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা তুলবে বলে। বহুজন সমাজের মানুষ ও মুসলিমদের সজাগ থাকতে হবে ধর্মীয় আবেগের জন্য কোনো ভুল পথে পরিচালিত হলে বিভেদকামী শক্তির উত্থান রোখা যাবে না। কোথায় কখনও উস্কানিমূলক বক্তব্য শুনে প্রভাবিত হবেন না। প্রভাবিত হলে চলবে না বরং বিভেদকামী শক্তির বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ হয়ে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের দেশ ভারতকে বিপদে চালিত করাদের হাত থেকে রক্ষা করুন। মনে রাখতে হবে দলিত ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নাগরিকদের ওপর যে চরম বৈষম্য ও বঞ্চিত করার চক্রান্ত চলছে তার প্রতিকার করতে হলে জোটবদ্ধ হতে হবে। আর বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দিতে হবে।

৭২ বছর পেরিয়ে গেছে দেশ স্বাধীন হয়েছে তবুও আদি ভারতবাসীর প্রকৃত কল্যাণে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা তেমন ভালো কাজ করতে পারেননি। 

নিজেদের মধ্যে আর মারামারি নয় কোনো বিবাদ থাকলে তা এড়িয়ে চলুন। একটু বিচার ও বিশ্লেষণ করুন কে বা কারা নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে এই বিবাদ ও বিভাজনের রাজনীতির উত্থান ঘটিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো ফায়দা লুটতে চাইছে কোন কৌশল অবলম্বন করে তা বুঝতে হবে। প্রতি নির্বাচনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকাতে কাদের নাম উঠে এসেছে? দেখা যায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মুসলিম ও বহুজন সমাজের দলিত মানুষদের নাম। দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যেন প্রতিযোগিতা চলছে কে কতটা বেশি দলিত ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নাগরিকদের ব্যবহার করতে পারবে এবং তাদের নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে সক্ষম হবে।

ভারতীয় ঐতিহ্যময় ইতিহাসকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে জোটবদ্ধ হয়ে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের বন্ধন সুদৃঢ় করতে হবে এবং হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে ঐক্যের বন্ধন সুদৃঢ় করতে হবে।

সকলেই অবগত আছেন বিভেদকামী শক্তি ভারতকে বিপদে চালিত করছে। তাই এখন আর কোনো বিভাজনের রাজনীতির উত্থানের পেছনে থাকলে চলবে না। বাংলার মমতাময়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের মানুষের কল্যাণে বড় কাজ করছেন। বাংলা ও দেশকে বাঁচাতে তাঁকেই প্রধানমন্ত্রী করার সুযোগ করে দিন। 

মোদী সরকারের পতন সুনিশ্চিত করতে হলে দলিত ও মুসলিমদের জোটবদ্ধ হয়ে লড়াই করতে হবে বিভেদকামী শক্তির বিরুদ্ধে এবং ভোটবক্সে তাঁর যোগ্য জবাব দিতে হবে।

২০১৯ লোকসভা ভোটে মোদী সরকারকে সরিয়ে প্রকৃত দেশ কল্যাণকারীদের হাতে দেশ চালানোর ভার তুলে দিতে হবে।

ধর্মনিরপেক্ষ সরকার উপহার দিতেই হবে। 
দেশবাসীকে শান্তিতে বাঁচার আকাশ দেওয়াই হোক আমাদের অগ্নিশপথ।

সম্প্রীতির পক্ষে, বিভাজনের বিরুদ্ধে এবং অস্তিত্ব রক্ষায় বিশিষ্টজনের সভা ও আলোচনার আয়োজন করতে হবে সর্বত্র। দলমত নির্বিশেষে সবাই এক হয়ে রুখে দিতে হবে বিভেদকামী সাম্প্রদায়িক শক্তিকে।

ভারতের আসমের ধাঁচে পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) কার্যকর করে অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়নের দাবি জানিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। তারা অবশ্য হিন্দু শরণার্থীদের বিতাড়নের কোনও প্রশ্ন নেই বলে জানিয়েছেন এবং তাদের নাগরিকত্ব দেয়ার পক্ষে সাফাই দিয়েছে।

সম্প্রতি সংগঠনটির রাজ্য কমিটির পক্ষ থেকে এনআরসি ছাড়াও ‘ঘর ওয়াপসি’, ‘লাভ জিহাদ’ ‘ল্যান্ড জিহাদ’ ইত্যাদি বিতর্কিত ইস্যুতে মাঠে নামার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। 
‘ঘর ওয়াপসি’ (বিভিন্ন কারণে যারা হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে অন্য ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন, তাদেরকে পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে আনা) বা ‘ঘরে ফেরানো কর্মসূচি’ রূপায়ণের জন্য দুর্গাবাহিনী ও বজরং দলের সদস্যদের নিয়ে একটি মঞ্চ গঠন করা। এর পাশাপাশি কাজে লাগানো মঠ-মন্দির ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোকে। তাদের অভিযোগ, এখানে হিন্দুদের দেবত্তর সম্পত্তি ও হিন্দুদের সম্পত্তি জোর করে দখল করে নেওয়া হচ্ছে এবং কম দামে কিনে নেওয়ার মধ্য দিয়ে ‘ল্যান্ড জিহাদ’ চলছে। অন্যদিকে, তারা কথিত ‘লাভ জিহাদ’ (হিন্দু নারীদের ভালবাসার ছলে ধর্মান্তরকরণ) রুখে দিতে মানুষজনকে বোঝাতে বাড়ি বাড়ি প্রচার করছে। এইসব বিভাজন করে ভারতের ও বাংলার সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারবে না বিজেপি ও আরএএস।

