নরেন্দ্রপুর স্টেশন রোড: উন্নয়নের দাবির আড়ালে ভাঙাচোরা রাস্তা, বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা
স্থানীয়দের প্রশ্ন—প্রশাসনের নজর কবে পড়বে?
আকাশ জীবক | IBG NEWS
নরেন্দ্রপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা |
“এক ঋতু আসে, এক ঋতু যায়, মৌসুম বদলায়—কিন্তু বদলায় না ভাগ্য!”—এই কথাটিই যেন আজ বাস্তব চিত্র হয়ে উঠেছে নরেন্দ্রপুর স্টেশন রোডের বাসিন্দাদের জীবনে।
কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ নরেন্দ্রপুর স্টেশন রোড দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। গড়িয়া থেকে ইএম বাইপাস হয়ে নরেন্দ্রপুরের দূরত্ব যেখানে প্রায় ৯ কিলোমিটার, সেখানে নরেন্দ্রপুর স্টেশন রোড ব্যবহার করলে প্রায় ৪ কিলোমিটারেরও কম পথ অতিক্রম করা যায়। ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এবং অসংখ্য যানবাহন এই রাস্তার উপর নির্ভরশীল।
এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে পণ্যবাহী ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স, স্কুল পড়ুয়াদের গাড়ি, অফিসযাত্রীদের যানবাহন এবং সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের পরিবহণ। রাস্তার দুই পাশে রয়েছে চিকিৎসাকেন্দ্র, বিভিন্ন বিদ্যালয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, অসহায় মা ও শিশুদের জন্য হাসপাতাল ও আবাসনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা কেন্দ্র।
কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। বড় বড় গর্ত, ভাঙাচোরা অংশ এবং অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে প্রতিদিনই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, কারণ জল জমে গর্তগুলি চোখে পড়ে না, ফলে ছোট-বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বহুবার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ এখনও চোখে পড়েনি। তাঁদের মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথের দ্রুত সংস্কার এখন সময়ের দাবি।
নাগরিকদের একাংশের মত, উন্নয়নের মূল্যায়ন কেবল বড় বড় প্রকল্প দিয়ে হয় না; মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে নিরাপদ ও সহজ করে তোলার জন্য রাস্তা, পরিবহণ ও মৌলিক পরিকাঠামোর উন্নয়নও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয়দের বক্তব্য, গণপরিবহণ, জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে নরেন্দ্রপুর স্টেশন রোডের দ্রুত সংস্কার অত্যন্ত প্রয়োজন।
শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা একটাই—দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ দ্রুত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন, যাতে ভবিষ্যতে কোনও বড় দুর্ঘটনা এড়ানো যায় এবং এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটে।
— আকাশ জীবক, IBG NEWS




