পশ্চিমবঙ্গে ওরা কখনও সফল হবে না। পশ্চিমবঙ্গে ওরা একবিন্দুও সফল হতে পারবে না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার জন্য ছোটখাট দাঙ্গার মধ্য দিয়ে মানুষকে বিভক্ত করার চক্রান্ত করেও ওরা চরমভাবেই বাংলায় ব্যর্থ হয়েছে। বিভাজনের রাজনীতি করে সম্প্রীতির বাংলায় কখনও সফল হবে না বিজেপি। বাংলার মানুষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখতে বদ্ধপরিকর। দেশের বৈধ নাগরিকদের অন্যায়ভাবে বিদেশি বানিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র রুখে দিতে দেশবাসী সোচ্চার হচ্ছেন, এটাই আশার আলো। আমরা আগে দেখেছি বিজেপি সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি দিয়ে বিভাজন করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চেয়েছে।

আসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি থেকে লাখ লাখ বৈধ নাগরিকদের নাম বাদ দেয়ার ষড়যন্ত্র কোন উদ্দেশ্যে তা আমরা বুঝতে পারছি। এভাবে আসম থেকে বাঙালি মুসলিম ও হিন্দুদের খেদিয়ে দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না কেন্দ্র ও অসম সরকার।

আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস ভারতকে ওরা ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ বানাতে পারবে না। ভারতের সংবিধান, ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান। সংবিধানকে কলঙ্কিত করার উদ্যোগ সুস্থ নাগরিকরা মেনে নেবেন না। মিশ্র সংস্কৃতিই আমাদের বৈভব। সম্প্রীতির দেশ ভারত।

ভারতীয় সংবিধানের অমর্যাদা প্রকৃত ভারতবাসীরা মেনে নিচ্ছে না। ভারতকে যারা অপবিত্র করছে তারা মানুষ নয়, মানুষ নামের অন্য কিছু। ভারত আমাদের মাতৃভূমি। যেভাবে ওরা বিদ্বেষ ছড়িয়ে দিচ্ছে তাতে ভারত গভীর সঙ্কটের মধ্য দিয়ে দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে অন্য দেশের থেকে।

 পশ্চিমবঙ্গে কোনোরকমভাবে ওরা দাঁত ফোটাতে না পেরে এখন একেকটা ইস্যু তোলার চেষ্টা করছে। এখানে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বদা সব ধর্ম, সব বর্ণের মানুষের পাশে থেকে কাজ করছেন। যেজন্য গোটা ভারতের বিরোধীশক্তি মমতা বন্দোপাধ্যায়কে প্রধানমন্ত্রী করতে চাইছেন। সেই ভয়ে  বিজেপি এখন পশ্চিমবঙ্গে আশান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। মহান ভারতকে ওরা আর কত নীচে নামাবে!  আশা করি ভারতবাসী লোকসভা নির্বাচনে যোগ্য জবাব দেবেন।

সামনে লোকসভা ভোটে দেশের সুনাগরিকরা বিজেপির পতন সুনিশ্চিত করবেন। 

বিজেপির পতন সুনিশ্চিত করতে পারবেন বিরোধী শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী ও অন্য সব বিরোধী শক্তি।

ভারতের সংবিধানে যে মৌলিক অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তা তুলে ধরার প্রয়াসে অনেক কিছু জানা যাবে। নিজেদের অধিকার সম্পর্কেও সচেতন হতে পারবো।

মৌলিক অধিকার

[Fundamental Rights of Indian Constitution]:

ভারতের সংবিধানের তৃতীয় অংশে ১২ থেকে ৩৫ নম্বর ধারায় ভারতের নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলি উল্লেখ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কোনো আইন ভারতের নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলি ক্ষুন্ন করতে পারে না। এই বৈশিষ্ট্য বিশ্বের খুব কম সংবিধানেই পরিলক্ষিত হয়। ভারতের সংবিধানের মৌলিক অধিকারগুলি লিখিত ভাবে স্বীকৃতিদানের ফলে নাগরিকদের ব্যক্তি স্বাধীনতার নিশ্চয়তা লাভ করেছে। এই অধিকারগুলির মাধ্যমে ভারতীয় নাগরিকদের ব্যক্তিত্বের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে। মূল ভারতীয় সংবিধানে সাত প্রকারের মৌলিক অধিকারের উল্লেখ থাকলেও ১৯৭৮ সালে ৪৪ তম সংশোধনীর দ্বারা সম্পত্তির অধিকারকে মৌলিক অধিকার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সরকার অধিকার ভাঙলে সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে তার প্রতিকার করা যায়।

বর্তমানে মৌলিক অধিকার ৬টি, নিম্নরূপ :

(১) সাম্যের অধিকার [Right to Equality] : জাতি, ধর্ম, বর্ণ, স্ত্রী, পুরুষ নির্বিশেষে প্রতি নাগরিকের সমান অধিকার।

(২) স্বাধীনতার অধিকার [Right to Freedom]: বাক ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা, ইউনিয়ন গঠন, দেশের সর্বত্র স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকার।

(৩) শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার [Right against Exploitation]: বিনা বেতনে বেগার খাটানো, মানুষ ক্রয় বিক্রয়, ১৪ বছরের কম বয়সের শিশুদের কারখানা বা খনির কাজে লাগানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

(৪) ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার [Right to Freedom of Religion]: কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ধর্মান্তরিত হতে পারেন এবং কোনো নাগরিককে বলপূর্বক ধর্মান্তরিত করা যাবে না। ব্যক্তির ইচ্ছে অনুযায়ী ধর্ম পালন করার অধিকার আছে।

(৫) সংস্কৃতি ও শিক্ষা বিষয়ক অধিকার [Cultural and Educational Rights]: নাগরিকদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও শিক্ষার অধিকার মৌলিক অধিকারের ভিতর ধরা হয়েছে।

(৬) সাংবিধানিক প্রতিকারের অধিকার [Right to constitutional remedies]:- কোনো নাগরিক উপরিউক্ত অধিকারগুলি বা কোনো একটি অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে, তিনি সুপ্রিম কোর্টে প্রতিকারের জন্য আবেদন করতে পারেন।

সংবিধানে নাগরিকদের কর্তব্যের কথাও বলা হয়েছে। যথা— সমাজের মঙ্গলের জন্য ক্ষুদ্র স্বার্থত্যাগ, আইন মেনে চলা, রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রভৃতি। সংবিধানের নির্দেশক নীতি দ্বারা জনকল্যাণমূলক নির্দেশক নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। অধুনা এই নির্দেশক নীতিকে বাধ্যতামূলক করার প্রবণতা সংবিধানে দেখা যায়। ভারতের সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকারগুলি অবাধ নয়। জাতির বৃহত্তর স্বার্থে অধিকারগুলির ওপর যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যেমন:
(১) রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটানো।
(২) আদালত অবমাননা।
(৩) অশালীনতা প্রভৃতি ঘটনা ঘটলে ভারতের নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলির উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা যায়।
(৪) বিশেষ পরিস্থিতিতে ভারতরাষ্ট্র তার নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলিকে সাময়িক ভাবে নিয়ন্ত্রিত বা খর্ব করতে পার।
(৫) দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হলে ভারতের নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলিকে খর্ব করা যায়।

বাংলার মানুষের কল্যাণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে আরও আন্তরিক হতে হবে। বাংলার সকল ধর্মের ও বর্ণের সচেতন মানুষ শান্তিময় জীবন অতিবাহিত করতে চান তাই বাংলাকে পবিত্র রাখতে তাঁরা বিভেদকামী শক্তিকে প্রতিহত করবেই। এটা আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। পুলিশ ও প্রশাসনে কোনও আধিকারিক বিভেদকামী শক্তির হাতে পরিচালিত হলে তাদেরকে চিহ্নিত করতে হবে। মোদির জামানার পতনের মধ্য দিয়ে দেশ আবার নতুন করে স্বাধীন হবে এই আশায় সাধারণ মানুষ।

ফারুক আহমেদ 
গবেষক, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যাল, ইতিহাস বিভাগ, নদীয়া।  

About Post Author

Suman Munshi

Founder Editor of IBG NEWS (15/Mar/2012- 09/Aug/2018). Recipient of Udar Akash Rokeya Shakhawat Hossain Award 2018. National Geographic & Canon Wild Clicks 2011 jury and public poll winner. Studied Post Graduate Advance Dip in Computer Sc., MBA IT,LIMS (USA & Australia), GxP(USA & UK),BA (Sociology) Dip in Journalism (Ireland), Diploma in Vedic Astrology, Numerology, Palmistry, Vastu Shastra & Feng Sui 25 years in the digital & IT industry with Global MNCs' worked & traveled in USA, UK, Europe, Singapore, Australia, Bangladesh & many other countries. Education and Training advance management and R&D Technology from India, USA, UK, Australia. Over 30 Certification from Global leaders in R&D and Education. Computer Science Teacher, IT & LIMS expert with a wide fan following in his community. General Secretary West Bengal State Committee of All Indian Reporter’s Association
Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
Advertisements

IBG NEWS Radio Services

Listen to IBG NEWS Radio Service today.


InterServer Web Hosting and VPS

Brilliantly

SAFE!

2022

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here